গীতারানীর নির্যাতনকারীদের পুলিশ এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১৩নং গড়েয়া ইউনিয়নের গোপিকান্তপুর গ্রামের ৪ নং  ওয়াডের গীতা রানী (৩০) তার প্রায় ১৫/১৬ বছর পূর্বে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার পলাশবাড়ী (নালপাড়া) গ্রামের হরিপদ বর্মণের সাথে বিয়ে হয় বর্তমানে সে তিন সন্তানের জননী।
দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার ২নংপলাশবাড়ী(নালপাড়া)গ্রামের হরিপদ বর্মণের স্ত্রী গীতা রানীর মুখে পাট খরি দিয়ে মুখে আগুন ও শরীরে গরম পানি ঢেলে দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে তার ভাশুর ভোলাং ও তার পরিবারের লোকজন ।
গত ২৬ আগষ্ট বিকেলে গীতা রানীরকে মাটিতে ফেলে তার মুখে পাট খরি দিয়ে মুখে আগুন দেয় ভোলাংএর স্ত্রী পার্বতী রানী এবং ২৭ আগষ্ট মঙ্গলবার দুপুরে পারিবারিক কলহের জেরে ঝগড়ার একপর্যায়ে হরিপদ বর্মণের বড় ভাবি পার্বতী রানী গরম পানি ঢেলে দেয় গীতা রানীর শরীরে। এ সময় তাকে সহায়তা করে পার্বতীর স্বামী ভোলাং, ভোলাংয়ের অপর ভাই খদেয়া, খদেয়ার স্ত্রী কিরণ এবং ভোলাংয়ের আরেক ভাই থেগারু ও তার স্ত্রী সারথি। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে ঠাকুরগাঁও জেলার ১৩ নং গড়েয়া ইউনিয়নের গোপিকান্তপুর গ্রামের মৃত খেলারামের স্ত্রী ও আহত গীতা রানীর মা যমুনা ও ভাই মিঠু তাদের বাড়ীতে গেলে ভোলাংরা তাদের বাড়ীতে ঢুকতে বাঁধা প্রদান করে এবং বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ।
এ ঘটনা গীতা রানীর বাবার বাড়ীতে জানালে ছোট ভাই ভুপেন চন্দ্র রায় গড়েয়া ৪নং ইউপি সদস্য বেলাল হোসেনকে সাথে নিয়ে ২নংপলাশবাড়ী ইউপি সদস্য ক্ষির মোহন রায় ও মহিলা ইউপি সদস্য ছবিতা রানী রায়কে সংবাদ দিলে ছবিতা রানী সহ এলাকাবাসী আহত গীতা রানীকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে তার ভাইয়ের হাতে তুলে দেয়, ২৭ আগষ্ট মঙ্গলবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের ৯ নম্বর বেডে গীতা রানীকে মুমুর্ষ অবস্থায় ভর্তি করানো হয়।
গীতা রানীর স্বামী হরিপদ বর্মণ বলেন, মঙ্গলবার আমি কাজের সন্ধানে বাড়ির বাইরে ছিলাম। বিকেলে খবর পেলাম, আমার স্ত্রীর শরীরে ভাই-ভাবিরা মিলে গরম পানি না এসিড পানি ঢেলে দিয়েছে তা সঠিক জানিনা। তবে এতে তার শরীর ঝলসে গেছে। ভাই-ভাবিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে পারিবারিক ঝগড়া-বিবাদ চলে আসছে।  আমার স্ত্রীকে একা পেয়ে তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক মঞ্জুর মোর্শেদ জয় বলেন, আহত গীতা রানীর শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ ঝলসে গেছে।
এ ঘটনায় গীতা রানীর ভাই জরুরী সেবা ৯৯৯ য়ে কল দিলে ঘটনার বিস্তারিত শুনে বীরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেন।(২৮ আগষ্ট) গীতা রানীর ভাই ভূপেন চন্দ্র রায় বাদি হয়ে বীরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ।
এ ঘটনাটি এলাকায় সবার মুখেমুখে আলোরণ সৃষ্টি করেছে, এলাকাবাসি ও স্থানীয় লোকজন সকলে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টন্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানার ওসি শাকিলা পারভীন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, গীতা রানী নির্যাতনকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।