প্রধানমন্ত্রীর চোখ এড়াতে বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে ময়লার ভাগাড়
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নীলফামারীর সৈয়দপুরে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা ময়লার ভাগাড় বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। সৈয়দপুর-পার্বতীপুর সড়কের পাশে ড্রিম প্লাস হোটেলের সামনে থাকা এই ভাগাড়ে দীর্ঘদিন ধরে বাসাবাড়ি, হাসপাতাল ও হোটেলের বর্জ্য ফেলা হচ্ছিল। এতে ছড়াচ্ছিল দুর্গন্ধ, দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। তবে দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সমাধান না হলেও প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে ভাগাড়টি ঢেকে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে সৈয়দপুর শহরের টার্মিনাল এলাকা থেকে পার্বতীপুর সড়কের ড্রিম প্লাস হোটেলের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ময়লার স্তূপের ওপর বালু ফেলে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং সড়কের ডিভাইডার মেরামত ও রং করার কাজ চলছে।
সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে এই সড়ক দিয়েই রংপুরে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তাঁর আগমন উপলক্ষে পৌরসভার এসব তৎপরতা দেখা গেলেও দীর্ঘদিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর ধরে সৈয়দপুর শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি, হাসপাতাল ও হোটেল থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য ওই স্থানে ফেলা হতো। উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য জমে থাকায় আশপাশের এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াত। এতে সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষ ও আশপাশের বাসিন্দাদের ভোগান্তি পোহাতে হতো। ময়লার ভাগাড়টি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা। তবে দীর্ঘদিনেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দা লতিফুর রহমান বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলার দাবি জানিয়ে আসছি। দুর্গন্ধের কারণে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এত দিন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এখন প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জায়গাটি পরিষ্কার করে বালু ফেলা হচ্ছে।
পথচারী হাসানুর রহমান বলেন, এই সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় দুর্গন্ধে নাক চেপে রাখতে হতো। শহরের বিভিন্ন জায়গার ময়লা এনে এখানে স্তূপ করে রাখা হতো। আজ পৌরসভা কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার করছে। এভাবে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হলে আমাদের চলাচলে সুবিধা হবে।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, জায়গাটি ক্যান্টনমেন্টের। ক্যান্টনমেন্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও সেখানে অল্প পরিসরে ময়লা ফেলেন। এভাবে ময়লা ফেলতে ফেলতে জায়গাটি বড় ডাম্পিং স্টেশনে পরিণত হয়েছে। প্রথমে সেখান থেকে ময়লা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে অবশিষ্ট বর্জ্য পচানোর জন্য তা সমতল করে দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে এই কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না, আমরা এর আগেও তিনবার এ রকম করেছি। ক্যান্টনমেন্ট ও স্থানীয় লোকজন ময়লা ফেলতে ফেলতে এটিকে অনেক বড় ডাম্পিং স্টেশনে পরিণত করেছেন। চাইলেই এটি বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব নয়। আবার ঘন ঘন বর্জ্য অপসারণ করাও সম্ভব নয়।
এটি অবৈধ ডাম্পিং স্টেশন কি না, জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, জায়গাটি ক্যান্টনমেন্টের। এ বিষয়ে ক্যান্টনমেন্ট কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে।
প্রসঙ্গত, সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। সেখান থেকে তিনি রংপুর নগরীর রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। বেলা ১১টার দিকে মন্দির পরিদর্শন শেষে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ফিরে রাজশাহীর উদ্দেশে যাত্রা করবেন। পরে রাজশাহী থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।


আপনার মতামত লিখুন