মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করায় সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়রের বিরুদ্ধে মামলা

 

মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করায় নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র মোঃ আমজাদ হোসেন সরকার ও নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন সৈয়দপুর শহরের বাঙ্গালীপুর নিজপাড়ার বাসিন্দা মোঃ গাউসুল আযম ফারুকী। জানা যায়, মামলার বাদী গাউসুল আযম ফারুকী তার পৈত্রিক ভিটায় একটি ৬ষ্ঠ তলা বিল্ডিং নির্মান করছেন। উক্ত নির্মানাধীন ৬ষ্ঠ তলা বিল্ডিংয়ের নকশা তার পিতা সৈয়দপুর পৌরসভার মাধ্যমে অনুমোদন করান। ঐ নকশা মোতাবেক বিল্ডিংটির অবকাঠামোগত নির্মান কাজ ৬ষ্ঠতলা পর্যন্ত সম্পন্ন হয়। কিন্তু সিড়ি বেয়ে ৬ষ্ঠতলা পর্যন্ত উঠানামা করতে কষ্ট হওয়ায় বাদী গাউসুল আযম ফারুকী তার নির্মানাধীন বিল্ডিংয়ে লিফট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন।

সেই মোতাবেক তিনি নতুন ভাবে একটি নকশা সৈয়দপুর পৌরসভায় উপস্থাপন করলে পৌরসভার মেয়র নকশা অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানান। জানা যায়, ইতিপূর্বে ঐ নির্মানাধীন বিল্ডিংয়ের মেইন গেইট নির্মানের কাজ নিয়ে কাউন্সিলর আল মামুন সরকার বাদী গাউসুল আযম ফারুকীর নিকট থেকে ১.০০ (এক লক্ষ) টাকা গ্রহণ করে সম্পুর্ন টাকা আত্মসাৎ করে নেয়। টাকা ফেরত না পেয়ে বাদী গাউসুল আযম ফারুকী কাউন্সিলর আল মামুন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে সৈয়দপুর থানা মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে কাউন্সিলর আল মামুন সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। মামলা নং সি.আর ২৫/২০১৭, ধারা ৪০৬/৪২০ দঃ বিঃ।

ইতিমধ্যে বাদী গাউসুল আযম ফারুকীর নির্মানাধীন বিল্ডিং এর সামনে একটি ঝুকিপূর্ন লোহার বৈদ্যুতিক খুটি অপসারনের জন্য বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন আসলে কাউন্সিলর আল মামুন সরকার ও কাউন্সিলর শাহীন আকতার সরকারী কাজে বাধা দিয়ে ঝুকিপূর্ন খুটি অপসারনের কাজ বন্ধ করে দেয়। এই বিষয়ে বিদ্যুৎ অফিস কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করলে বাদী গাউসুল আযম ফারুকী কাউন্সিলর আল মামুন সরকার ও কাউন্সিলর শাহীন আকতারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে সিআইডি,নীলফামারী মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে কাউন্সিলর আল মামুন সরকার ও কাউন্সিলর শাহীন আকতারের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।

মামলা নং সি.আর ৫৮/২০১৮, ধারা১৪৩/৩২৩/৩৫৩/৫০৬(২)/৩৪ দঃ বিঃ। এর পর কাউন্সিলর আল মামুন সরকার ও কাউন্সিলর শাহীন আকতার বাদী গাউসুল আযম ফারুকীর মানহানী করার জন্য তাকে কালো টাকার মালিক, জঙ্গী, সন্ত্রাসী, হাতকাটা রংবাজ উলে­খ করে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে স্বারক লিপি প্রদান করে এবং পত্রিকায় তা প্রকাশ ও প্রচার করে।

এতে বাদী গাউসুল আযম ফারুকীর মানহানী হলে তিনি কাউন্সিলর আল মামুন সরকার ও কাউন্সিলর শাহীন আকতারের বিরুদ্ধে ফৌজদারী আদালতে মানহানী মামলা দায়ের করলে সিআইডি, নীলফামারী মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে কাউন্সিলর আল মামুন সরকার ও কাউন্সিলর শাহীন আকতারের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। মামলা নংসি.আর ৩৪৬/২১০৮, ধারা ৫০০/৫০১/৩৪ দঃ বিঃ। এই মামলাগুলির জের ধরে সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র বাদী গাউসুল আযম ফারুকীর নির্মানাধীন বিল্ডিংয়ে লিফট স্থাপনের নকশা অনুমোদন দিতে অস¦ীকৃতি জানান। এর প্রেক্ষিতে বাদী গাউসুল আযম ফারুকী গত ০৩/০৪/২০১৯ ইং তারিখে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রীট পিটিশন মামলা দায়ের করেন, মামলা নংরীট পিটিশন২৬৫১/২০১৯।

উক্ত রীট পিটিশনের গত ০৩/০৪/২০১৯ ইং তারিখের আদেশে মহামান্য হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চের বিচারপতিদ্বয় ৩০ দিনের মধ্যে নকশা প্রদানের জন্য সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র ও নির্বাহী প্রকৌশলীকে আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ প্রাপ্তির পর ৩০ দিন অতিবাহিত হলেও সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র ও নির্বাহী প্রকৌশলী কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। এতে অসন্তষ্ট হয়ে বাদী গাউসুল আযম ফারুকী গত ৩০/০৭/২০১৯ ইং তারিখে মহামান্য হাহকোর্টে সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র ও নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন। মামলা নং কনটেম্পট পিটিশন ৪৮২/২০১৯।

মহামান্য হাইকোর্ট মামলাটি গ্রহণ করে সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র ও নির্বাহী প্রিকৌশলীকে শোকজ করে রুল জারী করেন। এ বিষয়ে বাদী গাউসুল আযম ফারুকী বলেন, পৌরসভার মেয়র ও নির্বাহী প্রকৌশলী তাদের কর্তব্য কাজে অবহেলা করেছেন এবং মহামান্য হাহকোর্টের আদেশ অমান্য করে আদালত অবমাননা করেছেন। তাই তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য মহামান্য হাইকোর্টে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেছি।