খুঁজুন
, ,

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আঞ্চলিক জোট গঠনে জোর দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আঞ্চলিক জোট গঠনে জোর দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ লক্ষ্য অর্জনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনের অন্তরা হলে ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (এফএসডিএস) উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেমিনারের শিরোনাম ছিল ‘রোহিঙ্গা সংকট: করণীয়—টেকসই প্রত্যাবাসন ও আঞ্চলিক সমাধানের পথে’।

এফএসডিএসের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর (অব.)-এর সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রীর পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। এ জন্য চীন, আসিয়ান, জাতিসংঘ, জাপানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে কৌশলগত আঞ্চলিক জোট গঠন এবং সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সম্প্রতি জাপান সরকারের মিয়ানমারবিষয়ক জাতীয় পুনর্মিলন-সংক্রান্ত বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাসাকাওয়া বাংলাদেশ সফর করেছেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ও তিনি তাঁর সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। জাপান সরকার এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। এ ছাড়া চলতি মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের কথা রয়েছে। ওই সফরে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আরও আলোচনা হবে।

রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানে আইনি সরকারের পাশাপাশি বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে আরাকান আর্মির (এএ) হাতে। এ পরিস্থিতিতে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক মাধ্যম ব্যবহার করে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। তবে শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনই বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। চূড়ান্ত বিকল্প হিসেবে সব পথ উন্মুক্ত রেখে কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রাখা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, রোহিঙ্গা সংকট কেবল মানবিক সমস্যা বা দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়; এটি জাতীয় স্বার্থ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে সংকটটির বহুমুখী জটিলতা এবং মিয়ানমারের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এখন সংকট ব্যবস্থাপনা থেকে কৌশলগত কূটনীতিতে, অস্থায়ী ত্রাণ সহায়তা থেকে টেকসই প্রত্যাবাসনে এবং বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত জাতীয় কৌশলের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। রোহিঙ্গাদের মানবিক অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চলতি বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রত্যাবাসন ইস্যুটি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। চীন, জাপান, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্ট দেশ ও পক্ষগুলোর সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত টেকসই প্রত্যাবাসনের পথ বের করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সেমিনারে তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রথম প্রবন্ধে মিয়ানমার ও রাখাইনের পরিবর্তিত বাস্তবতায় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আলী আশরাফ। দ্বিতীয় প্রবন্ধে রাখাইনের উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা করেন অধ্যাপক শাহাব এনাম খান। তৃতীয় প্রবন্ধে আঞ্চলিক কূটনীতি ও বাংলাদেশের কৌশলগত পথ নিয়ে প্রস্তাব তুলে ধরেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাফায়াত আহমদ, পিএইচডি (অব.)।

সেমিনারে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

পেছন থেকে ভিডিও করতে অনেকেই পাপারাজ্জিদের টাকা দেন: সালমান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
পেছন থেকে ভিডিও করতে অনেকেই পাপারাজ্জিদের টাকা দেন: সালমান

বলিউডে পাপারাজ্জিদের সংস্কৃতি বহু পুরনো। তবে সাম্প্রতি তাদের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে বিরক্ত শোবিজ তারকারা। গেল ১৯ সেপ্টেম্বর ‘বিগ বস ২০’-এর ‘উইকেন্ড কা ভ্যার’ পর্বে অভিনেত্রীদের অনুমতি ছাড়া আপত্তিকর অ্যাঙ্গেলে ছবি-ভিডিও ধারণ করার প্রবণতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সালমান খান।

তবে গত শনিবার ‘উইকেন্ড কা ভ্যার’ পর্বে পাপারাজ্জিদের ছবি-ভিডিও ধারণ বিস্ফোরক মন্তব্য করেন সালমান খান। তাঁর দাবি, অনেক সময় তারকারা নিজেরাই পাপারাজ্জিদের ডেকে টাকা দিয়ে পেছন থেকে এমন ভিডিও তৈরি করান! তবে যাঁরা এতে স্বচ্ছন্দ নন, তাঁদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান না জানালে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভাইজান।

