রেলপথ মন্ত্রী
দখল হাওয়া রেলের জায়গা যেখানে আছে সেগুলো চিহ্নিত করে দখল মুক্ত করা হবে
সড়ক ও পরিবহণ ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ মো. রবিউল আলম বলেছেন, আমি এখানে দেখেছি এখানে প্রায় ২৪০০ এর মতো আবাসন রয়েছে তবে সেখানে শুধুমাত্র ৯০০ মতো লোক আছে সেহেতু আবাসনের কোন সংকট নেই। এখানে পুরোনো ভবন আবাসন নিয়ে হাউজ ঋণ যে কাটে সেটার থেকে বাহিরে কম টাকায় ভালো বাসা ভাড়া পাওয়া যায় এজন্য অনেকে রেলের আবাসনে থাকতে আগ্রহী না।
রেলওয়ের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ একর জায়গা পৌরসভা দখল করে আছে। রেল কর্তৃপক্ষ ও পৌরসভার মধ্যে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একটি বিরোধ রয়েছে সেটি অনেকটা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আজকের মিটিংয়ে ইউএনও সাহেবসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা ছিলেন এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে যেখানে রেলওয়ের জায়গা দখল রয়েছে তাছাড়াও রেলওয়ে থেকে ব্যক্তি, গোষ্ঠীসহ সকল পর্যায়ের জমি লাইসেন্সের ভিত্তিতে এক বছর পে করতে হয় এবং লিজ দেওয়া বন্ধ রয়েছে।
আমরা প্রথমে রেলের জায়গা রেলের প্রয়োজনে পরে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে চাই। আমরা জায়গাগুলো শনাক্ত করছি এবং তাদের বর্ণনা নির্ধারণ করা হচ্ছে। সেখানে রেলওয়ের জায়গা দখল আছে সেগুলো চিহ্নিত করে দখল মুক্ত করা হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন করেন সড়ক ও পরিবহণ ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
রেলপথ মন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বাংলাদেশের রেলওয়ে যতটা আমূল পরিবর্তন এবং যাত্রীবান্ধব করা সম্ভব সেটি করব। কারণ আমাদের রেল যাত্রার ঐতিহ্য যেমন আছে প্রয়োজনও তা আছে এবং সেটি আরও প্রসারিত করার প্রয়োজন আছে। এটি আমাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার ছিল। আমাদের দুটি যে কারখানা আছে সেটিকে কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায় সেই লক্ষ্যে এখানে আসা। এখানে কোথাও সমস্যা আছে আমরা জেনেছি, সম্ভাবনাময় কি আছে সেটিও জেনেছি।
কিছু কিছু যন্ত্রাংশ তৈরি সরকারি দেখেছি এবং সেটির মান দেখেছি আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। কিন্তু একটি জায়গায় আমার মনে হয়েছে আমি প্রতিমন্ত্রী সচিব একমত হয়েছি এখানে সে কোচ মেরামত হচ্ছে সেটি আরও মান সম্মত হতে হবে। এখানে কিছু পূর্বের মেশিন আছে সেগুলো কোয়ালিটি সম্পূর্ণ মেশিন। কিন্তু আমরা যেগুলো এখনের আদলে করতে চেয়েছি, কোচের কিছু অংশ মেরামত করা, জানালা মেরামত করা সেই জায়গা গুলোতে কোয়ালিটি মান সম্মত করতে কি করা যায়। পূর্বঅঞ্চল এবং পশ্চিমঅঞ্চল রেলওয়ে মিলে প্রায় ৪০০ মতো কোচ মেরামতের অপেক্ষায় আছে। সেগুলো মেরামত করে আবার সচল করতে আমরা দক্ষ কারিগর নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছি।
তিনি রেলওয়ে হাসপাতাল সম্পর্কে বলেন, রেলের পক্ষ থেকে হাসপাতাল পরিচালনায় ডাক্তার, নার্স এবং সেবা নিশ্চিত করতে কঠিন হয় বিধায় আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। দেশের প্রায় ৯ টি রেলওয়ে হাসপাতাল রয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থাপনায় কীভাবে ফাংশন করা যায় সেগুলো আমরা প্রতিষ্ঠিত করব।
তিনি আরও বলেন, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা একটি প্রতিষ্ঠিত ও সুনামধন্য কারখানা ছিল। এটি এক সময়ে দেশকে রিপ্রেজেন্ট করেছে সেই ১৮৬২ থেকে ১৮৭০ এখানে কারখানা হয়েছে। তখন যে প্রয়োজনে হয়েছে সেটি আছে এবং আরও বেড়েছে৷ তবে সেভাবে এই কারখানা ডেভেলপমেন্ট হয়নি। আমি কারখানা পরিদর্শন করে যেটি দেখলাম আমাদের কোচ মেরামত করা অনেক প্রয়োজনীয় যন্ত্রণাংশ এগুলো এক সময়ে ১২ হাজারের মতো পার্স তৈরি হতো এখন সেটি ৬৫৪ থেকে ৬৫৫ এসেছে। এই পার্স এখন আমাদের আমদানি করতে হচ্ছে তবে এখানে অনেক পার্স তৈরি করা সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন