খুঁজুন
, ,

ডিমলায় ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক, জব্দ মোবাইল-সিম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ
ডিমলায় ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক, জব্দ মোবাইল-সিম

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় ১৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ সেলিম (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় মাদক বিক্রিতে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ও দুটি সিম কার্ড জব্দ করা হয়।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার ঠাকুরগঞ্জ পিয়াজুপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর অধীন বালাপাড়া বিওপির একটি টহল দল।

বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহভাজন সেলিম সেখানে পৌঁছালে বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে টহল দলের সদস্যরা ধাওয়া করে তাকে আটক করেন।

আটক সেলিম ডিমলা উপজেলার দারাজগঞ্জ ডাকঘর এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম আব্দুর রশিদ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য ও স্থানীয়দের বরাতে সেলিম দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। উদ্ধার করা ইয়াবা ট্যাবলেট ও মোবাইল ফোনের আনুমানিক জব্দমূল্য ২২ হাজার টাকা।

পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আটক ব্যক্তি ও জব্দ করা আলামত ডিমলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান বন্ধে তাদের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এক টাকায় বিক্রি হচ্ছে চার লাউ, ভালো ফলনেও হতাশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
এক টাকায় বিক্রি হচ্ছে চার লাউ, ভালো ফলনেও হতাশ

অটোরিকশার ভাড়া ১০০ টাকা, অথচ লাউ বিক্রি করে আয় ১২০ টাকা। পরিবহন খরচ বাদে হাতে থাকে মাত্র ২০ টাকা। এমন লোকসানের মুখে পড়ে আক্ষেপ করে আটোয়ারীর লাউচাষি কাদের বলেন, ‘এমনটা জানলে লাউ বাজারে আনতাম না।’ শুধু কাদের নন, পঞ্চগড়ের অনেক লাউচাষির এখন একই অবস্থা। ভালো ফলন হলেও বাজারে দাম না থাকায় কেউ বাগান থেকে লাউ তুলছেন না, কেউ আবার বন্ধ করে দিয়েছেন বাগানের পরিচর্যা।

পঞ্চগড়ের মাঠজুড়ে এখন লাউয়ের সবুজ সমারোহ। গাছে গাছে ঝুলছে লাউ, ফলনও হয়েছে ভালো। কিন্তু সেই ফলন কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে পারছে না। এক টাকায় বিক্রি হচ্ছে চারটি লাউ। প্রতি বিঘা জমিতে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে উৎপাদিত লাউ বিক্রি করে মিলছে মাত্র ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। অথচ অন্য বছর একই জমির লাউ বিক্রি করে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করতেন কৃষকেরা। বাম্পার ফলনেও তাই তাঁদের চোখেমুখে এখন লোকসানের দুশ্চিন্তা।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় লাউচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বিঘা জমিতে ৩ থেকে ৫ হাজার লাউ উৎপাদিত হয়। জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরিসহ উৎপাদন খরচ পড়ে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু বাজারে দাম এতটাই কম যে উৎপাদন খরচের সামান্য অংশও উঠছে না। ফলে পুঁজি হারানোর আশঙ্কায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।

মির্জাপুর ইউনিয়নের লাউচাষি দুলাল বলেন, লাউ চাষের শুরু থেকে ফসল তোলা পর্যন্ত অনেক টাকা খরচ করতে হয়। এবার ভালো ফলন হলেও বাজারে দাম নেই। এক টাকায় চারটি লাউ বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ উঠছে না, বরং পুঁজি হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে সবজি চাষ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

আরেক চাষি আবাস আলী বলেন, পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়েও যদি উৎপাদন খরচ না ওঠে, তাহলে কৃষক সংসার চালাব কীভাবে? বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি দিতে গিয়ে এমনিতেই কৃষকদের হিমশিম খেতে হয়। তার ওপর বাজারে ফসলের দাম না থাকায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের লোকসান থেকে বাঁচাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

কৃষকেরা যখন উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন, তখন স্বস্তিতে নেই ব্যবসায়ীরাও। আটোয়ারী উপজেলার লাউ ব্যবসায়ী সাজ্জাত জানান, পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে লাউ সংগ্রহ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। কিন্তু এবার দাম কম থাকায় ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েছেন। লাউ সংগ্রহ, শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচ মিটিয়ে লাভ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকার বাজারে প্রচুর লাউ আসছে। এ কারণে দাম কমে গেছে।