বিগ বসের মঞ্চ থেকে সালমান জানান, এর আগেও তিনি সতর্ক করেছিলেন কিন্তু কিছু পাপারাজ্জি বিষয়টিকে মজা হিসেবে নিচ্ছেন। এবং এ ধরনের ছবি তোলার প্রবণতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘কিছু নারী ও পুরুষ সেলিব্রিটি নিজে থেকে পাপারাজ্জিদের ডেকে ছবি তোলান এবং এর জন্য তাঁদের পেমেন্টও করেন। যাঁদের ইচ্ছা, তাঁরা ছবি তুলতেই পারেন তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু যাঁদের আপত্তি আছে তাঁদের ক্ষেত্রে যেন সীমা লঙ্ঘন করা না হয়।’

উল্লেখ্য, আগামী ঈদে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সালমানের নতুন সিনেমা ‘মনস্টার’।

 

সমস্যার শেষ নেই ঢাকা সিটি করপোরেশনের সংগীত শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
সমস্যার শেষ নেই ঢাকা সিটি করপোরেশনের সংগীত শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে

মাস খানেক আগে এক সংগীতশিল্পীর সঙ্গে কথা হচ্ছিল। জানালেন তিনি সমাজের অনগ্রসর শিশুদের সংগীত শিক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষকতা করেন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে এরকম ১৭টি সংগীত শিক্ষাকেন্দ্র। ৫টি উত্তরে এবং ১২টি দক্ষিণে। ভর্তি ফি ২৫০ টাকা। মাসে বেতন ১০০ টাকা। দুর্মূল্যের বাজারে এত স্বল্প খরচে নাচ-গান শেখার সুযোগ যেন অলীক কল্পনা। তাই আগ্রহ জন্মায়।

এক গনগনে দুপুরে অফিস থেকে বেরিয়ে পড়ি। গন্তব্য বাসাবো সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্রের সংগীত শিক্ষা কেন্দ্র। যথাস্থানে পৌঁছেও খটকা লাগছিল। কেননা আশাপাশে দেখছিলাম না কোনো সাইনবোর্ড বা ব্যানার। ততক্ষণে ওই কেন্দ্রের এক শিক্ষকের সঙ্গে দেখা। জানালেন শুধু বাসাবো না, অধিকাংশ কেন্দ্রে-ই সাইনবোর্ড না থাকায় সামনে দিয়ে গেলেও সংগীত শিক্ষা কেন্দ্রগুলোর অস্তিত্ব বোঝার উপায় নেই। জানা গেল, রয়েছে আরও হরেক রকম প্রতিবন্ধকতা। প্রচারণার অভাব, দেওয়া হয় না সার্টিফিকেট, জায়গা সংকট, অনুপযুক্ত পরিবেশ, শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার কম, করপোরেশনের উদাসীনতা, কয়েকটি কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থগিত। রয়েছে বৈষম্যও। সেসব উঠে ঢাকা মেইলের প্রতিবেদনে। সংগীত শিক্ষা কেন্দ্রগুলোর সমস্যাগুলো নিয়ে কথা হয়েছে দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গেও। তিন পর্বের প্রতিবেদনের শেষ পর্বে থাকছে করপোরেশনের বক্তব্য। আজ প্রকাশ পেল প্রথম পর্ব।

