তিস্তার পানি বিপদসীমার ৪২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত,আবারও ভয়াবহ বন্যার আশংকা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: প্রবল বর্ষন ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা  পারি ফের হুহু করে বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার পরিস্থিতির আবারও অবনতি হয়েছে। কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ ফের বৃদ্ধি পেয়েছে।
এতে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার তিস্তা অববাহিকার চরাঞ্চল ও নিম্নঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে নতুন করে প্রায় ২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। প্রচুর বৃষ্টিপাতে ফলে ঘর থেকে বেরতে পারছে না এতে চরম দুভোর্গে পড়েছে তিস্তা পারের মানুষ।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় হাতীবান্ধা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৪২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ৬০। এর আগে একই পয়েন্টে তিস্তার পানি দুপুরে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে ছিল। পাশাপাশি উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।
এদিকে আজ বুধবার দুপুরে লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের উত্তর কালমাটি গ্রামের তিস্তা নদীতে ভেসে আসা অজ্ঞাত (৪০) এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
লালমনিরহাট সদর থানার (ওসি) মাহফুজ আলম ঘটনার সত্যতা  নিশ্চিত করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানান, বন্যা পুর্বাভাস ও সর্তকীকরন কেন্দ্র সুত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায় ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে তিস্তায় দ্বিতীয় দফায় বন্যা দেখা দিয়েছে।
এতে ভারত থেকে পানি দ্রুত বেগে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এর আগে গত ১১ জুলাই তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে ও ১৩ জুলাই সেটা সর্বোচ্চ ৯০ সেন্টিমিটার ওপরে ওঠে। ১৫ জুলাই পর্যন্ত সেখানে বিপৎসীমা বরাবর পানি প্রবাহিত হলেও ১২ জুলাই থেকে পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম রংপুরের কন্ঠকে বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রেখে সতর্কাবস্থায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হচ্ছে।
তিস্তা,ধরলার ও সানিয়াজানের পানি নেমে গিয়ে বন্যার পরিস্থির উন্নতি হলেও বুধবার দুপুর থেকে আবারও নতুন করে বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে তিস্তা ও ধরলার পাড়ে।
আবার বন্যা দেখা দেওয়ায় পরিবার গুলো স্থানীয় গাইডবান, স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ ও সড়কে আশ্রায় নিয়ে বসবাস করছেন। এতে দেখা দিয়েছি খাদ্য ও ত্রাণ সংকট। লালমনিরহাট জেলায় আবারও ভয়াবহ বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে।
এ দিকে লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাটে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধ ভেঙ্গে গিয়ে হাজারও পরিবার প্লাবিত হয়েছে। গত ১৪ দিন থেকে চরাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি থাকলেও অধিকাংশ চরেই তেমন কোন ত্রাণ কিংবা সাহায্য সহযোগিতা পৌছায়নি। এতে দুভোর্গে পড়েছে ভানবাসী মানুষ।
জানা গেছে, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে গত শনিবার (১২ জুলাই) মধ্যরাতে হাতীবান্ধা থেকে বড়খাতার বাইপাস সড়কের মেডিকেল মোড় এলাকার পাকা সড়ক ও তালেব মোড় এলাকায় বাধ ভেঙ্গে বড় একটি অংশ ভেঙে যায়।
এতে হাতীবান্ধা,বড়খাতা,গড্ডিমারী ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ব্যাহত হচ্ছে এখানকার লোকজনের স্বাভাবিক কার্যক্রম। সড়কটি ১২ দিন আগে ভেঙে গেলেও এখনো পাকা রাস্তাটি মেরামত করা হয়নি। প্রতিদিন বাধ্য হয়ে
লোকজন হাঁটু পানিতে নেমে পাড়া পাড় করছেন।
গত ১৪ দিন ধরে পানি বন্দি রয়েছে জেলার পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধা উপজেলার, সানিয়াজান, ঠাংঝাড়া, পাকশের সুন্দর,
বাঘের চর,ফকিরপাড়া,দালালপাড়া,রমনীগঞ্জ,সির্ন্দুরনা,পাঠান বাড়ি,হলদি বাড়ী,ডাউয়াবাড়ি,বিছন দই, গড্ডীমারী,দোয়ানী,ছয়আনী, পাটিকাপাড়া, পশ্চিম হলদি বাড়ি, চর গড্ডীমারী, ধুবনী, সিঙ্গীমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার কালিকাপুর, চর বৈরাতী, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা, গোর্বধন, কুটির পার ও সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, মোগলহাট, কুলাঘাটসহ নদী তীরবর্তী ১৬টি ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ।
এসব এলাকায় তলিয়ে গেছে বসতবাড়ী, রাস্তাঘাট ও স্কুল কলেজ। দুর্ভোগ বেড়েছে পানি বন্দি মানুষের।
হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান রংপুরের কন্ঠকে জানান, ১৪ দিন ধরে ইউনিয়নের ৪টি ওয়ার্ডে প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে আছে। সরকারী সাহায্য পেলেও তা খুবই কম।
লালমনিরহাটর জেলা প্রশাসক আবু জাফর রংপুরের কন্ঠকে  জানান,বন্যা মোকাবেলায় জেলা প্রশাসক প্রস্তুত রয়েছে। সার্বণিক তিস্তাপাড়ের মানুষের খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। বিগত বন্যায় শুরু হওয়া ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম এসব এলাকায় চলমান রয়েছে। ফের বন্যা হলে মোকাবেলা করতে পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে।