খুঁজুন
, ,

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলা দেখতে ডিমলায় জনতার ঢল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলা দেখতে ডিমলায় জনতার ঢল

গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, শেকড়ের টান আর মানুষের প্রাণের মেলবন্ধন। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলার টানে নীলফামারীর ডিমলায় জড়ো হন হাজারো দর্শক। খেলোয়াড়দের ক্ষিপ্রতা, কৌশল আর রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে মেতে ওঠেন দর্শকেরা। খেলা ঘিরে বসে গ্রামীণ মেলা, জমে ওঠে বিভিন্ন পণ্যের বেচাকেনা। সব মিলিয়ে মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ, যেন ফিরে আসে গ্রামবাংলার চিরচেনা সেই ঐতিহ্যের দিনগুলো।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানি ইউনিয়নের পূর্ণারঝার ফুটব্রিজ-সংলগ্ন মাঠে পূর্ণারঝার যুব সমাজের উদ্যোগে এ হাডুডু টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে আয়োজনটি রূপ নেয় এক গ্রামীণ মিলনমেলায়।

টুর্নামেন্টে আটটি দল অংশ নেয়। বিভিন্ন ধাপের খেলা শেষে ফাইনালে মুখোমুখি হয় কাঁকড়া একাদশ, ঝুনাগাছ চাপানি এবং স্বাগতিক পূর্ণারঝার একাদশ, খালিশা চাপানি। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনাল খেলায় স্বাগতিক পূর্ণারঝার একাদশ ২৬ পয়েন্ট অর্জন করে বিজয়ী হয়। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ কাঁকড়া একাদশ অর্জন করে ১৪ পয়েন্ট। টুর্নামেন্টে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন বিজয়ী দলের খেলোয়াড় টাইগার সেলিম।

খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠসংলগ্ন এলাকায় বসে গ্রামীণ মেলা। বুট, বাদাম, চানাচুর, জিলাপি ও মিষ্টিসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। পাশাপাশি বসে নানা ধরনের অস্থায়ী দোকান। খেলা দেখতে আসা দর্শনার্থীদের ভিড়ে এসব দোকানেও চলে বেচাকেনা। খেলাধুলার উত্তেজনার পাশাপাশি খাবারের দোকান ও মেলার আমেজে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষ খেলা উপভোগের পাশাপাশি মেলা ঘুরে কেনাকাটা ও আড্ডায় মেতে ওঠেন।

খেলা শেষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খালিশা চাপানি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মঈনুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিমলা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক কাজী হাবিবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খালিশা চাপানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান সরকার, সাবেক চেয়ারম্যান সামছুল হক হুদা, খালিশা চাপানি ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মো. ওবায়দুর রহমান, ডিমলা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আয়েশা সিদ্দিকা, ইউপি সদস্য সেলিমুর রহমান, গোল্ডেন এডুকেয়ার হোম স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান, ইউপি সদস্য সামিউল ইসলাম শিমুল, সমাজসেবক তালিমুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আতাউর রহমান আসিক, সমাজসেবক ওহায়দুর রহমানসহ অনেকে।

খেলা দেখতে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। মাঠের চারপাশে ভিড় করে দর্শকেরা উপভোগ করেন খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিশেষ করে নারী দর্শকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দর্শনার্থীরা জানান, এমন আয়োজন গ্রামীণ মানুষের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী খেলাটির প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ বাড়াবে। তাঁরা প্রতিবছর এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের আকাশকুড়ি গ্রামের খলিলুর রহমান বলেন, ‘কালের বিবর্তনে ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলা হারিয়ে যেতে বসেছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোররা খেলাটির নামও ভুলতে বসেছে। ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে এমন আয়োজনের বিকল্প নেই।’

বাঘেরপুল গ্রামের গৃহবধূ বিলকিস আক্তার বলেন, ‘এ খেলাকে কেন্দ্র করে গ্রামের তরুণেরা বেশ কিছুদিন ধরে অনুশীলন করেছে। তাদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। এমন আয়োজন গ্রামের মানুষের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।’