এ বিষয়ে জানতে আটোয়ারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

 

রংপুরে পৃথক অভিযানে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৩

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
রংপুরে পৃথক অভিযানে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৩

রংপুরের হারাগাছ থানাধীন এলাকায় পুলিশের পৃথক অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তিনজনকেই পৃথক পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রংপুর আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এর আগে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হারাগাছ থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর শহরের ঠাকুরদাস গ্রামের সাজাপ্রাপ্ত জাহেরুল ইসলাম, একই পৌর এলাকার পরোয়ানাভুক্ত চড়চতুরা কমলদার পাড়ার আনোয়ারুল ইসলাম এবং পরোয়ানাভুক্ত রংপুর সিটির সিগারেট কোম্পানি দাওয়াইটারী এলাকার হাফিজুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, গ্রপ্তার জাহেরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গত বছর লালমনিরহাট আদালতে মামলা দায়ের করে তাঁর স্ত্রী। সেই মামলায় দীর্ঘ শুনানি শেষে জাহেরুল ইসলামকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানার রায় দেয় আদালত। রায় পর থেকে জাহেরুল পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

গতকাল বুধবার এসআই রুহুর আমীনসহ পুলিশের টিম অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ী থেকে সাজাপ্রাপ্ত জাহেরুলকে আটক করে। এ ছাড়া ওই রাতে পুলিশের পৃথক টিম অভিযান চালিয়ে পৃথক পৃথক স্থান থেকে এনজিআর মামলায় পরোয়ানাভুক্ত দুজনকে আটক করে।

রংপুর মেট্রোপলিটন হারাগাছ থানা-পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) অশোক চৌহান বলেন, সাজাপ্রাপ্ত একজনসহ পরোয়ানাভুক্ত দুজনকেই আজ বৃহস্পতিবার রংপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

শত বছরের ঐতিহ্যে দাঁড়িয়ে কেরামতিয়া জামে মসজিদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ
শত বছরের ঐতিহ্যে দাঁড়িয়ে কেরামতিয়া জামে মসজিদ

ইতিহাস, ঐতিহ্য আর আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধনে রংপুর নগরীর বুকে স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে কেরামতিয়া জামে মসজিদ। শত বছরেরও বেশি সময় ধরে এই মসজিদ শুধু মুসল্লিদের ইবাদতের স্থান নয়, বরং উত্তরাঞ্চলে ইসলাম প্রচার, সুফি সাধনা ও ঐতিহাসিক স্থাপত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। মোগল স্থাপত্যরীতির সঙ্গে বঙ্গীয় নির্মাণশৈলীর মিশেলে গড়ে ওঠা মসজিদটি আজও ধর্মপ্রাণ মানুষের পাশাপাশি ইতিহাস-ঐতিহ্যপ্রেমীদের আকর্ষণ করে।

রংপুর মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র কাচারি বাজারের অদূরে আদালত চত্বর পেরিয়ে দক্ষিণ দিকে এগোলেই চোখে পড়ে ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদ। পাশেই শ্যামাসুন্দরী খাল, আর মুন্সিপাড়ার বিস্তৃত প্রাঙ্গণে মসজিদটির অবস্থান। নগরীর ব্যস্ততার মাঝেও এর পুরোনো স্থাপত্য, গম্বুজ ও অলংকরণ যেন অতীতের ইতিহাসকে আজও বহন করে চলেছে।

ইসলাম প্রচারক শাহ কারামত আলী জৌনপুরীর স্মৃতিবিজড়িত

কেরামতিয়া জামে মসজিদের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইসলাম প্রচারক শাহ কারামত আলী জৌনপুরী (রহ.)-এর নাম। ১৮০০ সালের ১২ জুন ভারতের উত্তর প্রদেশের জৌনপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে রংপুর অঞ্চলে আসেন এই ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর উদ্যোগে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয় বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।

তাঁর নাম অনুসারেই মসজিদটির নামকরণ করা হয় কারামতিয়া জামে মসজিদ। স্থানীয় মানুষের কাছে এটি কেরামতিয়া মসজিদ নামেই বেশি পরিচিত। রংপুর ও আশপাশের অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের পাশাপাশি তাঁর উদ্যোগে মসজিদ, মাদরাসা, খানকা ও বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে বলে জানা যায়।

