পঞ্চগড়ে শিক্ষা কর্মকর্তাকে পিটিয়েছে চালক: বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবী

পঞ্চগড় জেলা শিক্ষা অফিসের গাড়ি চালক ইমতিয়াজ আলি ওরফে বাবলা জেলা প্রশিক্ষন সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম কে লাঠি দিয়ে পিটানোর অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় শনিবার সকাল নয়টা হতে জেলার দুইশত শিক্ষক নিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম পঞ্চগড় বিপি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষন কক্ষে প্রশিক্ষন চালিয়ে আসছিল । দুপুর একটা কুড়ি মিনিটের দিকে ঐ চালক বাবলা প্রশিক্ষন কক্ষে প্রবেশ করে আমিনুল ইসলাম কে রাগান্বিত উচ্চস্বরে গালাগাল দিতে থাকে । কথোপথনের এক পর্যায়ে শিক্ষা অফিসের ডন বলে খ্যাত চালক (বাবলা) জেলা প্রশিক্ষন সমন্বয়কারী আমিনুল ইসলামকে বেধরক লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে বলে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের জানায় ঐ শিক্ষা কর্মকর্তা । এদিকে প্রশিক্ষনরত শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে চালক বাবলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শ্বাস্তির দাবী জানিয়েছে। বাবলা শিক্ষা অফিসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বলেও শিক্ষদের অভিযোগ রয়েছে।
প্রশিক্ষন নিতে আসা আটোয়ারী উপজেলার রাধানগড় ইউনিয়নের হাজী শাহার আলি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলে বাবলা একজন চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারি চালক তিনি কেন আমাদের নাস্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে খবরদারী করবেন? তিনি থাকবে গাছতলায়। এর আগেও বাবলা শিক্ষকদের সাথে অশোভনীয় আচরন করেছে।
তেঁতুলিয়া উপজেলার রনচন্ডী উচ্চ বিদ্যালয় এর সহকারী শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে আমাদের স্যার কে মারধর করার ঘটনায় আমরা শিক্ষক সমাজ এর পক্ষ হতে বিচার চাচ্ছি। একই উপজেলার শালবাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সোহেল রানা সাংবাদিকদের জানায় ঐ চালক বাবলা বহুদিন হতে শিক্ষা অফিসারের সখ্যতা থাকায় শিক্ষকদের উপর বিভিন্ন অজুহাতে খবরদারি চালাত, শিক্ষকদের বিভিন্ন সময়ে ফোন করে বলে আপনার সমস্যা আছে আপনি কাগজপত্র নিয়ে ডিও অফিসে আসেন। একজন চালক হয়ে শিক্ষা অফিসের বসের মত আচরন করছে বাবলা।
তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের সহকারি শিক্ষক রায়হান উচ্চ কন্ঠে তিব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে আজকে নাস্তার দায়িত্ব পায়নি বলে বাবলা একজন শিক্ষা প্রশিক্ষন সমন্বয়ক কে পিটিয়েছে এটা মেনে নেওয়া যায়না। বাবলার একটা কঠিন স্বাস্তি দাবী করছি।
প্রশিক্ষন নিতে আসা আবুল হোসেন নামে একজন শিক্ষক জানায় গত কিছুদিন পূর্বে শিক্ষা অফিসারের উপস্থিতিতে চালক বাবলা একজন শিক্ষককে বলছে বেটা তোকে আমি ঘার ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিবো। অথচ শিক্ষা অফিসার এর কোন প্রতিবাদ করেনি। সে সামান্য একজন চালক সে আমাদের শিক্ষক সমাজকে অপমানিত করেছে।
আটোয়ারী উপজেলার সহকারি শিক্ষক জানায় একজন চালক হয়ে আমাদের শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রহার মানে মানে গোটা শিক্ষকদের প্রহার করা। বাবলা চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারি হয়েও তার রংপুরে, ঠাকুরগাঁওয়ে কয়েকটি বিশাল বাড়ি, চা বাগানের মালিক সে এত টাকা কোথায় পেল ?, এমনকি বাবলা বিসিএস ক্যাডারধারী কর্মকর্তাদের উপরও খবরদারি করে।
জানতে চাওয়া হলে জেলা শিক্ষা অফিসার হিমাংশু কুমার শিংহ বলেছেন আমি ঘটনাস্থলেই ছিলাম আমি বাবলা কে আটকানোর চেস্টা করেছি কিন্তু সে এতটাই উগ্র যে থামছেই না । আমি শিক্ষা কর্মকর্তা অমিনুলকে মারধর এর ঘটনা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানিয়েছি। লিখিতভাবেও আমি আঞ্চলিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কে ঘটনার বিস্তারিত জানাবো।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানার উপ পরিদর্শক রুহুল আমিন ঘটনাস্থল হতে বাবলাকে আটক করেছে। তবে থানা হেফাজতে থাকা চালক বাবলা সাংবাদিকদের অস্বীকার করে বলে কর্মকর্তাকে মারধর করিনি তবে কথাকাটির এক পর্যায়ে আমি ঐ কর্মকর্তার এর কাছে মার খেয়েছি।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এর উপপরিচালক আকতারুজ্জামান এর সাথে মারধর এর ঘটনার বিষয়ে মোবাইলে কথা হলে তিনি জানায় পঞ্চগড় এর শিক্ষা কর্মকর্তাকে মারধর এর ঘটনার খবর শুনেছি। জেলা শিক্ষা অফিসার কে ঐ ঘটনার বিস্তারিত লিখিতভাবে জানানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছি ।