চামড়া নষ্ট হয়েছে ১০ হাজার পিস

বিএনপির লোকেরা চামড়া কিনে ডাস্টবিনে ফেলেছে : শিল্পমন্ত্রী

সরকারকে বিব্রত অবস্থায় ফেলতে বিএনপির লোকেরা চামড়া কিনে ডাস্টবিনে ফেলেছে। চামড়া ফেলার আগে থেকেই মিডিয়াকে খরব দিয়ে তা রেকর্ড করে প্রচার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হূমায়ন। শিল্পমন্ত্রী রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে চট্টগ্রামে ট্রাকে করে চামড়া ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হচ্ছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জাবাবে এ কথা বলেন।

শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ‘এক কোটি চামড়ার মধ্যে এ বছর ১০ হাজার পিস চামড়া নষ্ট হয়েছে। একটি দেশ যখন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যায়। তখন এটা ব্যাহত করতে একটি চক্র চক্রান্ত করে। এবারও ওই চক্র চক্রান্ত করেছে।’

ট্যানারি মালিকদের কাছে এ বছরের চামড়া নগদ মূল্যে বিক্রিতে রাজি হয়েছেন আড়তদাররা। ট্যানারি মালিকরাও নগদে চামড়া কিনতে রাজি হয়েছেন। তবে আড়তদারদের বাকেয়া টাকা ট্যানারি মালিকরা কবে পরিশোধ করবেন, সে বিষয়ে আগামী ২২ আগস্ট একটি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে।

এর আগে বকেয়া চারশ কোটি টাকা না পেলে চামড়া বিক্রি করবেন না—কোরবানি ঈদের পর থেকে এমন সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন আড়তদাররা। ফলে এ খাতে একটা স্থবিরতা তৈরি হয়। এই অবস্থায় ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের নিয়ে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

চামড়া রফতানির বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘কাঁচা চামড়া রফতানি একটি প্রসেসের বিষয়। চাইলেই তো আর চামড়া বিমানে তুলে দিতে পারি না। চামড়ার বাজার যেন নষ্ট না হয় সে বিষয়টি এফবিসিসিআই দেখবে। প্রয়োজন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ সময় আড়তদার সমিতির সভাপতি দেলওয়ার হোসেন বলেন, ‘এই মুহূর্ত থেকে চামড়ার বাজার খুলে দেওয়া হলো। আমরা এখন থেকেই চামড়া বিক্রি করবো। দেনা পাওনার বিষয়ে ২২ তারিখে নিজেরা বসে সিদ্ধান্ত নেবো।’

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের প্রতিনিধি জানিয়েছেন সেখানে ২৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে গেছে। অন্য প্রতিনিধিরা জানান, ট্যানারি মালিকরা নিজেরা নতুন নতুন গাড়ি কেনেন, ফ্ল্যাট বাড়ি কেনেন, বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন কিন্তু গরিব মানুষের পাওনা পরিশোধ করেন না। এদের বিচারর দাবি করেন তারা।

বাণিজ্য সচিব বলেন, যারা ইচ্ছা করে টাকা বাকি রেখেছেন তাদের বিচার হবে। চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার ঘটনা সরকারকে বিব্রত করেছে। সালমান এফ রহমান বলেন, আগামী তিন মাস যেন একটি চামড়াও নষ্ট না হয় আমরা সেই গ্যারান্টি চাই।

সিদ্দিকুর রহমান ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের কাছে জানতে চান তাদের সদস্য কতজন। তারা জানান, ৮৯ জন। তখন সিদ্দিকুর রহমান বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিষ্ঠান বিজিএমইএ’তে পাঁচ হাজার সদস্য। তাদের ম্যানেজ করে আমরা রফতানিতে ৮০ ভাগ অবদান রেখেছি। তথচ আপনারা মাত্র ৮৯ জনকে ম্যানেজ করতে পারেন না। আপনাদের অবদান মাত্র আড়াই শতাংশ। এটি হাস্যকর। আপনাদের সংগঠনে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। যারা কথা শোনে না, তাদের বের করে দেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বাণিজ্যসচিব মফিজুর রহমানসহ ট্যানারি ও আড়তদার সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।