চিরিরবন্দরে নিজের রক্ত দিয়ে অন্যের জীবন বাঁচায় যারা!

ধর্ম-বর্ণসহ সকল বিবেধ পিছনে ফেলে নিজের রক্ত দিয়ে অন্যকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে সেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘চিরিরবন্দর ব্লাড ডোনার ক্লাব’ এর এক ঝাঁক তরুন ও যুবক কর্মী।

রক্তের প্রয়োজনে কেউ ফোন করলে তারা নিজেরাই রক্ত দিতে চলে যায় অথবা কাউকে রক্তদানে উৎসাহী করে রক্তের প্রয়োজন মিটিয়ে দেন।

২০১২ইং সালে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ডা. আবু বকর শাহ, ডা. মর্তুজা আল মামুন, ডা. মাজেদুর রহমান ও রোমান সরকার এর পরিচালনায় ‘চিরিরবন্দর ব্লাড ডোনার ক্লাব’ এর প্রায় সাড়ে ৩ শতাধিকেরও অধিক সদস্য দিনাজপুর,ঠাকুরগাঁও,পঞ্চগড়, রংপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে সেচ্ছায় রক্তদান করেছেন। এছাড়াও ‘ব্লাড ডোনার ক্লাব’ এর প্রায় দেড় শতাধিক ডোনার সদস্য ২-৩ বার করে রক্তদান করেছেন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে এদের মধ্যে রক্তদানে অন্যতম ‘ব্লাড ডোনার ক্লাব’ এর প্রতিষ্ঠাতা কৃষিবিদ মন্জুর আলী শাহ্। তিনি এ পর্যন্ত রক্ত দিয়েছেন ২৫ বার। ২৪ বছর বয়সী সোহাগ গাজী,আারিফ বাবু, মোক্তারুল, তুহিন, রনি, এ পর্যন্ত রক্ত দিয়েছেন ২০-২৪ বার। অন্যদিকে ২১ বছর বয়সী ইয়াসিন সেচ্ছায় রক্তদান করেছেন ১৮ বার।

সংগঠনের পরিচালক জাহিদ শাহ্ জানান, কোনো প্রসূতি মায়ের জন্য রক্তদানের ক্ষেত্রে তার নিকটতম আত্মীয়দের এগিয়ে আসা উচিত। প্রসূতি মায়ের আত্মীয় স্বজনদের ভিতর থেকে ওই গ্রুপের রক্ত খোঁজ করে বের করতে হবে। তাহলেই রক্তের কারণে কোনো মায়ের আর মৃত্যু ঝুঁকিতে পড়তে হবে না।

এ ব্যাপারে ওই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা কৃষিবিদ মন্জুর আলী শাহ্  বলেন, আমরা চাই আমাদের দেয়া রক্তে বেঁচে যাক মুমূর্ষ রোগীরা। তাদের এই বেঁচে যাওয়াই আমাদের মনে প্রশান্তি জোগায়। তবে রক্তদানের মত এমন মহৎ কাজে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই কেউ আর রক্তের জন্য মৃত্যুবরণ করবে না।