খুঁজুন
, ,

রংপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকসহ গ্রেপ্তার ৩

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
রংপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকসহ গ্রেপ্তার ৩

রংপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৬৪৮ পিস ইয়াবা, ১১ হাজার ১৭১ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও দুই বোতল পিকেড্রিলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৩। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে এক দম্পতিও রয়েছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এসআরবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে রংপুরের বদরগঞ্জ এবং শুক্রবার রাতে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে পৃথক অভিযান চালানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে অভিযান চালায় এসআরবি-১৩-এর গাইবান্ধা ক্যাম্পের একটি দল। এ সময় একটি মোটরসাইকেল তল্লাশি করে ২৯৮ পিস ইয়াবা ও ১১ হাজার ১৭১ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় মোটরসাইকেলচালক খাদেমুল ইসলাম ওরফে রিপনকে (৪৯) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার গুলশান নগর এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। এ সময় মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়।

অন্যদিকে, শুক্রবার রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে বেল্লাল হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালায় এসআরবি-১৩-এর দিনাজপুর ক্যাম্পের একটি দল। এ সময় ১ হাজার ৩৫০ পিস ইয়াবা ও দুই বোতল পিকেড্রিল জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় বেল্লাল হোসেন (২৮) ও তাঁর স্ত্রী নাজমিন নেহার নিশিকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়।

এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের এবং জব্দ করা মাদকদ্রব্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

পরিচ্ছন্ন নগরীর পথে রংপুর! চ্যালেঞ্জ কতটা?

নাজমুল ইসলাম নিশাত
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
পরিচ্ছন্ন নগরীর পথে রংপুর!  চ্যালেঞ্জ কতটা?

ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার উদ্যোগে পরিচ্ছন্ন নগরীর প্রত্যাশা বাড়ছে। তবে হকারদের জীবিকা, ক্রেতাদের প্রয়োজন এবং নগরীর শৃঙ্খলা – এই তিনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রংপুর সফরকে ঘিরে নতুন সাজে সেজেছিল নগরী। সড়ক ও ফুটপাত পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগে বদলে যায় নগরীর চেনা দৃশ্যপট। দীর্ঘদিন ধরে হকারদের দখলে থাকা ফুটপাতগুলো করা হয় দখলমুক্ত। প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ হওয়ার পরও সেই পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখার উদ্যোগ নগরবাসীর মধ্যে তৈরি করেছে নতুন প্রত্যাশা। প্রশ্ন উঠেছে-রংপুর কি সত্যিই হকারমুক্ত, পরিচ্ছন্ন নগরীর পথে এগোচ্ছে, নাকি এই পরিবর্তন কেবল বিশেষ উপলক্ষকেন্দ্রিক?
প্রধানমন্ত্রীর সফরের চার দিন পরও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার তৎপরতা দৃশ্যমান। রংপুর সিটি করপোরেশন, মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে দোকান না বসানোর বিষয়ে মাইকিং করে সচেতন করা হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ফুটপাত পথচারীদের জন্য, সেখানে দোকান বসলে বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক মানুষ ও প্রতিবন্ধীদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে মূল সড়কে নামতে হয় পথচারীদের। এতে বাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, তৈরি হয় যানজট।
তবে নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার এই উদ্যোগের আরেকটি বাস্তবতাও রয়েছে। ফুটপাতের ছোট দোকানগুলো অনেক মানুষের জীবিকার অবলম্বন। পুঁজি কম, স্থায়ী দোকান ভাড়া নেওয়ার সামর্থ্য নেই এমন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অনেকে ফুটপাতে পণ্য বিক্রি করেই পরিবার চালান। অন্যদিকে, নগরীর নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের একটি অংশও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার জন্য এসব দোকানের ওপর নির্ভর করেন। তুলনামূলক কম দামে পণ্য কেনার সুযোগ তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন নগরী পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি নিম্ন আয়ের ব্যবসায়ীদের তালিকা করে তাঁদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। একই সাথে তিনি এও বলেছেন পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে তিনি বদ্ধপরিকর।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পরিচ্ছন্নতা ও জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য তৈরির সুযোগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, নির্ধারিত সময়সীমা এবং সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণ।
প্রথমত, নগরীতে প্রকৃত হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে হবে। কারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছেন, কারা সম্পূর্ণভাবে এই আয়ের ওপর নির্ভরশীল এবং কারা অন্য কোথাও ব্যবসা পরিচালনার সামর্থ্য রাখেন না,তা যাচাই করা জরুরি। এই তালিকার ভিত্তিতে তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবসাস্থল নির্ধারণ করা যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, নগরীর উপযুক্ত স্থানে নির্দিষ্ট হকার জোন বা ক্ষুদ্র ব্যবসার বাজার গড়ে তোলা যেতে পারে। সেখানে স্বল্প ভাড়ায় দোকান বসানোর সুযোগ, নির্ধারিত ব্যবসার সময় এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নিয়ম থাকবে। জায়গার সংকট থাকলে মানুষের চলাচল ও যানবাহনের চাপ বিবেচনায় নিয়ে নির্দিষ্ট সময় ভিত্তিক বাজার ব্যবস্থাও চালু করা যেতে পারে। তবে বিকল্প স্থান এমন হতে হবে, যেখানে ক্রেতাদের যাতায়াত রয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা বাস্তবে বিক্রির সুযোগ পান।
তৃতীয়ত, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার নিয়ম সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, স্থায়ী দোকানমালিক কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান ফুটপাত দখল করে রাখলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু ক্ষুদ্র হকারদের উচ্ছেদ করে অন্যদের দখল বজায় থাকলে নগরবাসীর কাছে উদ্যোগটির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
চতুর্থত, নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ কোনো সফর, উৎসব কিংবা গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনকে কেন্দ্র করে ফুটপাত পরিষ্কার করা এবং পরে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া, এমন চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এজন্য সিটি করপোরেশন, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে স্থায়ী তদারকি ব্যবস্থা প্রয়োজন। পাশাপাশি নাগরিকদের অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা থাকলে ফুটপাত পুনর্দখলের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, হকারদের প্রতিপক্ষ হিসেবে না দেখে নগর ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা। তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে নিয়ম মানার প্রবণতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পথচারীদের অধিকার এবং নগরীর শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না। কারণ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা কোনো সাময়িক সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয় নয়; এটি নাগরিক অধিকার ও নিরাপদ চলাচলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
রংপুরের সামনে এখন সুযোগ প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে তৈরি হওয়া পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগকে স্থায়ী নগর ব্যবস্থাপনায় রূপ দেওয়া। এর জন্য শুধু উচ্ছেদ অভিযান নয়, প্রয়োজন বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, নিয়মের ধারাবাহিক প্রয়োগ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি। যদিও সিটি প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডনের নগর পরিচ্ছন্নতার এই কার্যক্রম টেকসই করতে নেয়া নানা পরিকল্পনা দীর্ঘ সময়ের অব্যবস্থাপনা ভেঙে নতুন রংপুরে স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

(more…)

নারী থেকে পুরুষ হওয়ার দাবি, বিয়ে করলেন তরুণীকে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ
নারী থেকে পুরুষ হওয়ার দাবি, বিয়ে করলেন তরুণীকে

আগে ছিলেন মেয়ে। এখন নিজেকে পুরুষে রূপান্তরিত হয়েছেন বলে পরিচয় দেন তিনি। বিয়ে করেছেন এক তরুণীকে।

