জলঢাকায় ভিজিএফ এর মাল আটক

                       –
নীলফামারী জলঢাকায় ঈদল আজহায় দরিদ্র জনগোষ্টির জন্য সরকারী বরাদ্ধকৃত ( ভি জি এফ ) এর প্রায় ৬০ মেঃ টন চাল এল এস ডি গোডাউন থেকে কালো বাজারে বিক্রীর সময় গোডাউনে প্রবেশ কালে হাতে নাথে আটক করা হয়েছে। দুইটি গোডাউনের আটককৃত চালের বাজার মুল্য প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওই দুটি গোডাউন সীল গালা করেছেন। ৯ই আগষ্ট শুক্রবার দুপুরে পৌর শহরের পুরাতন গরুহাটি ও মুদিপাড়াস্থ এলাকার দুটি গোডাউনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সরজমিনে প্রাপ্ত তথ্যনুযায়ী জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটায় এল এসডি গোডাউন থেকে ঢাকা মেট্রো-ট,১৬-৫৮৮৫ নাম্বারের একটি ট্রাকে করে অত্যান্ত গোপনীয় ভাবে ১৭ মেঃ টন সরকারী চাল পৌর শহরের পুরাতন গরুহাটি মাঠ সংলগ্ন মেসার্স সততা ইন্টার প্রাইজ নামক গোডাউনে কালো বাজারি হিসাবে চাল নামাচ্ছিলেন। কিন্তূ জলঢাকা থানার শু-চতুর অনেষ্ট অফিসার এস আই বদরুদ্দোজা বিষয়টি আঁচ করতে পরে ট্রাকটি তিনি ফলো করেন এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলে গোডাউন মালিক, ট্রাক চালক ও হেলপার সটকে পরেন। পরে স্থানীয় উৎশুক জনতা এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা ঘটনাস্থলে আসলে উম্মচন হয় প্রকৃত পক্ষেই দরিদ্র জনগোষ্টির এ সব চাল কালো বাজারে বিক্রী হচ্ছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজাউদ্দৌলা সুজা, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জননেতা আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর, সাবেক পৌর মেয়র ইলিয়াস হোসেন বাবলু, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম পাশা এলিচ, সাংবাদিক ও স্থানীয় সুধী সমাজের ব্যক্তিবর্গরা । পরে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে পাসের দুইটি গোডাউনেও ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজাউদ্দৌলা সুজা। এ সময় মুদিপাড়াস্থ পাঁকা মিয়া নামের এক ব্যবসায়ীর গোডাউনে ৬ শত ৪৮ বস্তা,মেসার্স সততা ইন্টার প্রাইজে সাড়ে ১৫ শত বস্তা ভিজি এফ এর চাল জব্দ করা হয়। দরিদ্রের জন্য বরাদ্ধকৃত সরকারী চাল কালো বাজারে বিক্রি হওয়ার কথায় নিমেশেই চারদিকে হট্টগল পরে যায়, মুহুর্ত্যেই পৌর শহরের পুরাতন গরুহাটি মাঠে কয়েক শত লোকের সমাগম লক্ষ করা গেছে। এ সময় উৎশুক জনতা এ সব কালো বাজারি চাল ট্রাক থেকে নামানোর চেষ্টা করে কিন্তূ থানা পুলিশের মুক্ষম ভুমিকা রাখেন এবং জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে থানা পুলিশ। এ ঘটনা তৎক্ষানিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজাউদ্দৌলা গনমাধ্যমে জানান, দরিদ্র জনগোষ্টির জন্য বরাদ্ধ এ সব সরকারী চাউল আইনি ভাবে ক্রয় করার কোন সুযোগ নেই। কালো বাজার বলেন আর সিন্ডিকেট বলেন এভাবেই এ সমস্ত চাল ডিলারদের কাছে এসেছে। এ সময় গোডাউন মালিক ও গাড়ি চালককে ডেকে বিষয়টি জানতে চাইলে ক্রয়কৃত চাউলের মালিক ডিলার আমজাদ হোসেন বলেন, এ সব চাউল আমি স্থানীয় মীল ব্যবসায়ী ইয়াকুব আলীর নিকট থেকে ক্রয় করেছি । মালের চালান দেখতে চাইলে তিনি কোন প্রকার কাগজপত্রাধী দেখাতে সক্ষম হয়নি। পরে ইয়াকুব আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি সম্পুর্ন বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি আমজাদ হোসেনের নিকট কোন প্রকার চাউল বিক্রী করিনি।ওই ট্রাকের ড্রাইভার কালাম মিয়ার কাছে ইউ এনও জানতে চান, এ সব চাউল কোথা থেকে আপনি নিয়ে আসছেন, উত্তরে ড্রাইভার কালাম জানান, জলঢাকা এল এস ডি গোডাউন থেকে লোড করে আনা হয়েছে। ড্রাউভারের তথ্যনুযায়ী নির্বাহী অফিসার ওসি – এল এস ডি’র মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন আজকে ওই নাম্বারের কোন ট্রাকে ভিজিএফ এর চাউল দেওয়া হয়নি। ওই ট্রাক চালকের তথ্যনুযায়ী আটককৃত এই ট্রাকটি সহ মোট ৪টি ট্রাক এলএসডি গোডাউন থেকে চাউল লোড করে বেড়িয়েছে। গাড়ি চালক, কালো বাজারি ডিলার ও এল এস ডি গোডাউন কর্তৃপক্ষের কারো কাছের কোন প্রকার বস্তূনিষ্ঠ তথ্য পায়নি নির্বাহী অফিসার সুজাউদ্দৌলা সুজা। পরে উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাধ্য হয়েই দরিদ্র জনগোষ্টির জন্য বরাদ্ধকৃত বিপুল পরিমান অর্থের কালো বাজারি এ সব চাউল সীল গালা করে রাখার নির্দেশ দেন তিনি।