খুঁজুন
, ,

রেলপথ মন্ত্রী

দখল হাওয়া রেলের জায়গা যেখানে আছে সেগুলো চিহ্নিত করে দখল মুক্ত করা হবে

জেলা প্রতিনিধি, নীলফামারী
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১২ অপরাহ্ণ
দখল হাওয়া রেলের জায়গা যেখানে আছে সেগুলো চিহ্নিত করে দখল মুক্ত করা হবে

সড়ক ও পরিবহণ ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ মো. রবিউল আলম বলেছেন, আমি এখানে দেখেছি এখানে প্রায় ২৪০০ এর মতো আবাসন রয়েছে তবে সেখানে শুধুমাত্র ৯০০ মতো লোক আছে সেহেতু আবাসনের কোন সংকট নেই। এখানে পুরোনো ভবন আবাসন নিয়ে হাউজ ঋণ যে কাটে সেটার থেকে বাহিরে কম টাকায় ভালো বাসা ভাড়া পাওয়া যায় এজন্য অনেকে রেলের আবাসনে থাকতে আগ্রহী না।

রেলওয়ের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ একর জায়গা পৌরসভা দখল করে আছে। রেল কর্তৃপক্ষ ও পৌরসভার মধ্যে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটি বিরোধ রয়েছে সেটি অনেকটা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আজকের মিটিংয়ে ইউএনও সাহেবসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা ছিলেন এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে যেখানে রেলওয়ের জায়গা দখল রয়েছে তাছাড়াও রেলওয়ে থেকে ব্যক্তি, গোষ্ঠীসহ সকল পর্যায়ের জমি লাইসেন্সের ভিত্তিতে এক বছর পে করতে হয় এবং লিজ দেওয়া বন্ধ রয়েছে।

আমরা প্রথমে রেলের জায়গা রেলের প্রয়োজনে পরে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে চাই। আমরা জায়গাগুলো শনাক্ত করছি এবং তাদের বর্ণনা নির্ধারণ করা হচ্ছে। সেখানে রেলওয়ের জায়গা দখল আছে সেগুলো চিহ্নিত করে দখল মুক্ত করা হবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন করেন সড়ক ও পরিবহণ ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

রেলপথ মন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বাংলাদেশের রেলওয়ে যতটা আমূল পরিবর্তন এবং যাত্রীবান্ধব করা সম্ভব সেটি করব। কারণ আমাদের রেল যাত্রার ঐতিহ্য যেমন আছে প্রয়োজনও তা আছে এবং সেটি আরও প্রসারিত করার প্রয়োজন আছে। এটি আমাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার ছিল। আমাদের দুটি যে কারখানা আছে সেটিকে কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায় সেই লক্ষ্যে এখানে আসা। এখানে কোথাও সমস্যা আছে আমরা জেনেছি, সম্ভাবনাময় কি আছে সেটিও জেনেছি।

কিছু কিছু যন্ত্রাংশ তৈরি সরকারি দেখেছি এবং সেটির মান দেখেছি আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। কিন্তু একটি জায়গায় আমার মনে হয়েছে আমি প্রতিমন্ত্রী সচিব একমত হয়েছি এখানে সে কোচ মেরামত হচ্ছে সেটি আরও মান সম্মত হতে হবে। এখানে কিছু পূর্বের মেশিন আছে সেগুলো কোয়ালিটি সম্পূর্ণ মেশিন। কিন্তু আমরা যেগুলো এখনের আদলে করতে চেয়েছি, কোচের কিছু অংশ মেরামত করা, জানালা মেরামত করা সেই জায়গা গুলোতে কোয়ালিটি মান সম্মত করতে কি করা যায়। পূর্বঅঞ্চল এবং পশ্চিমঅঞ্চল রেলওয়ে মিলে প্রায় ৪০০ মতো কোচ মেরামতের অপেক্ষায় আছে। সেগুলো মেরামত করে আবার সচল করতে আমরা দক্ষ কারিগর নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছি।

তিনি রেলওয়ে হাসপাতাল সম্পর্কে বলেন, রেলের পক্ষ থেকে হাসপাতাল পরিচালনায় ডাক্তার, নার্স এবং সেবা নিশ্চিত করতে কঠিন হয় বিধায় আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। দেশের প্রায় ৯ টি রেলওয়ে হাসপাতাল রয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থাপনায় কীভাবে ফাংশন করা যায় সেগুলো আমরা প্রতিষ্ঠিত করব।