সাইনবোর্ড নেই

সরেজমিনে পরিদর্শন করে এবং কথা বলে জানা গেল কারওয়ান বাজার আব্দুল হামিদ কমিউনিটি সেন্টার এবং রায়েরবাজার কমিউনিটি সেন্টার কেন্দ্রের সংগীত শিক্ষা কেন্দ্রে সাইনবোর্ড রয়েছে। আর কোনো কেন্দ্রে নেই। মিরপুরের ২ নং ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারের সংগীত শিক্ষা কেন্দ্রে সাইনবোর্ড থাকলেও চোখে পড়ে না। শিক্ষক শিখা কর্মকার (ছদ্মনাম) বলেন, ‘আমাদের সাইনবোর্ড এমনভাবে টাঙানো যে লোকজন দেখেও না। সামনে দিয়ে গাড়ি-ঘোড়া থাকে। বড় সাইনবোর্ড হলে ভালো হতো। এক বছর আগে দেবে বলেছিল। আজও পাইনি।’ মহাখালী কমিউনিটি সেন্টারের সংগীত শিক্ষাকেন্দ্রের সাইনবোর্ড নামিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানকার শিক্ষক রাবেয়া হাসান (ছদ্মনাম) বললেন, ‘গেল বছর ছায়ানটে হামলা ও আগুন দেওয়া হয়। তখন আতংকে সাইনবোর্ড নামিয়ে ফেলি। তবে এরইমধ্যে বড় করে সাইনবোর্ড বানাতে দিয়েছি।’ ফকির চাঁন (নারিন্দা) সরদার সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র সংগীত শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক নলিনী দাস (ছদ্মনাম) বলেন, ‘সাইনবোর্ড না থাকায় বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই এখানে গানের স্কুল আছে।’ বাকি কেন্দ্রগুলোতেও সাইনবোর্ডের অস্তিত্ব পাওয়া গেল না। তবে শিক্ষকরা প্রয়োজনীয়তা বোধ করেন। মহানগর মহিলা কলেজ সংগীত শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক রাবেয়া হাসান (ছদ্মনাম) বলেন, ‘আমাদের একটি সাইনবোর্ড দরকার। আগেরটি নেই।’ যাত্রাবাড়ী সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র সংগীত শিক্ষাকেন্দ্রে দেয়ালে লেখা একটি সাইনবোর্ড রয়েছে। করপোরেশনের উদাসীনতার উদাহরণ পাওয়া গেল হাজী জুম্মন সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্রের সংগীত শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক মাহবুব আলমের (ছদ্মনাম) কথায়। তিনি বলেন, ‘প্রচারণা নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেই করপোরেশনের। সাইনবোর্ড চাইলে বলে লাগান। কিন্তু খরচটা দেবে কে?’ প্রশ্ন রাখেন এই শিক্ষক।

প্রচারণার অভাব

স্বল্প খরচে নাচ-গান শেখার সুযোগ সত্ত্বেও কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আশানুরূপ না। জানা গেল, এর অন্যতম কারণ প্রচারণার অভাব। আগে সিটি করপোরেশন থেকে লিফলেট বিতরণ করা হতো। অনেক বছর ধরে সেটি বন্ধ। যাত্রাবাড়ী কেন্দ্রের সংগীত শিক্ষক শাফায়েত আলী (ছদ্মনাম) বলেন, ‘অনেক বছর আগে একবার লিফলেট দিয়েছিল। সেগুলো আশেপাশের স্কুলে বিলি করায় ইতিবাচক ফল পাই। পরে আর দেওয়া হয়নি। প্রচারণাও চালাতে পারছি না।’ মহানগর মহিলা কলেজ কেন্দ্রের চিত্রও একই। সেখানকার শিক্ষক রাবেয়া হাসান বলেন, ‘কয়েক বছর আগে করপোরেশন থেকে লিফলেট দিয়েছিল। সেগুলো কয়েক বছর বিলি করেছি। আর দেওয়া হয় না।’ বাকি কেন্দ্রগুলোতেও প্রচারণা কার্যক্রম নেই বলে জানালেন সংশ্লিষ্ট শাখার শিক্ষকরা। তবে শিক্ষকদের কেউ কেউ নিজ দায়িত্বে প্রচারণা চালান। রাবেয়া হাসান বলেন, ‘বছরের শুরুতে আশেপাশের স্কুলগুলোতে যাই। অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলি। নিজ উদ্যোগে প্রচারণার কাজ সারি। শুধু কারওয়ার বাজার কেন্দ্রে সদ্য প্রকাশিত লিফলেট পাওয়া গেল।