স্থানীয় জুলহাস হুসেন বলেন, ‘তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত রাখলে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকবে এবং মাদক থেকে দূরে থাকতে পারবে। আমরা তরুণদের এই নান্দনিক খেলা বেশ উপভোগ করেছি। এমন সুন্দর আয়োজন প্রতিবছর করা প্রয়োজন।’

আয়োজক কমিটির সদস্য আনারুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রামবাংলার একসময়ের জনপ্রিয় খেলা হাডুডু এখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। একসময় গ্রামের কাঁচা রাস্তার পাশে, মাঠে, বাগানে কিংবা খোলা জায়গায় উৎসবমুখর পরিবেশে এ খেলা অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু কালের আবর্তে সেই চেনা দৃশ্য এখন আর তেমন দেখা যায় না। ঐতিহ্যবাহী খেলাটিকে টিকিয়ে রাখা এবং নতুন প্রজন্মকে এর প্রতি আগ্রহী করে তুলতেই স্থানীয়দের নিয়ে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।’

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. মঈনুল হক বলেন, ‘আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলা হারিয়ে যেতে বসেছে। এমন উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমি আয়োজকদের সাধুবাদ জানাই এবং প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছি।’

হাডুডু শুধু একটি খেলা নয়, এটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম দেশীয় খেলাধুলার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়, তরুণেরা পায় সুস্থ বিনোদনের ক্ষেত্র, আর গ্রামীণ মানুষ ফিরে পায় একসঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার উপলক্ষ। নিয়মিত এমন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা গেলে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ ক্রীড়া ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।

 

শত বছরের ঐতিহ্যে দাঁড়িয়ে কেরামতিয়া জামে মসজিদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ
শত বছরের ঐতিহ্যে দাঁড়িয়ে কেরামতিয়া জামে মসজিদ

ইতিহাস, ঐতিহ্য আর আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধনে রংপুর নগরীর বুকে স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে কেরামতিয়া জামে মসজিদ। শত বছরেরও বেশি সময় ধরে এই মসজিদ শুধু মুসল্লিদের ইবাদতের স্থান নয়, বরং উত্তরাঞ্চলে ইসলাম প্রচার, সুফি সাধনা ও ঐতিহাসিক স্থাপত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। মোগল স্থাপত্যরীতির সঙ্গে বঙ্গীয় নির্মাণশৈলীর মিশেলে গড়ে ওঠা মসজিদটি আজও ধর্মপ্রাণ মানুষের পাশাপাশি ইতিহাস-ঐতিহ্যপ্রেমীদের আকর্ষণ করে।

রংপুর মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র কাচারি বাজারের অদূরে আদালত চত্বর পেরিয়ে দক্ষিণ দিকে এগোলেই চোখে পড়ে ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদ। পাশেই শ্যামাসুন্দরী খাল, আর মুন্সিপাড়ার বিস্তৃত প্রাঙ্গণে মসজিদটির অবস্থান। নগরীর ব্যস্ততার মাঝেও এর পুরোনো স্থাপত্য, গম্বুজ ও অলংকরণ যেন অতীতের ইতিহাসকে আজও বহন করে চলেছে।

ইসলাম প্রচারক শাহ কারামত আলী জৌনপুরীর স্মৃতিবিজড়িত

কেরামতিয়া জামে মসজিদের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইসলাম প্রচারক শাহ কারামত আলী জৌনপুরী (রহ.)-এর নাম। ১৮০০ সালের ১২ জুন ভারতের উত্তর প্রদেশের জৌনপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে রংপুর অঞ্চলে আসেন এই ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর উদ্যোগে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয় বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।

তাঁর নাম অনুসারেই মসজিদটির নামকরণ করা হয় কারামতিয়া জামে মসজিদ। স্থানীয় মানুষের কাছে এটি কেরামতিয়া মসজিদ নামেই বেশি পরিচিত। রংপুর ও আশপাশের অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের পাশাপাশি তাঁর উদ্যোগে মসজিদ, মাদরাসা, খানকা ও বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে বলে জানা যায়।

শাহ কারামত আলী জৌনপুরী (রহ.)-এর ধর্মীয় জীবন, প্রচারকাজ ও আধ্যাত্মিক সাধনা ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নানা কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। ভক্তদের কাছে এসব ঘটনা তাঁর বুজুর্গি ও কারামতের স্মারক হিসেবে সমাদৃত। তাঁর জীবন ও কর্মের স্মৃতি ধারণ করে মসজিদটি আজও ধর্মীয় ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।

তিন গম্বুজে ফুটে উঠেছে স্থাপত্যের সৌন্দর্য

কেরামতিয়া জামে মসজিদের অন্যতম আকর্ষণ এর তিনটি গোলাকার গম্বুজ। মোগল স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে স্থানীয় নির্মাণশৈলীর সমন্বয়ে তৈরি এই স্থাপনাটির নকশায় রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। গম্বুজগুলোর নিচের অংশে অলংকরণ, পদ্মফুলের নকশা এবং কলসাকৃতির চূড়ার ব্যবহার মসজিদটির সৌন্দর্য বাড়িয়েছে।

মসজিদের প্রতিটি কোণে রয়েছে অষ্টভুজাকৃতির স্তম্ভ। গম্বুজগুলো খিলান ও পেনডেন্টিভের সাহায্যে নির্মিত। দেয়াল, প্রবেশদ্বার ও খিলানের অভ্যন্তরীণ অংশে লতাপাতা, ফুল এবং বিভিন্ন অলংকারের নকশা দেখা যায়। মেহরাবের কারুকাজ ও স্তম্ভের নকশায়ও রয়েছে শিল্পনৈপুণ্যের পরিচয়।

ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, মসজিদটির আয়তন প্রায় ৪২ ফুট বাই ১৩ ফুট। এর দেয়ালগুলো বেশ পুরু, যা পুরোনো স্থাপত্যের নির্মাণশৈলীর পরিচয় বহন করে। সীমিত পরিসরের মধ্যেও গম্বুজ, খিলান, স্তম্ভ ও অলংকরণের সমন্বয়ে স্থাপনাটিতে ফুটে উঠেছে আভিজাত্য।

মসজিদের পাশে শায়িত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব

শাহ কারামত আলী জৌনপুরী (রহ.) ১৮৭৩ সালের ৩০ মে ইন্তেকাল করেন। প্রচলিত ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, তাঁকে মসজিদের সামনেই সমাহিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় জমিদার আলা মিয়া মসজিদ ও সমাধির উন্নয়ন ও পুনর্নির্মাণে উদ্যোগ নেন বলে জানা যায়।

মসজিদের সম্প্রসারণের ফলে তাঁর সমাধি বর্তমানে মূল স্থাপনার পূর্ব দিকে বারান্দার কাছাকাছি দেয়ালঘেরা একটি কক্ষে অবস্থিত। ধর্মীয় শ্রদ্ধা থেকে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ সেখানে আসেন। স্থানীয়দের মধ্যে তাঁর মাজার জিয়ারত ও মানত করার প্রচলনও রয়েছে।

ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব

ইসলামিক ফাউন্ডেশন রংপুরের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর জেলার আটটি উপজেলা, তিনটি পৌরসভা ও একটি সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ৫ হাজার ১০৬টি মসজিদ রয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৮৫৩টি জামে মসজিদ এবং ২৫৩টি পাঞ্জেগানা মসজিদ। বিপুলসংখ্যক মসজিদের মধ্যে কেরামতিয়া জামে মসজিদ ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও স্থাপত্যবৈশিষ্ট্যের কারণে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বর্তমানে মসজিদটির কিছু সংস্কারকাজ চলছে। তবে পুরোনো স্থাপনার ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে সংস্কার করা জরুরি। কারণ, একটি ঐতিহাসিক মসজিদ কেবল ইট-পাথরের স্থাপনা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি, স্থানীয় ইতিহাস এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান সাংস্কৃতিক স্মৃতি।

শাহ কারামত আলী জৌনপুরী (রহ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত কেরামতিয়া জামে মসজিদ তাই রংপুরের অতীত ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। সময়ের পরিবর্তনেও এর তিন গম্বুজ, কারুকাজ ও আধ্যাত্মিক আবহ মনে করিয়ে দেয় উত্তরাঞ্চলে ইসলাম প্রচারের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের সমৃদ্ধ অধ্যায়। যথাযথ সংরক্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক নিদর্শনকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব।

 

 

প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান

শিক্ষক কিংবা অন্য পেশায় থেকে সাংবাদিকতার সুযোগ নেই

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ
শিক্ষক কিংবা অন্য পেশায় থেকে সাংবাদিকতার সুযোগ নেই

শিক্ষকতা কিংবা অন্য কোনো পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সাংবাদিকতা করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম। তিনি বলেছেন, সাংবাদিকতা একটি স্বতন্ত্র ও দায়িত্বশীল পেশা। এ পেশায় যুক্ত ব্যক্তিদের পেশাগত আচরণবিধি ও নীতিমালা মেনে চলা জরুরি।

বুধবার সকালে তেঁতুলিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের আয়োজনে ও উপজেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব (যুগ্ম সচিব) আব্দুস সবুর এবং তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লাইছুর রহমান।

বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম বলেন, অন্য পেশার সঙ্গে যুক্ত থেকে একই সময়ে সাংবাদিকতা করা পেশাগত শৃঙ্খলা ও নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শিক্ষকরা সরকারের বেতনভুক্ত, তাই তাঁদের অন্য পেশা বা সাংবাদিকতা করার সুযোগ নেই। সাংবাদিকতা শুধু একটি পদবি কিংবা পরিচয়পত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, সত্যতা নিশ্চিত করা, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সাংবাদিকদের পালন করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত অনেকেই সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ শিক্ষকতা করছেন, কেউ ব্যবসা করছেন, আবার কেউ অন্য পেশায় যুক্ত থেকেও সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। এ ধরনের দ্বৈত পেশা সাংবাদিকতার পেশাগত স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বলেন, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে পেশাগত পরিচয় ও দায়িত্বের বিষয়টি স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে একজন সাংবাদিককে ব্যক্তিগত, পেশাগত কিংবা ব্যবসায়িক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের সময় তথ্যের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এর সঙ্গে দায়িত্বশীলতাও জড়িত।

সভায় বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব (যুগ্ম সচিব) আব্দুস সবুর বলেন, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়, প্রভাব বিস্তার কিংবা অন্য কোনো স্বার্থ হাসিল করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পেশাদার সাংবাদিকতার মান উন্নয়নে সাংবাদিক, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, সাংবাদিকতার নীতিমালা ও আচরণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীলভাবে সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার কথাও বলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা আদায় কিংবা প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম নয়; বরং জনগণের কাছে সত্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের পেশাগত সততা, নিরপেক্ষতা ও নৈতিকতা বজায় রাখা অপরিহার্য।

মকবুল হত্যা মামলায় তিন আসামি গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
মকবুল হত্যা মামলায় তিন আসামি গ্রেপ্তার

নীলফামারীর জলঢাকায় জমি ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে মকবুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় তিন আসামিকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে এসআরবি- ১৩ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে রাতে নরসিংদী জেলার মাধবদী এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জলঢাকা উপজেলার পূর্ব বালাগ্রাম আদর্শপাড়ার আবু সাঈদ (২৭), জাহাঙ্গীর আলম (৩০) ও তহিদুল ইসলাম (২৬)। তাঁরা ওই হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৫, ৬ ও ৭ নম্বর আসামি।

এসআরবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-১৩-এর নীলফামারী ক্যাম্প ও এসআরবি-১১-এর নরসিংদী ক্যাম্পের একটি যৌথ দল অভিযান চালায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার সামনে থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মাধবদী থানার পাঁচদোনা মোড় এলাকা থেকে আবু সাঈদকে এবং রাতে মাধবদী নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন মকবুল হোসেন (৫৬)। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে প্রথমে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই মহির উদ্দিন বাদী হয়ে জলঢাকা থানায় হত্যা মামলা করেন।

এসআরবি আরও জানায়, এ মামলার চার নম্বর আসামি আনারুল ইসলামকে (৫০) গত ২৯ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সর্বশেষ তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।