তিনি আরও বলেন, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা একটি প্রতিষ্ঠিত ও সুনামধন্য কারখানা ছিল। এটি এক সময়ে দেশকে রিপ্রেজেন্ট করেছে সেই ১৮৬২ থেকে ১৮৭০ এখানে কারখানা হয়েছে। তখন যে প্রয়োজনে হয়েছে সেটি আছে এবং আরও বেড়েছে৷ তবে সেভাবে এই কারখানা ডেভেলপমেন্ট হয়নি। আমি কারখানা পরিদর্শন করে যেটি দেখলাম আমাদের কোচ মেরামত করা অনেক প্রয়োজনীয় যন্ত্রণাংশ এগুলো এক সময়ে ১২ হাজারের মতো পার্স তৈরি হতো এখন সেটি ৬৫৪ থেকে ৬৫৫ এসেছে। এই পার্স এখন আমাদের আমদানি করতে হচ্ছে তবে এখানে অনেক পার্স তৈরি করা সম্ভব।

 

 

‘১৮ বছরে রেলে ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়, দৃশ্যমান উন্নয়ন নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
‘১৮ বছরে রেলে ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়, দৃশ্যমান উন্নয়ন নেই

গত ১৮ বছরে রেল খাতে ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তার অভিযোগ, অর্থের অপচয়, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও লুটপাটের কারণে রেল খাত প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘অনির্বাচিত ফ্যাসিবাদী সরকার গত ১৮ বছরে রেলের পেছনে ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে। কিন্তু রেলের দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন চোখে পড়েনি।’ তার ভাষ্য, অনেক ক্ষেত্রে রেল খাত স্থবির হয়ে পড়েছে, কোথাও পিছিয়ে গেছে, আবার কোথাও অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে রেলের সেবার মানে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। টানা ১৮ বছর সরকার পরিচালিত হলেও রেল খাতের যথাযথ দেখভাল করা হয়নি। ফলে এ খাত প্রত্যাশিত উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের চেষ্টা চলছে। তবে এ অবস্থার পরিবর্তন আনতে কিছুটা সময় লাগবে।

তিনি আরও বলেন, রেলের যাত্রীদের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তৎপর রয়েছেন।

এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

রংপুরে পৌরসভার নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে নিহত ২, আহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
রংপুরে পৌরসভার নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে নিহত ২, আহত ৩

রংপুরের পীরগঞ্জ পৌরসভার নতুন ভবনের নির্মাণকাজ চলাকালে ছাদের সাটারিং ধসে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শ্রমিকেরা হলেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার আসাদুল হক (৩০) ও রংপুর সদর উপজেলার শিহাব (১৯)।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার নির্মাণাধীন ভবনে সকালে ১৩ জন শ্রমিক ছাদের ঢালাইয়ের কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ সাটারিং ভেঙে পড়লে কয়েকজন শ্রমিক নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় শ্রমিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসাদুল হক ও শিহাবকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তিন শ্রমিককে প্রথমে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা নাজমুল সরকার জানান, দুর্ঘটনায় দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত তিনজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছিল।

পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হবে।

ওসি নাজমুল হক বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

সংবিধান সংশোধনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও উচ্চকক্ষ নিয়ে আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ণ
সংবিধান সংশোধনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও উচ্চকক্ষ নিয়ে আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সপ্তম বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সংসদের উচ্চকক্ষ প্রবর্তন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নসহ সংবিধানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমীন ও মো. মাহমুদুল হক রুবেল অংশ নেন।

এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদান রাখা শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বৈঠকে অংশ নিয়ে সংবিধান সংশোধন, জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ সংশোধনের বিষয়ে নিজেদের মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।

আলোচনায় সংবিধান সংশোধনের কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এখতিয়ার, জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংসদের উচ্চকক্ষ প্রবর্তন এবং সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনের বিষয়ে শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের অনেকে ইতোমধ্যে তাঁদের লিখিত মতামত জমা দিয়েছেন। অন্যদের আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে লিখিত প্রস্তাব কমিটির কাছে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

এ ছাড়া জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের কমিটির কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। জাতির প্রত্যাশা ও জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনের কাজ এগিয়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।