মেলে না সার্টিফিকেট

সংগীত শিক্ষা কেন্দ্রগুলোর বয়স দুই দশকের বেশি। কিন্তু কয়েকটি কেন্দ্র বাদে শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দিতে পারেনি কেউ। মিরপুর ও মহাখালী কেন্দ্রে চলতি বছর প্রথমবার দেওয়া হয়েছে সনদপত্র। বছর চর-পাঁচেক আগে সূচনা কমিউনিটি সেন্টার সংগীত শিক্ষা কেন্দ্রে একবার দেওয়া হয়েছিল। গেল বছর কারওয়ান বাজার কেন্দ্রে দেওয়া হয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলো প্রতিষ্ঠার পর একবারও সনদপত্র তুলে দিতে পারেনি শিক্ষার্থীদের হাতে। ফলে অনেকেই স্কুলমুখো হচ্ছে না বলে জানালেন মহাখালী কেন্দ্রের শিক্ষক মিথিলা ইসলাম (ছদ্মনাম)। বললেন, ‘১৫ বছরে একবার সার্টিফিকেট দিয়েছে আমাদের এখানে। সার্টিফিকেট দেয় না বলে ছাত্র-ছাত্রীরা চলে যাচ্ছে।’ সনদপত্রের বিকল্প হিসেবে কোনো কেন্দ্রে সমাজকল্যাণের প্যাডে দেওয়া হচ্ছে প্রত্যয়ন পত্র। হাজী জুম্মন সংগীত শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক মাহবুব আলম বলেন, ‘আমাদের এখানে একবারও সার্টিফিকেট দেওয়া হয়নি। কারও প্রয়োজন হলে সমাজকল্যাণের প্যাডে প্রত্যয়ন পত্রের মতো দিয়ে কাজ চালাই।’

অনুপযুক্ত পরিবেশ ও জায়গা সংকট

সংগীত শিক্ষাকেন্দ্রগুলোর যেন সর্বাঙ্গে ব্যধি। কোনোটাই গুরুতর কম না। এরমধ্যে অন্যতম অনুপযুক্ত পরিবেশ ও জায়গা সংকট। নেই শিক্ষকদের আলাদা বসার কক্ষ। মিরপুরের শাখাটি পুরনো ভবনের তিন তলায় অবস্থিত। শিক্ষক শিখা বলেন, ‘আলো বাতাস তেমন আসে না। ভ্যাপসা গরম। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। শিক্ষার্থীরা স্বস্তিতে ক্লাস করতে পারে না। অভিভাবকদেরও নেই বসার উপযুক্ত জায়গা।’। মহাখালী কেন্দ্রের পরিবেশও উপযুক্ত না বলে জানালেন রাবেয়া হাসান। বললেন, ‘তিন তলায় ক্লাস হয়। প্রচুর গরম। বাচ্চাদের কষ্ট হয়। এসি দিতে চেয়েছে। দেড় বছরেও দেয়নি। আমাদের খোলামেলা জায়গা দরকার। সূচনা কমিউনিটি সেন্টারে অবস্থিত কেন্দ্রের ক্লাস হয় এক তলায়। ভেতরের পরিবেশ তুলনামূলক ভালো। তবে বাইরের পরিবেশ অনুপযুক্ত বলে জানালেন শিক্ষক সূচনা (ছদ্মনাম)। বললেন, ‘কক্ষ আগে অগোছালো ছিল।

