পঞ্চগড়ে ধর্ষনের অভিযোগে বৃদ্ধ ও শিক্ষক গ্রেপ্তার

চাঞ্চল্যকর দুই শিশুকে ধর্ষনের ঘটনায় পঞ্চগড় জেলায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে ধর্ষণের পৃথক দুই ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আশরাফ আলী (৫৮) এবং ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গৃহশিক্ষক জগদীশ চন্দ্র রায় (৩০) কে আটক করে স্থানীয়রা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে দুটি ঘটনাতেই মামলা হওয়ায় আদালতের মাধ্যমে আসামীদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করা যায় পঞ্চগড় জেলা শহরের মসজিদ পাড়া এলাকার দশম শ্রেণি পড়–য়া মুসলিম এক কিশোরীকে গৃহশিক্ষক হিসেবে ৫ বছর ধরে প্রাইভেট পড়িয়ে আসছে ঠাকুরগাঁও জেলার রানী শংকৈল উপজেলার মহল বাড়ি এলাকার সুরেন চন্দ্রের ছেলে জগদীশ চন্দ্র রায় (৩০)। পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারি কলেজে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে পড়ছে সে। থাকতো পঞ্চগড়েই একটি ম্যাচে। দশম শ্রেনী পড়–য়া ছাত্রীর পরিবার জানায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করার প্রলোভন দেখিয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই ওই কিশোরীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে গৃহশিক্ষক জগদিশ। ওই কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা বাইরে কাজ করেন। তাই বাড়িতে কেও না থাকার সুযোগে ছাত্রীর বাড়িতে দৈহিক সম্পর্ক চালিয়ে যায় জগদীশ। সম্প্রতি ওই কিশোরী তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায় গৃহশিক্ষক। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বেশ তর্ক হয়। গত ৪ সেপ্টেম্বর ওই কিশোরী তার সাথে দৈহিক সম্পর্কে অস্বীকৃতি জানালেও জোর করে ধর্ষণ করে জগদীশ। পরে ওই কিশোরী বিষয়টি তার পরিবারকে খুলে বললে গত ৯ সেপ্টেম্বর জগদীশকে আটক করে স্থানীয় প্রতিবেশীরা। প্রথমে বিষয়টি স্থানীয় পঞ্চগড় পৌরসভার কাউন্সিলর শালিসের মাধ্যমে মিমাংসার চেষ্টা করেন। সমঝোতা না হওয়ায় পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয় জগদীশকে। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর বড় ভাই মঙ্গলবার পঞ্চগড় সদর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ মঙ্গলবার জগদিশকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

পঞ্চগড় সদর থানার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় জেলা শহরের পশ্চিম মোলানি এলাকার আশরাফ আলী (৫৮) ৭ বছরবয়সী শিশুটির সম্পর্কে প্রতিবেশি দাদা। প্রতিবেশি হওয়ায় শিশুটি আশরাফের বাড়িতে যাতায়াত করতো। বাড়িতে লোকজন না থাকার সুযোগে শিশুটিকে বিভিন্ন ভাবে যৌন হয়রানি করতো আশরাফ। মঙ্গলবার দুপুরে আশরাফ শিশুটিকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটির চিৎকার করলে প্রতিবেশিরা শিশুটিকে উদ্ধার করে। পরে তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় প্রতিবেশিরাই আশরাফকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। মঙ্গলবার রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আশরাফকে বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
পঞ্চগড়সদর থানার অফিসার্স ইনচ্ার্জ আবু আক্কাস আহমদ বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে পৃথক পৃথক মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ওই শিশু ও কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও ২২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে।