নীলফামারীর ডিমলায় বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট দম্পতির মর্মান্তিক মৃত্যু

পাগলু ফ্যান মেরামত করতে ধরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মনির উদ্দিনের ছেলে কৃষক দিলীপ ইসলাম (৪৩) ও তার স্ত্রী আছিয়া বেগম (৩৭)নামের এক দম্পতির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
গত বুধবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের কাউয়াধনীপাড়া গ্রামে। এ সময় অল্পের জন্য প্রাণে বেচে গেছে তাদের তৃতীয় শ্রেণী পড়ুয়া মেয়ে রুবিনা আক্তার।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ওই দম্পতির দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বড় মেয়ের বিয়ে হলেও ছোট ছেলে ও মেয়ে ঘটনার সময় স্কুলে ছিল। ঘটনার সময় কৃষক দিলীপ ক্ষেতে কাজ করে বিশ্রাম নিতে বাড়িতে এসে নিজ ঘরের পাগলু ফ্যানের সুইচ অন করার পরেও ফ্যানটি না ঘুরলে চেয়ারের উপড়ে উঠে তা মেরামতের চেষ্টা করেন তিনি। এক পর্যায়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে তার স্ত্রী আছিয়া বেগম তাকে বাচাঁতে এসে দুজনেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত হয়ে মেঝেতে পড়ে থাকেন। পরে দুপুর দুইটার পর ছোট মেয়ে রুবিনা আক্তার স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে ঘরে ঢুকে বাবা-মাকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে তাদের শরির স্পর্শ করতে গেলে সেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছিটকে পড়ে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায়। এ সময় রুবিনার আত্মচিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এসে ওই বাড়ির বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ করে ওই দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেন। গয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সামসুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পাগলু ফ্যানের ত্রুটি ঠিক করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ওই দম্পতির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিমলা থানার ওসি মফিজ উদ্দিন শেখ বলেন, ফ্যানের ক্রটি মেরামত করতে ধরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ওই দম্পতি নিহত হয়েছেন। নিহতের পরিবারসহ এলাকাবাসীর কোনো অভিযোগ না থাকায় একটি ইউডি মামলা করে লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। যাহার মামলা নং-১৭, তারিখ-৭/৮/২০১৯ইং।