শাহ কারামত আলী জৌনপুরী (রহ.)-এর ধর্মীয় জীবন, প্রচারকাজ ও আধ্যাত্মিক সাধনা ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নানা কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। ভক্তদের কাছে এসব ঘটনা তাঁর বুজুর্গি ও কারামতের স্মারক হিসেবে সমাদৃত। তাঁর জীবন ও কর্মের স্মৃতি ধারণ করে মসজিদটি আজও ধর্মীয় ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।

তিন গম্বুজে ফুটে উঠেছে স্থাপত্যের সৌন্দর্য

কেরামতিয়া জামে মসজিদের অন্যতম আকর্ষণ এর তিনটি গোলাকার গম্বুজ। মোগল স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে স্থানীয় নির্মাণশৈলীর সমন্বয়ে তৈরি এই স্থাপনাটির নকশায় রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। গম্বুজগুলোর নিচের অংশে অলংকরণ, পদ্মফুলের নকশা এবং কলসাকৃতির চূড়ার ব্যবহার মসজিদটির সৌন্দর্য বাড়িয়েছে।

মসজিদের প্রতিটি কোণে রয়েছে অষ্টভুজাকৃতির স্তম্ভ। গম্বুজগুলো খিলান ও পেনডেন্টিভের সাহায্যে নির্মিত। দেয়াল, প্রবেশদ্বার ও খিলানের অভ্যন্তরীণ অংশে লতাপাতা, ফুল এবং বিভিন্ন অলংকারের নকশা দেখা যায়। মেহরাবের কারুকাজ ও স্তম্ভের নকশায়ও রয়েছে শিল্পনৈপুণ্যের পরিচয়।

ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, মসজিদটির আয়তন প্রায় ৪২ ফুট বাই ১৩ ফুট। এর দেয়ালগুলো বেশ পুরু, যা পুরোনো স্থাপত্যের নির্মাণশৈলীর পরিচয় বহন করে। সীমিত পরিসরের মধ্যেও গম্বুজ, খিলান, স্তম্ভ ও অলংকরণের সমন্বয়ে স্থাপনাটিতে ফুটে উঠেছে আভিজাত্য।

মসজিদের পাশে শায়িত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব

শাহ কারামত আলী জৌনপুরী (রহ.) ১৮৭৩ সালের ৩০ মে ইন্তেকাল করেন। প্রচলিত ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, তাঁকে মসজিদের সামনেই সমাহিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় জমিদার আলা মিয়া মসজিদ ও সমাধির উন্নয়ন ও পুনর্নির্মাণে উদ্যোগ নেন বলে জানা যায়।

মসজিদের সম্প্রসারণের ফলে তাঁর সমাধি বর্তমানে মূল স্থাপনার পূর্ব দিকে বারান্দার কাছাকাছি দেয়ালঘেরা একটি কক্ষে অবস্থিত। ধর্মীয় শ্রদ্ধা থেকে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ সেখানে আসেন। স্থানীয়দের মধ্যে তাঁর মাজার জিয়ারত ও মানত করার প্রচলনও রয়েছে।

ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব

ইসলামিক ফাউন্ডেশন রংপুরের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর জেলার আটটি উপজেলা, তিনটি পৌরসভা ও একটি সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ৫ হাজার ১০৬টি মসজিদ রয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৮৫৩টি জামে মসজিদ এবং ২৫৩টি পাঞ্জেগানা মসজিদ। বিপুলসংখ্যক মসজিদের মধ্যে কেরামতিয়া জামে মসজিদ ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও স্থাপত্যবৈশিষ্ট্যের কারণে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বর্তমানে মসজিদটির কিছু সংস্কারকাজ চলছে। তবে পুরোনো স্থাপনার ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে সংস্কার করা জরুরি। কারণ, একটি ঐতিহাসিক মসজিদ কেবল ইট-পাথরের স্থাপনা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি, স্থানীয় ইতিহাস এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান সাংস্কৃতিক স্মৃতি।

শাহ কারামত আলী জৌনপুরী (রহ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত কেরামতিয়া জামে মসজিদ তাই রংপুরের অতীত ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। সময়ের পরিবর্তনেও এর তিন গম্বুজ, কারুকাজ ও আধ্যাত্মিক আবহ মনে করিয়ে দেয় উত্তরাঞ্চলে ইসলাম প্রচারের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের সমৃদ্ধ অধ্যায়। যথাযথ সংরক্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক নিদর্শনকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব।