খুঁজুন
, ,

নীলফামারীতে অটো রাইস মিলের ছাইয়ে পরিবেশ দূষণ, জরিমানা ২০ হাজার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
নীলফামারীতে অটো রাইস মিলের ছাইয়ে পরিবেশ দূষণ, জরিমানা ২০ হাজার

নীলফামারীতে অটো রাইস মিলের ছাইয়ের কারণে পরিবেশ দূষণ ও ছাই ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের দায়ে এক মিলমালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে সদর উপজেলার চড়াইখোলা ইউনিয়নের পিলার বাজারে অবস্থিত মেসার্স রাফি অটো মিলে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ। অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অটো রাইস মিলের ছাইয়ের কারণে পরিবেশ দূষণ এবং ছাই ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মিলের মালিক আতিকুজ্জামান আতিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তিনি আরও জানান, অভিযানের পরপরই জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন মিলমালিক।

নীলফামারীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ
নীলফামারীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নীলফামারীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি দলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সদর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব রাশেদ রেজা উদ-দৌলার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্টু, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হাসানুজ্জামান তৌহিদ ও সদস্যসচিব আবু সাঈদ বাবু।

বক্তারা বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যুবদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাঁরা সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের আদর্শ বাস্তবায়ন এবং দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিমলা উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সালেকিন আহমেদ সজীবসহ যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

রংপুরে মাউশির সহকারী পরিচালক ওএসডি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ
রংপুরে মাউশির সহকারী পরিচালক ওএসডি

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), রংপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক (কলেজ) সাদাকাত হোসেনকে ‘বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা’(ওএসডি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। ১৯ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি কলেজ-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকায় বদলি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি নিজ বেতন ও বেতনক্রমে এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন।

সাদাকাত হোসেন দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং রংপুর অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক (কলেজ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

​জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে আগামী ২৮ অক্টোবর তারিখের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। অন্যথায় একই তারিখ অপরাহ্ণে তিনি তাৎক্ষণিক অবমুক্ত হয়েছেন বলে গণ্য হবেন। এছাড়া আবশ্যিকভাবে নিজ পিডিএস-এ লগইন করে অবমুক্ত ও যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এ এস এম শাহরিয়ার জাহান।

 

নৌকায় কিংবা ভেলায় নয়, এখন চরবাসীর ভরসা হবে ‘খুদি বাড়ি’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
নৌকায় কিংবা ভেলায় নয়, এখন চরবাসীর ভরসা হবে ‘খুদি বাড়ি’

বর্ষা এলেই বাড়ে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি। একসময় সেই পানি ঢুকে পড়ে ঘরবাড়িতে। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। তখন মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতে হয় গাইবান্ধা সদর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল সিধাই গ্রামের মানুষকে। কেউ আশ্রয় নেন উঁচু জায়গায়, কেউবা কলাগাছের ভেলা কিংবা নৌকায়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বিপাকে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। ঘরের আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও জমির দলিল রক্ষা করাও হয়ে ওঠে কঠিন। এমন দুর্ভোগের মধ্যে চরবাসীর মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে ‘খুদি বাড়ি’।

বন্যার সময় নিরাপদ আশ্রয়ের কথা চিন্তা করে সিধাই গ্রামে এই বিশেষ ঘর নির্মাণ করেছে সৃজনশীল গাইবান্ধা ফাউন্ডেশন নামে একটি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। টানা পাঁচ দিনের প্রচেষ্টায় বাঁশ ও ইস্পাতের কাঠামো দিয়ে নির্মিত ঘরটি ইতোমধ্যে স্থানীয় মানুষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সিধাই গ্রামের বাসিন্দা রিনা বেগমের কাছে বন্যা মানেই দুর্ভোগ আর অনিশ্চয়তা। পানি বাড়লে কোথায় আশ্রয় নেবেন, কীভাবে পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে রাখবেন—সেই চিন্তা পেয়ে বসে তাকে।

অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগে বন্যার সময় আমাদের কলাগাছের ভেলা কিংবা উঁচু জায়গায় থাকতে হতো। এ রকম বাড়ি থাকলে অনেক উপকার হবে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারবেন।

একই গ্রামের মনিরুল ইসলামের দুশ্চিন্তা ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে। বন্যার পানি বাড়লেই এসব রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তার আশা, নতুন ঘরটি দুর্যোগের সময় গ্রামের মানুষের কাজে আসবে।

আরেক বাসিন্দা শামিম হোসেন বলেন, বন্যার সময় গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, বিশেষ করে জমির দলিল নিরাপদে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ধরনের ঘরে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখা গেলে আমাদের অনেকটা দুশ্চিন্তা কমবে।

চরবাসী বলছেন, আমাদের এই দুর্ভোগের কথা ভেবেই এগিয়ে এসেছেন সৃজনশীল গাইবান্ধা ফাউন্ডেশনের তরুণ সদস্যরা। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ‘যুব নেতৃত্বে জলবায়ু অভিযোজন’ উদ্যোগের আওতায় সংগঠনটি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা অনুদান পায়। এর সঙ্গে নিজস্ব তহবিলের আরও ২০ হাজার টাকা যুক্ত করে মোট দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে ঘরটি নির্মাণ করা হয়।

খ্যাতিমান স্থপতি মেরিনা তাবাশ্যুমের নকশা করা ‘খুদি বাড়ি’র আদলে নির্মিত ঘরটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ১০ ফুট করে। উচ্চতা প্রায় ১৩ ফুট। নির্মাণকাজে কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছে ফেস বাংলাদেশ। ঘরটি নির্মাণের জন্য নিজের জায়গা দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা সাজেদা বেগম (৪৫)।

সাজেদা বেগম জানান, বন্যার সময় গ্রামের মানুষ যেন নিরাপদ আশ্রয় পান, সেই চিন্তা থেকেই তিনি জায়গা দিয়েছেন। এখন দুর্যোগের দিনে ঘরটি অসহায় মানুষের কাজে আসবে।

সৃজনশীল গাইবান্ধা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মেহেদী হাসান বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। বন্যার সময় ঘরটিতে সাত থেকে আটজন আশ্রয় নিতে পারবেন। সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আরও এমন ঘর নির্মাণ করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, ব্রহ্মপুত্রের বুকে জেগে থাকা সিধাই চরের মানুষের কাছে বন্যা নতুন কিছু নয়। বছরের পর বছর পানির সঙ্গে লড়াই করেই তাদের জীবন চলে। সেই জনপদে নির্মিত একটি ছোট্ট ঘর হয়তো সবার আশ্রয়ের সংকট দূর করতে পারবে না। তবে দুর্যোগের দিনে অন্তত কয়েকজন মানুষের মাথা গোঁজার নিরাপদ ঠাঁই হয়ে উঠবে।