সালিশী বৈঠকে মারধর, অভিমানে ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা

জয়পুরহাট সদর উপজেলার বনখুর এলাকায় সালিশি বৈঠকে মারধর করায় নার্গিস বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূ ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত নার্গিস একই উপজেলার চকমোহন গ্রামের মামুন হোসেনের মেয়ে।

নার্গিসের বাবা মামুন হোসেন বলেন, নার্গিসের একবার বিয়ে হয়েছিল। তার পাঁচ বছরের এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। দুই মাস আগে চকমোহন গ্রামের আদিবাসী সুভাষ পাহানের ছেলে অজিত পাহানের সঙ্গে নার্গিসের প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে। এরই একপর্যায়ে অজিত পাহান ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা দেনমোহরে জয়পুরহাট আদালতে এফিডেভিট করে নার্গিসকে বিয়ে করে ঘর-সংসার করতে থাকে। গত বৃহস্পতিবার মোহাম্মাদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সালিশি বৈঠকে আমার মেয়ে নার্গিসকে মারধর করেন। মেয়ে বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

মোহাম্মাদাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে আমার কাছে তথ্য আসে বিয়েকে কেন্দ্র করে মুসলিম ও আদিবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষ হতে পারে। এ কারণে তাদের দুইজনকে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে সালিশি বৈঠক করি। ওই বৈঠক চলাকালে নার্গিস উপস্থিত সবার সঙ্গে ঔদ্ধত্য আচরণ করলে তাকে কিছুটা শাসন করি। মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়। বৈঠক শেষে সে চলে যায়। পরে জানতে পারি সে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে।

জয়পুরহাট সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান জানান, ট্রেনে কাটা পড়ে এক গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে সান্তাহার রেলওয়ে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। এ ব্যাপারে মারধরের অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।