দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য একটি সাধারণ, কিন্তু উপেক্ষিত হজম সংক্রান্ত সমস্যা যা নানাভাবে প্রভাব ফেলে। যদিও বেশিরভাগ মানুষই মাঝে মাঝে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য আরও বেশি স্থায়ী এবং এটি কোনো অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। বেশিরভাগ মানুষই সময়মতো সমস্যাটি শনাক্ত করতে পারেন না। তাই এর কারণগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য কী?
দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বলতে বোঝায় অনিয়মিত মলত্যাগ বা মলত্যাগে অসুবিধা, যা বেশ কয়েক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে চলতে থাকে। চিকিৎসাগতভাবে, এটিকে প্রতি সপ্তাহে তিনবারের কম মলত্যাগ হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, যার সঙ্গে শক্ত মল, মলত্যাগের জন্য চাপ দেওয়া বা অসম্পূর্ণ মলত্যাগের অনুভূতির মতো উপসর্গ থাকে।
সাময়িক হজমের জড়তার মতো নয়, দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী সমস্যায় পরিণত হতে পারে এবং এটি ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS)-এর মতো রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, বিশেষ করে কোষ্ঠকাঠিন্য-প্রধান উপপ্রকার (IBS-C)-এর ক্ষেত্রে।
দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের সাধারণ কারণসমূহ
আমেরিকান গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের জার্নাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি-তে প্রকাশিত একটি বিশদ পর্যালোচনা অনুসারে, দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ অনেক হয়ে থাকে। এটি সাধারণত জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন কারণের সম্মিলিত ফল। দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের কিছু সাধারণ কারণ নিচে দেওয়া হলো-
কম আঁশ গ্রহণ
আঁশবিহীন খাদ্য এর অন্যতম সাধারণ কারণ। আঁশ মলের পরিমাণ বাড়ায় এবং অন্ত্রের মধ্য দিয়ে সহজে যেতে সাহায্য করে। যদি আপনার দৈনন্দিন খাদ্যে আঁশ কম এবং শর্করা বেশি থাকে, তবে দীর্ঘমেয়াদে আপনার দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
অপর্যাপ্ত তরল গ্রহণ
মল নরম করতে পানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এশিয়ান জার্নাল অফ মেডিসিন অ্যান্ড হেলথ-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, কম তরল পান করা বা ডিহাইড্রেশনের কারণে মল শক্ত ও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, যা ত্যাগ করা কঠিন হয়।
নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন
শারীরিক কার্যকলাপ অন্ত্রের সংকোচনকে উদ্দীপিত করে। নড়াচড়ার অভাবে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যেতে পারে, যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।
মলত্যাগের তাগিদ উপেক্ষা করা
জার্নাল অফ গ্লোবাল হেলথ-এ প্রকাশিত ২০২৪ সালের একটি গবেষণা অনুসারে, নিয়মিত মলত্যাগে বিলম্ব করলে সময়ের সাথে সাথে স্বাভাবিক মলত্যাগের অভ্যাস ব্যাহত হতে পারে, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে।
ওষুধ
কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে ব্যথানাশক, বিষণ্ণতারোধী ওষুধ, ক্যালসিয়াম বা অ্যালুমিনিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড এবং আয়রন সাপ্লিমেন্ট।
হরমোনজনিত এবং বিপাকীয় অবস্থা
হাইপোথাইরয়েডিজমের মতো অবস্থা বিপাক এবং হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হয়।
স্নায়বিক রোগ
‘ব্রেইন অ্যান্ড বিহেভিয়ার’ জার্নালে প্রকাশিত ২০২৬ সালের একটি গবেষণা অনুযায়ী, পারকিনসন্স ডিজিজ বা মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের মতো স্নায়ুর কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে এমন রোগ মলত্যাগের নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
গঠনগত সমস্যা
কোলন বা রেকটামে কোনো প্রতিবন্ধকতা বা অস্বাভাবিকতা থাকলে তা মলত্যাগে শারীরিকভাবে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।














