লালমনিরহাটে ঔষধ প্রশাসনের বেহাল অবস্থা

লোপেন্টা ট্যাবলেটসহ দুই ফার্মেসি মালিক গ্রেফতার

লালমনিরহাটে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে লাইসেন্স বিহীন ঔষধ ফার্মেসি। কোনো প্রকার ফার্মাসিষ্ট ছাড়াই চলছে শহরের অধিকাংশ ফার্মেসি, বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন নেশাজাতীয় ট্যাবলেট, করছেন রমরমা ব্যাবসা। বর্তমানে ৫০,৭৫ ও ১০০ মিলিগ্রামের টাপেন্টা, লোপেন্টা ,পেন্টাডল, সেন্টাডল ও সিনটা নামক ট্যাবলেট ইয়াবা ও হিরোইনের বিকল্প হিসেবে ব্যাবহার করছেন মাদকসেবীরা।

লালমনিরহাট সদর থানার মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে গতকাল টাপেন্টা, লোপেন্টা ,পেন্টাডল, সেন্টাডল, সিনটা ট্যাবলেটসহ ৭ জন মাদকসেবী ও ২ জন ফার্মেসির মালিক গ্রেফতার হয়েছে। শুক্রবার মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে এস আই সেলিম রেজার নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লালমনিরহাট পৌরসভার সেনা মৈত্রি হকার্স মার্কেট এলাকার ইউসা ফার্মেসিতে অভিযান চালায় লালমনিরহাট থানা পুলিশ। ওই সময় ফার্মেসি মালিক মোঃ মালেকুল ইসলামের পকেট হতে ৪০পিচ লোপেন্টা ট্যাবলেট সহ দুইজন মাদকসেবীকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা হয়েছে, যাহার মামলা নং-৪৩/৫৫৭। একইদিন রাতে এস আই মাইনুল ইসলামের নেতৃত্বে মিশনমোর এলাকার সুমি ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে টাপেন্টা, লোপেন্টা ,পেন্টাডল, সেন্টাডল ও সিনটা নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ৫০০পিচ উদ্ধার করেন এবং ফার্মেসির মালিক মোঃ আশিক সরকার সোহেল (৩০) ও বিক্রেতা মোঃ রেজাউল করিম সোহাগ (৩০) কে গ্রেফতার করেন লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ। সুমি ফার্মেসির মালিক ও বিক্রেতার নামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা হয়েছে যাহার মামলা নং-৪৪/৫৫৮।
জানা যায়, ফার্মেসি ব্যাবসার আড়ালে এসব ফার্মেসির মালিকেরা প্রেসক্রিপশন ছাড়াই নেশাজাতীয় ট্যাবলেট বিক্রি করে আসছেন। ফার্মেসি ব্যাবসার আড়ালে নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঔষধ বিক্রি করলেও ঔষধ প্রশাসন নীরব ভুমিকা পালন করছেন। যত্রতত্র লাইসেন্স বিহীন ফার্মেসি গড়ে উঠলেও নেই ঔষধ প্রশাসনের কোনো তৎপরতা।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অফিসার ইনচার্জ মাহফুজ আলম বলেন,আমাদের মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।আটকৃত আসামীদের কোর্টে সোপর্দ করা হয়েছে।