বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা সৃষ্টিতে সাঘাটা থানা পুলিশের নবাগত ওসির সভা

১১ সেপ্টেম্বর সাঘাটা থানা পুলিশের আয়োজনে থানার সবাগত অফিসার ইনচার্জ বেলাল হোসেন সাঘাটা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও সাঘাটা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় এন্ড কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে পৃথকভাবে নীতি-নৈতিকতা, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সচেতনতামুলক সভা করেছেন। বেলা ১১ টায় ওসি সাঘাটা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পৌঁছে ছাত্রছাত্রীদের সাথে পরিচয় হন ও তাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। এসময় অফিসার ইনচার্জ এর সাথে ছিলেন থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই শাহাদত হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান মন্ডল, সাঘাটা প্রেস ক্লাবের সভাপতি জয়নুল আবেদীন, সাধারন সম্পাদক আবু তাহের, সহ সভাপতি সোহেল আকবর টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম, সদস্য জাকির হোসেন লিটনসহ অনেকে।
এসময় সাঘাটা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ বেলাল হোসেন সাঘাটা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্য নীতি নৈতিকতা সম্র্পকে বলেন শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি উন্নতি লাভ করতে পারেনা। পড়ালেখার পাশাপাশি, পিতামাতার কথা শুনতে হবে। তিনি বলেন পিতার সন্তুষ্টি আল্লার সন্তুষ্টি আর মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত।একথা সব সময় মনে রাখতে হবে। তিনি শিক্ষক সম্র্পকে বলেন, ওস্তাদে প্রণাম করো পিতা হস্তে বাড়। তুমি যতো বড় অফিসার হওনা কেন তারপরেও শিক্ষকদের অবশ্যই সম্মান করতে হবে। আজ তারা আমাদের লেখাপড়া ও আদর্শগত দিক শিক্ষা দিচ্ছে বলেই আমরা একদিন বড় অফিসার হয়ে দেশ চালাবো। আমিও তোমাদের মতোই এক সময় স্কুলে লেখাপড়া শিখেছিলাম। বড় হয়ে আজ আমি থানার ওসি হয়েছি। তাই বলে কি আমি আমার স্যারদের কথা ভুলে গেছি। না। আমি আজোও আমার স্যারদের দেখা পেলে কদমবুচি বা সালাম করি। এতে আমার সম্মান কমে না বরং বাড়ে। তোমরাও বড়দের সম্মান ছোটদের স্নেহ করবে। বন্ধুদের সাথে মিলে মিশে থাকবে। কারো প্ররোচনায় ভুল পথে পা বাড়ানো যাবেনা। পিতামাতা, আত্নীয় স্বজন বন্ধু বান্ধবদের সাথে কখনোই এমন কোন খারাপ আচরন করবেনা যাতে তারা কষ্ট পায়।
তিনি বলেন, দেশ কিভাবে স্বাধীন হয়েছে সেটা আমাদের জানতে হবে। দেশের প্রতি ভালোবাসা রাখতে হবে। মা মাটি দেশের সাথে কখনোই বেঈমানী করা যাবেনা। এই বয়সে লেখাপাড়া বাদ দিয়ে মোবইল ফোন ব্যবহার করা যাবেনা। ফোন ব্যবহারের ফলে লেখাপড়ার দিকে মনোনিবেশ কমে যেতে পারে।এতে তোমাদের ভবিষ্যত অন্ধকারে ডুবে যেতে পারে। তোমরা যখন কলেজে পড়বো, তখন মোবাইল চালাবে।
পরে তিনি সাঘাটা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় এন্ড কলেজে গিয়ে ছাত্রীদের সাথে পরিচয় হয়ে তাদের নিয়ে বেশ কিছু সময় ধরে বাল্য বিবাহ, ইভটিজিং ও নীতি-নৈতিকতা বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ছেলেদের ২৩ বছরের নীচে ও মেয়েদের ১৮ বছরের নীচে কারো বিয়ে দিলে তাকে বাল্য বিবাহ বলা হয়। তোমাদের মধ্যে কেহ তার কন্যাকে বা বোনকে বা পুত্রকে বাল্য বিবাহ দেয়ার চেষ্টা করলে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। বাল্য বিবাহের চেষ্টা করলে আমাকে জানাবে। কারন বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
ইভটিজিং বলতে বখাটে যুবকরা স্কুলে আসা- যাবার পথে রাস্তা ঘাটে কোন বাজে কথা বা প্রেম প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে বা ছবি তোলে তাহলে সরাসরি থানাতে ফোন করবে। আমরা পাশে থাকবো।
এসময় কলেজের অধ্যক্ষ জাহিদুল ইসলাম, সাঘাটা উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান মন্ডল, এসআই শাহাদত হোসেন, সাঘাটা প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক আবু তাহের, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও সহকারী শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।