ছোটবেলা থেকে গান, নাচ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আগ্রহী রংপুরের তরুণী নিশাত তাসনিম মাইশা। গান দিয়ে মিডিয়ায় পথচলা শুরু করে অভিনয় ও মডেলিংয়ে কাজ করছেন তিনি। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়েও এগিয়ে যাচ্ছেন।
নিশাত তাসনিম মাইশার জন্ম রংপুরে। তাঁর শিক্ষাজীবন কেটেছে লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে। পড়াশোনার পাশাপাশি গান, নাচ ও হামদ-নাতে অংশ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করেন তিনি। এসএসসিতে এ প্লাস এবং এইচএসসিতে এ গ্রেড পান।
ছোটবেলায় বড় বাবার কাছ থেকে উপহার পাওয়া হারমোনিয়াম তাঁর সংগীতচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংগীতশিক্ষক খাদিমুল ইসলাম বসুনিয়ার কাছে গান শেখার মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁর পথচলা আরও সমৃদ্ধ হয়। পরে নিজের গানের মিউজিক ভিডিও ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে উপার্জন শুরু করেন তিনি।
তাঁর পথচলা সহজ ছিল না। পরিবারের সবার সমর্থন না পেলেও মা সব সময় পাশে ছিলেন। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। পড়াশোনার খরচ চালাতে খণ্ডকালীন চাকরির পাশাপাশি ফটোশুট ও প্রচারণামূলক ভিডিওতে কাজ করেছেন তিনি। নানা বাধা পেরিয়ে মার্কেটিং বিষয়ে বিবিএ সম্পন্ন করেন মাইশা।
শিক্ষাজীবন শেষে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে ইন্টার্নশিপ করেন তিনি। পরে একটি ট্রাভেল এজেন্সি ও এক্স সিরামিকস গ্রুপে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পাশাপাশি অভিনয়েও যুক্ত ছিলেন। তাঁর মূল চরিত্রে অভিনীত নাটক ‘বিএফ’ মাছরাঙা টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। এ ছাড়া ‘মায়ের চুরি, ডিরেক্টরের পেড়া ‘ফ্রিতে ঝামেলা’’ নাটক এবং ‘সাইলেন্স বিটুইন আস’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন তিনি।
তাঁর জীবনে আরও কিছু কার্যক্রম যুক্ত করতে সাহায্য করেন এক শুভাকাঙ্ক্ষী। তিনি সুইমিং, আইইএলটিএস ও বিউটি পেজেন্টের জন্য তাঁকে উৎসাহিত করেন।
নাচ, গান, অভিনয় ও বাইক রাইডের পাশাপাশি বর্তমানে মডেলিংয়ে গ্রুমিং ও আইইএলটিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন নিশাত। ভবিষ্যতে বিদেশে এমবিএ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এ ছাড়া টিভিসি ও ওভিসিতে ভালো কাজ করে দর্শকদের কাছে নিজের পরিচিতি আরও বাড়াতে চান তিনি।
নিজের স্বপ্নের পাশাপাশি অসহায় শিশুদের জন্য কাজ করার ইচ্ছাও রয়েছে এই তরুণীর। তাঁর বিশ্বাস, সফলতা অর্জনের জন্য প্রতিভার পাশাপাশি ধৈর্য, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস প্রয়োজন। তরুণদের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ, অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা না করে নিজের গতিতে এগিয়ে যেতে হবে। ধীরে ধীরে হলেও নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে গেলে একদিন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।
আপনার মতামত লিখুন