ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত ও গোপন ক্যাডারভিত্তিক’ রাজনীতি নিষিদ্ধ, হলের গেস্টরুম ও গণরুম প্রথার অবসান এবং শিক্ষার্থীদের মানবিক আবাসন নিশ্চিত করাসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানায় সংগঠনটি।
ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিদওয়ান মাযহারীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাআদ বিন জাকির এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র জমিয়তের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান তকি।
সংবাদ সম্মেলনে রিদওয়ান মাযহারী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো উদ্বেগজনক। দুটি সংগঠনের মধ্যকার বিবাদ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘ দেড় দশকের ভীতি ও অনিশ্চয়তা ফিরিয়ে আনার আশঙ্কা তৈরি করছে।
তিনি বলেন, ক্যাম্পাস কোনো সংগঠনের লাঠিয়াল বাহিনীর মহড়া দেওয়ার জায়গা নয়। আমরা পেশিশক্তির এই নোংরা প্রতিযোগিতাকে প্রত্যাখ্যান করছি।
রিদওয়ান মাযহারী আরও বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ শক্তি দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনকে পরাজিত করেছিল। কিন্তু সেই শক্তি আজ বিভক্তি ও সংঘাতের জালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে, যা অত্যন্ত পীড়াদায়ক।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ বা গোপন সাংগঠনিক কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর জাতি যখন একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখছে, তখন কিছু সংগঠনের গোপনে কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রশ্নের জন্ম দেয়। তিনি বলেন, ‘অস্তিত্ব রক্ষা’ বা ‘ভয়ের অজুহাত’ দেখিয়ে গুপ্ত রাজনীতি করা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র জমিয়ত চার দফা দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলো হলো:
১. ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে লিপ্ত সব পক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।
২. ‘গুপ্ত ও গোপন ক্যাডারভিত্তিক’ রাজনীতি চিরতরে নিষিদ্ধ করতে হবে; সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড উন্মুক্ত ও দৃশ্যমান হতে হবে।
৩. প্রতিটি হলের গেস্টরুম ও গণরুম প্রথার অবসান ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের মানবিক আবাসন নিশ্চিত করতে হবে।
৪. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে কোনো একক সংগঠনের ‘পেশিশক্তির চারণভূমি’ হতে দেওয়া যাবে না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সহসভাপতি নুর হোসাইন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম, সহসাধারণ সম্পাদক বায়জিদ আহমাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইনআমুল হাসান নাইম, প্রচার সম্পাদক আহমাদ আল গাজি, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্র জমিয়তের আহ্বায়ক আবুল হাসানাত মেহরাব, ঢাকা মহানগর পূর্বের সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম, পিরোজপুর জেলার আহ্বায়ক আহমাদ, মিনহাজুল ইসলাম।


