ঠাকুরগাঁওয়ে নিজেকে রাফি ইসলাম নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির লিঙ্গ পরিবর্তনের দাবি ও অন্য এক তরুণীর সঙ্গে বিয়ের ঘটনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় কৌতূহল দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের বাতেনের মোড় গুচ্ছগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাফি ওই এলাকার আজিজুল ইসলামের সন্তান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ব্যক্তির আগের নাম সুমা আক্তার। তিনি সদর উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের আজিজুল ইসলামের সন্তান। বর্তমানে তিনি রাফি ইসলাম নামে পরিচিত এবং নিজেকে পুরুষ হিসেবে পরিচয় দেন। সম্প্রতি অন্য এক তরুণীর সঙ্গে তার বিয়ের বিষয়টি সামনে এলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আলম হক বলেন, আমরা তো জানি, সুমা মেয়ে। তবে বেশ কিছুদিন ধরে তার চলাফেরায় পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছিল এবং সে ছেলেদের পোশাক পরে ঘোরাঘুরি শুরু করে। পরে আমরা তার নতুন নাম জানতে পারি, রাফি। আজকে সে মেয়ে পালিয়ে নিয়ে এসে বিয়ে করছে শুনলাম। সে আসলেই ছেলে হয়েছে কি না, তার কোনো প্রমাণ নেই।

সুমাইয়া নামের এক নারী বলেন, মেয়ে হয়ে মেয়েকে বিয়ে করছে। আমি জানি, সে মেয়ে। দেখলে বোঝা যায়। যদি সে ছেলে হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের প্রমাণ দেখাক।

বাবা আজিজুল হক বলেন, আমার মেয়ে যে ছেলেতে রূপান্তরিত হয়েছে, আমি বিষয়টি জানি। প্রায় দুই মাস আগে পার্বতীপুরের এক তরুণীর সঙ্গে রাফির সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুই পরিবারের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়ের পরিবার বিয়েতে সম্মতি দেয়নি। পরে ওই তরুণী বাড়ি ছেড়ে এসে রাফিকে বিয়ে করে আজ আমার বাড়িতে নিয়ে আসে।

সালন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে এলাহি মুকুট চৌধুরী বলেন, এটি আমার ইউনিয়নের ঘটনা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির লিঙ্গ পরিচয় বা শারীরিক পরিবর্তন সম্পর্কে চিকিৎসাগত কোনো তথ্যপ্রতিবেদন আমি পাইনি। তাই এ বিষয়ে অনুমাননির্ভর কিছু বলতে পারছি না।

নিখোঁজের তিন দিন পর পুকুরে মিলল বাক্‌প্রতিবন্ধী তরুণীর মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
নিখোঁজের তিন দিন পর পুকুরে মিলল বাক্‌প্রতিবন্ধী তরুণীর মরদেহ

রংপুরের কাউনিয়ায় নিখোঁজের তিন দিন পর একটি পুকুর থেকে তাহমিনা খাতুন (২৫) নামে এক বাক ও মানসিক প্রতিবন্ধী তরুণীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রোববার সকালে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের মহেষা দর্গারপাড় এলাকায় আতোয়ার রহমানের পুকুর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত তাহমিনা খাতুন জেলার হারাগাছ পৌরসভার ফাতাংটারী গ্রামের মোরসেলিমের মেয়ে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহমিনা। এরপর আর তাঁর খোঁজ মেলেনি। এ ঘটনায় ১৬ অক্টোবর নিহতের বাবা হারাগাছ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

আজ সকাল পৌনে ১০টার দিকে মহেষা দর্গারপাড় এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা পুকুরে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করলে খবর পেয়ে স্বজনেরা এসে তাহমিনাকে শনাক্ত করেন।

তাহমিনার ভাই আলমগীর হোসেন জানান, তাঁর বোন জন্মগতভাবে কথা বলতে পারতেন না। তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং শারীরিকভাবেও দুর্বল ছিলেন। মাঝেমধ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে অন্যের বাড়ি ও বাজারে চলে যেতেন। এ কারণে তাঁকে বাড়িতে আটকে রাখা হতো। বৃহস্পতিবার পরিবারের সদস্যদের অজান্তে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তিনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।

কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদল কুমার মন্ডল বলেন, তাহমিনা হারাগাছ থানার এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন। তাঁর বাক্ ও মানসিক প্রতিবন্ধিতার পরিচয়পত্র রয়েছে। রোববার সকালে পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

ওসি আরও বলেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিহতের বাবার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।