হাতুড়ির টুং টাং শব্দে মুখোরিত ডোমারের কামারশালা।

  1. কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটিতে হাতুড়ির টুং টাং শব্দে মুখোরিত কামারশালা।
    আর মাত্র চার দিন পর ঈদ-উল আযহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার শিল্পীরা। টুং টাং শব্দই বলছে ঈদ লেগেছে কামারের দোকানগুলোতে। দিন রাত চলছে কোরবানি পশু জবাই করার যন্ত্রপাতি চাপাতি, দা, বটি, ছুরি তৈরী ও শানের কাজ। দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই ব্যস্ততা বাড়ছে আগুনের ফুলকিতে গরম লোহায় দিন রাত হাতুড়ি়র টুং টাং শব্দে মুখরিত চিলাহাটির কামার শালা।

পশু কোরবানির মধ্যে দিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় শেষ মূহুর্তে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। তাইতো দম ফালানোর সময় পাচ্ছে না কামার শালার ওস্তাদ ও সাগরিদরা। দিন রাত বিরামহীন পরিশ্রম করে এ সকল জিনিসপত্র তৈরি করছেন তারা। আবার কেউ কেউ পুরাতন জিনিসপত্র সংস্কার করতে নিয়ে এসেছে তাদের কাছে সান দিতে। অধিকাংশ দোকানীই তাদের নিজেদের তৈরী জিনিসপত্র বিক্রি করছেন। আবার কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ী আছে যারা শুধু ঈদের সময়ই এ ব্যবসা করে থাকেন। সব মিলিয়ে দিন থেকে মধ্যে রাত অবদি জেগে থেকে কাজ করে ভালই কাটছে কামারশালার দোকানীরা।

কামার কলিম উদ্দিনের সাথে কথা বললে সে বলেন, বছরে তো একটাই সময় পাই কটা দিন মাত্র ব্যস্ত কুরবানি ঈদের পর তো আর তেমন কোন কাজ থাকে না। তাইতো এই সময়টাকে কাজে লাগাই। লাল আগুনের লোহা গলিত করে কামারদের পিটাপিটিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে কামার দোকানগুলো। টুং টাং শব্দটি যেন তাদের জন্য এক কবিতা ও গানের ছন্দের মতো। এ ছন্দের তালে চলছে স্ব-হস্তের জাদুময়ী হাতুড়ি আর ছেনীর কলা কৌশল। বাজার থেকে লোহা কিনে সেগুলো আগুনে পুড়ে দা, বটি, চাকু, চাপাতিসহ বিভিন্ন জিনিস পত্র তৈরি করছেন তারা।

বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শিল্পীদের দুর্দিন চললেও ঈদুল আজাহাকে সামনে রেখে জমে উঠে তাদের এই হস্তশিল্প। সারা বছর এই কোরবানির ঈদের জন্য অপেক্ষায় থাকেন তারা।