এখন ঠিকঠাক। তবে যাতায়াতের রাস্তা ভালো না। বাইরের পরিবেশ অনুপযুক্ত।’ জায়গা সংকট ও উপযুক্ত পরিবেশের অভাব কারওয়ান বাজারের আব্দুল হামিদ কমিউনিটি সেন্টারের কেন্দ্রেও। শিক্ষক কোহিনুর ইসলাম (ছদ্মনাম) বললেন, ‘কমিউনিটি সেন্টারে বিভিন্ন সরকারি কাজ চলে। আমাদের ক্লাস হয় সচিবের কক্ষে। শুক্রবার ছুটির দিন বলে সমস্যা হয় না। কিন্তু বৃহস্পতিবার খোলা থাকে। সেদিন সচিবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকে। তিনি আমাদের জন্য দুপুর ২টায় চলে যান। নিজস্ব জায়গা থাকলে। সমস্যাগুলো হতো না। রায়ের বাজারের কেন্দ্রটির সংকট যেন আরও। শিক্ষক সুব্রত হাওলাদার (ছদ্মনাম) বলেন, ‘শিক্ষকদের আলাদা জায়গা নেই। তাছাড়া কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের অনুষ্ঠান থাকলে হইচইয়ে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। তখন আমরাও বসার জায়গা পাই না। যাত্রাবাড়ী কেন্দ্রের পরিবেশ গুমোট। ঢুকতেই নাক কুঁচকে গেল ভ্যাপসা গন্ধে। গানের ক্লাসরুম অপরিচ্ছন্ন, পুরনো দুটি আলমারি আর চেয়ারের স্তুপ দেখে অনেকটা স্টোররুমের মতো মনে হলো। সেখানেই চলে সংগীত শিক্ষা। শিক্ষকরাও বসেন কক্ষটিতে। বাইরে খোলা স্থানে অপরিষ্কার মেঝেতেই নাচের ক্লাস হচ্ছে। ধলপুর কমিউনিটি সেন্টার কেন্দ্রে কক্ষগুলো বড় হলেও ধুলার আস্তর পড়েছে মেঝেতে। পরিষ্কার করবে এমন কেউ নেই। সেখানেই নাচ ও গান শিখছে একরত্তিরা।

 

জানা গেল দুই-একটি বাদে বাকি কেন্দ্রগুলোও অনুপযুক্ত পরিবেশে ভুগছে। এ অবস্থায় শিক্ষকরা অনুভব করেন নিজস্ব জায়গার প্রয়োজনীয়তা। বাসাবো সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্রের সংগীত শিক্ষাকেন্দ্রের শিক্ষক আশকর আলম (ছদ্মনাম) জানালেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করায় স্কুলটি নিকটস্থ দেব মন্দিরে স্থানান্তর করা হয়। জায়গা বদলের ফলে ছাত্র-ছাত্রী কমে যায়। নিজস্ব জায়গা থাকলে এরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হতো না। বাকি কেন্দ্রের শিক্ষকরাও জায়গা সংকট ও অনুপযুক্ত পরিবেশের কথা জানলেন।

 

তথ্য:ঢাকা মেইল

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা খেলাফত আন্দোলনের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা খেলাফত আন্দোলনের

রিয়াদ বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতিদের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে দলটির প্রধান আমিরে শরিয়ত আল্লামা আবু জাফর কাসেমী ও মহাসচিব মুফতী ফখরুল ইসলাম বলেন, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো যেকোনো হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। তাঁরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তাঁরা আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বেসামরিক মানুষের জানমাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তাঁরা।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বাইতুল্লাহ শরিফ, মসজিদে নববী ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওজা মোবারক শুধু সৌদি আরবের নয়, বরং মুসলিম বিশ্বের সব মুসলমানের সম্পদ। এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুতিদের হামলা থেকে রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নেতাদের সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

এ ছাড়া গতকাল রিয়াদে হামলার ঘটনায় ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের রবিউল উলুম মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষক নিখোঁজ ও কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় দুঃখ ও সমবেদনা প্রকাশ করেন নেতৃবৃন্দ। নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত সন্ধান এবং আহত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব সরকারের যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।