খুঁজুন
, ,

নিজস্ব প্রতিবেদক

চোখের সামনে ফসলের ক্ষেত গিলে খাচ্ছে ব্রহ্মপুত্র

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
চোখের সামনে ফসলের ক্ষেত গিলে খাচ্ছে ব্রহ্মপুত্র

ধানের শিষে দানা বাঁধার অপেক্ষা, কোথাও আবার পেকে উঠছে সোনালি ফসল। যে জমির ধান ঘরে তুলে সংসারের অভাব মেটানোর স্বপ্ন দেখছিলেন কৃষকেরা, সেই জমিই এখন চোখের সামনে গিলে খাচ্ছে ব্রহ্মপুত্র। ফসল রক্ষার কোনো উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে কাঁচা ধানগাছ কেটে নিচ্ছেন কেউ কেউ। নদীভাঙনে জমি ও ফসল হারিয়ে দিশেহারা কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের সুখেরবাতি ও মধ্যপাড়ার কৃষকেরা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত দুই দিনে সুখেরবাতি ও মধ্যপাড়া এলাকায় অন্তত ১০ একর আবাদি জমি নদে বিলীন হয়েছে। নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়েছে আরও ২০০ থেকে ২৫০ বিঘা ফসলি জমি। দ্রুত ভাঙন ঠেকানো না গেলে এসব জমির ফসল হারানোর পাশাপাশি নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

এলাকাবাসী জানান, গত এক বছরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে কয়েক শ একর আবাদি জমি ও শতাধিক বসতভিটা বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া শৌলমারী ইউনিয়নের চারিপাড়া, বয়াতিপাড়া, শেখের বাজার এবং চর খেদাইমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ বসতি এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা তন্ময় হাসান তোতা বলেন, গত এক বছরে তাঁদের প্রায় ৪০ একর আবাদি জমি নদে চলে গেছে। সুখেরবাতি ও মধ্যপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পাশের চর খেদাইমারীতে বস্তা ফেলা হলেও সুখেরবাতি এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

আরেক ভুক্তভোগী জেলহক বলেন, গত দুই দিনে হঠাৎ ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন বেড়েছে। ধানগাছে থোড় এসেছে, এর মধ্যেই ভাঙন শুরু হয়েছে। তাঁর প্রায় দেড় একর জমি ভাঙনের কবলে পড়েছে। জমি রক্ষার কোনো উপায় না পেয়ে এখন কাঁচা ধানগাছ কেটে নিচ্ছেন তিনি।

একই এলাকার কৃষক নগর আলী ও সবুর নাইয়া বলেন, এই জমিতে ফসল ফলিয়েই তাঁরা সংসার চালাতেন। অনেক কষ্টে ঋণ করে ধানের চারা কিনে জমিতে রোপণ করেছেন। সার ও জ্বালানিতেও খরচ হয়েছে অনেক টাকা। কিন্তু ধানের থোড় আসার সময় নদী সব শেষ করে দিচ্ছে। এভাবে জমি হারালে আগামী বছর খাওয়ার ধানও থাকবে না বলে আশঙ্কা তাঁদের।

কৃষকদের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে নদীভাঙনে শত শত কৃষক তাঁদের আবাদি জমি ও ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। তাই জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের আশঙ্কা, সময়মতো উদ্যোগ না নিলে চলতি মৌসুমের ফসলের পাশাপাশি হারিয়ে যাবে বহু পরিবারের বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বনও।

 

মন্দিরে আরতি দেওয়ার সময় নারীর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৭ অপরাহ্ণ
মন্দিরে আরতি দেওয়ার সময় নারীর মৃত্যু

রংপুরের বদরগঞ্জে দুর্গামন্দিরে আরতি দেওয়ার সময় অর্চনা রানী নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের নামাপাড়া দুর্গামন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। অর্চনা রানী ওই গ্রামের গোপাল চন্দ্র সরকারের স্ত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে নামাপাড়া দুর্গামন্দিরে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা চলছিল। মন্দিরে উপস্থিত ছিলেন অর্চনা রানীও। তিনি দর্শকসারিতে বসে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে আরতি উপভোগ করছিলেন। একপর্যায়ে বাদ্যযন্ত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভালো করে বাজাও, আমি গান করব, আরতি দেব, নাচব।’ এরপর দর্শকসারি থেকে উঠে দুর্গাপ্রতিমার সামনে আরতি দিতে যান তিনি।

‎আরতি দেওয়ার সময় একপাক ঘুরতেই হঠাৎ মাথা ঘুরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন অর্চনা রানী। মুহূর্তেই মন্দিরের উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। উপস্থিত লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অর্চনা রানীর প্রতিবেশী মালা রানী বলেন, ‌‘অর্চনা রানী প্রতিবছর দুর্গোৎসবে আরতি দিতেন। পূজার এই আয়োজনে তার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। তবে এবার আরতি দিতে গিয়ে এমন মর্মান্তিক পরিণতি হবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি।’

‎অর্চনা রানীর স্বামী গোপাল চন্দ্র সরকার জানান, তার স্ত্রীর উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা ছিল। এছাড়া ঘটনার দিন তিনি সারাদিন উপবাস করেছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অর্চনা রানী ও গোপাল চন্দ্র সরকারের চার মেয়ে। তাদের বড় তিন মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়ে স্বপ্না রানী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি গোপাল চন্দ্র সরকার স্থানীয় একটি বাজারের হোটেলে কাজ করেন। অর্চনা রানীর আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।

নামাপাড়া দুর্গামন্দির কমিটির সভাপতি নিত্যেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, ‘দুর্গোৎসব চলাকালে আরতি দেওয়ার সময় অর্চনা রানী হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে মন্দিরের উৎসবের আনন্দ শোকে পরিণত হয়। ঘটনার পর ওই রাতে মন্দিরে আর কোনো পূজা-অর্চনা অনুষ্ঠিত হয়নি।’

‎বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উৎসবের মধ্যে এমন ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সৈয়দপুর বিমানবন্দর সড়কে চলছে সাজসজ্জা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সৈয়দপুর বিমানবন্দর সড়কে চলছে সাজসজ্জা

শারদীয় দুর্গোৎসবে আগামীকাল ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার ধর্মসভা মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নীলফামারীর সৈয়দপুরে চলছে সাজসজ্জার কাজ।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে সৈয়দপুর বিমানবন্দর সড়ক ও শহরের বিভিন্ন জায়গায় এমন চিত্র দেখা যায়।

শহর ঘুরে দেখা যায়, সাজসজ্জার অংশ হিসেবে সড়কের পাশে বিভিন্ন ব্যানার টাঙানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে বর্ণিল রূপে সাজতে শুরু করেছে শহর। রং-বেরঙের ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো হচ্ছে। এছাড়াও সড়কের বিভিন্ন জায়গায় রং করে সাজানো হচ্ছে। সড়কের পাশে বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

প্রধানমন্ত্রীর সফর সূচি অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯ টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আসবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী সেখান থেকে রংপুর নগরীর রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে সেখান থেকে রওনা দেবেন। বেলা ১১ টার দিকে তিনি রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন করবেন। এরপর তিনি আবার সৈয়দপুর বিমানবন্দর ফিরে রাজশাহী এবং রাজশাহী থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন বলে সফর সূচীতে উল্লেখ রয়েছে।

এবিষয়ে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর গফুর সরকার ঢাকা পোস্টকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংপুর যাচ্ছেন। তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দর হয়ে সড়ক পথে রংপুরে যাবেন ৷ প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে আমরা উচ্ছ্বসিত সেইসঙ্গে বরন করে নিতে আমরা প্রস্তুত।

রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহিন আক্তার ঢাকা পোস্টকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০ টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করে সড়ক পথে রংপুরে যাবেন। তিনি সেখানে গিয়ে দুর্গাপূজা মন্ডব পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এসে রাজশাহীর উদ্দেশ্য যাত্রা করবেন। এ উপলক্ষ্যে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাব।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা ঢাকা পোস্টকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সৈয়দপুর পৌরসভার ওপর দিয়ে রংপুরে যাবেন। আমরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ শহরের বিভিন্ন জায়গায় ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করছি। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গার রং এবং ডিভাইডার মেরামত করছি। এছাড়া যেগুলো ময়লার স্তূপ রয়েছে সেখানে বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।

সৈয়দপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা ঢাকা পোস্টকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়েছে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ রয়েছে, আমরা সর্বস্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।

প্রধানমন্ত্রীর চোখ এড়াতে বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে ময়লার ভাগাড়

জেলা প্রতিনিধি, নীলফামারী
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২২ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর চোখ এড়াতে বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে ময়লার ভাগাড়

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নীলফামারীর সৈয়দপুরে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা ময়লার ভাগাড় বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। সৈয়দপুর-পার্বতীপুর সড়কের পাশে ড্রিম প্লাস হোটেলের সামনে থাকা এই ভাগাড়ে দীর্ঘদিন ধরে বাসাবাড়ি, হাসপাতাল ও হোটেলের বর্জ্য ফেলা হচ্ছিল। এতে ছড়াচ্ছিল দুর্গন্ধ, দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। তবে দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সমাধান না হলেও প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে ভাগাড়টি ঢেকে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে সৈয়দপুর শহরের টার্মিনাল এলাকা থেকে পার্বতীপুর সড়কের ড্রিম প্লাস হোটেলের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ময়লার স্তূপের ওপর বালু ফেলে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং সড়কের ডিভাইডার মেরামত ও রং করার কাজ চলছে।

সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে এই সড়ক দিয়েই রংপুরে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তাঁর আগমন উপলক্ষে পৌরসভার এসব তৎপরতা দেখা গেলেও দীর্ঘদিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর ধরে সৈয়দপুর শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি, হাসপাতাল ও হোটেল থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য ওই স্থানে ফেলা হতো। উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য জমে থাকায় আশপাশের এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াত। এতে সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষ ও আশপাশের বাসিন্দাদের ভোগান্তি পোহাতে হতো। ময়লার ভাগাড়টি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা। তবে দীর্ঘদিনেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দা লতিফুর রহমান বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলার দাবি জানিয়ে আসছি। দুর্গন্ধের কারণে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এত দিন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এখন প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জায়গাটি পরিষ্কার করে বালু ফেলা হচ্ছে।

পথচারী হাসানুর রহমান বলেন, এই সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় দুর্গন্ধে নাক চেপে রাখতে হতো। শহরের বিভিন্ন জায়গার ময়লা এনে এখানে স্তূপ করে রাখা হতো। আজ পৌরসভা কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার করছে। এভাবে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হলে আমাদের চলাচলে সুবিধা হবে।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, জায়গাটি ক্যান্টনমেন্টের। ক্যান্টনমেন্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও সেখানে অল্প পরিসরে ময়লা ফেলেন। এভাবে ময়লা ফেলতে ফেলতে জায়গাটি বড় ডাম্পিং স্টেশনে পরিণত হয়েছে। প্রথমে সেখান থেকে ময়লা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে অবশিষ্ট বর্জ্য পচানোর জন্য তা সমতল করে দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে এই কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না, আমরা এর আগেও তিনবার এ রকম করেছি। ক্যান্টনমেন্ট ও স্থানীয় লোকজন ময়লা ফেলতে ফেলতে এটিকে অনেক বড় ডাম্পিং স্টেশনে পরিণত করেছেন। চাইলেই এটি বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব নয়। আবার ঘন ঘন বর্জ্য অপসারণ করাও সম্ভব নয়।

এটি অবৈধ ডাম্পিং স্টেশন কি না, জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, জায়গাটি ক্যান্টনমেন্টের। এ বিষয়ে ক্যান্টনমেন্ট কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে।

প্রসঙ্গত, সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। সেখান থেকে তিনি রংপুর নগরীর রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। বেলা ১১টার দিকে মন্দির পরিদর্শন শেষে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ফিরে রাজশাহীর উদ্দেশে যাত্রা করবেন। পরে রাজশাহী থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।