সাঘাটায় খেয়াঘাটের সীমানা নির্ধারণ ও সিরিয়ালের ঘাট নিয়ে মতবিরোধ !

সাঘাটা উপজেলায় জেলা পরিষদের ১৪২৬ বাংলা সালে ইজারাকৃত খেয়া ঘাট ও সাঘাটা ইউপি চেয়ারম্যানের ইজারা দেয়া খেয়াঘাটের সীমানা নির্ধারণ ও সাঘাটা-বাহাদুরাবাদ সিরিয়ালের ঘাট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলে আসছে। সেই জের ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে মামলা মোকদ্দমাসহ প্রতিনিয়ত বাকবিতন্ডা চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে গত ২৮ আগষ্ট জেলা পরিষদের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা ও সাঘাটা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা উভয় পক্ষকে ডেকে তাদের নিজ নিজ বক্তব্য শোনেন।

এসময় দেখা যায়, ১৪২৬ বাংলা সনের বৈশাখ মাসে মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন ইজারা নেয়। সেখানে তিনটি ঘাট উল্লেখ রয়েছে সেগুলো যথাক্রমে ঝাড়কাটা , মীরগঞ্জ ও গুয়াবাড়ি লটঘাট। ভরতখালি কালী মন্দিরের সামনে গোবিন্দী এলাকায় মীরগঞ্জ ঘাট অবস্থিত। হলদিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে গুয়াবাড়ি মৌজায় গুয়াবাড়ি লটঘাট এবং নলছিয়া এলাকায় ঝাড়কাটা ঘাট অবস্থিত।
অপরদিকে সাঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান তার ইউনিয়নের সাঘাটা কুড়ানুর বাড়ি হতে সাঘাটা-চকপাড়া গ্রামের বসবাসরত স্কুল ছাত্র-লোকজনের প্রয়োজনই পারাপারের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের বিধি মোতাবেক একটি খেয়া ঘাটের ইজারা দেন।
এসময় মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন বলেন, সাঘাটা ই্উপি চেয়ারম্যান তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার এলাকায় নতুন ঘাটের সৃষ্টি করিয়াছে। সে কারনেই ওই ঘাটের লোকজনের সাথে আমার ঘাটের লোকজনের প্রতিনিয়তই বাকবিতন্ডা ঘটছে। তিনি সাঘাটাকে তার ইজারার ঘাট দাবি করেন।
এসময় সাঘাটা ইউপি সচিব বলেন, জেলা পরিষদ যে তিনটি ঘাটের ইজারা দিয়েছেন তার মধ্যে চেয়ারম্যানের ইজারা দেয়া ও জেলা পরিষদের ইজারাদার কতর্ৃক অভিযোগকৃত খেয়া ঘাটটি থেকে জেলা পরিষদের ইজারা দেয়া গুয়াবাড়ি লট ঘাটের সীমানা দুরত্ব সাঘাটা থানা থেকে ৭ কিমি পুর্বে দক্ষিনে হলদিয়া ইউনিয়নে। মীরগঞ্জ ঘাটটি ১১ কিমি উত্তরে পুর্বে ও ঝাড়কাটা ঘাটটি ১২ কিমি পুর্বে দক্ষিনে অবস্থিত। আর বর্তমানে চেয়ারম্যানের দেয়া ঘাটটি থানা থেকে ২৫০ গজ দুরত্বে রয়েছে।
সচিব আরো জানান, জেলা পরিষদের ইজারাদার দেলোয়ার হোসেন ভরতখালি এলাকায় অবস্থিত মীরগঞ্জ ঘাটটি সুজা-উদ-দৌলার কাছে, গুয়াবাড়ি লট ঘাটটি আবু তাহের (০১৭৪০৬২৭৯০০) গংদের কাছে ও ঝাড়কাটা ঘাটটি নলছিয়ার শাহীনের কাছে আদায়কারি হিসেবে হস্তান্তর করেছেন।
এছাড়াও জেলা পরিষদের ইজারাদার দেলোয়ার হোসেন বিধি বহিভর্থত ও মনগড়া ভাবে সাঘাটার মুন্সীরহাট-পাখিমারা এলাকায় শাহআলমের কাছে, সাঘাটার হাসিলকান্দি-হাটবাড়ি-বাগবাড়ি ঘাটটি আজগরের কাছে, হলদিয়া ইউনিয়নের গাড়ামাড়া-প্রজাপতি ঘাটটি আলতাবের কাছে, ঘুড়িদহ ইউনিয়নের চিনিরপটল-কুমারপাড়া-জামিরা ঘাটটি জয়নালের কাছে, হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর দিঘলকান্দি-দক্ষিন দিঘলকান্দি ঘাটটি ছালামের কাছে ও হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিন দিঘলকান্দি-সিপিগাড়ামারা ঘাটটি গোলজারের (০১৭২২-৬০৩৪৬৫)কাছে আদায়কারি হিসেবে হস্তান্তর করেন। যা সম্পুর্ণ বেআইনি। গত ৪-৫ বছর পুর্বে কয়েকটি গ্রাম নদী ভাঙ্গনের শিকার হলে ্ওই ঘাট গুলির সৃষ্টি হয়। যা একমাত্র ইউনিয়ন পরিষদ-ই ইজারা দেয়ার ক্ষমতা রাখে।
এছাড়াও ইজারাদার দেলোয়ার হোসেন, নিজেই সাঘাটা ইউনিয়ন থেকে সাঘাটা-বাহাদুরাবাদ সিরিয়ালের ঘাটটি ও ঘুড়িদহ ইউনিয়ন থেকে চিনিরপটল -বাহাদুরাবাদ এবং হলদিয়া ইউনিয়নের কানাইপাড়া মাদ্রাসা হতে বাহাদুরাবাদ ঢাকাগামী যাত্রীদের পারাপার করছে।
স্থানীয়রা জানান, সাঘাটার হাসিলকান্দি হয়ে ঘাঘট নদী (বাঙ্গালী নদী) চক পাড়া-চিনিরপটল-বীর হলদিয়া-বেড়া গ্রাম-গোবিন্দপুর-নলছিয়া হয়ে যমুনা নদীতে মিলিতো ছিলো।ওই নদীর উপরে হাসিলকান্দি মৌজার চকপাড়ার পুর্ব পাশে মুছার খেয়াঘাট, চিনিরপটল-চর হলদিয়া এরশাদের খেয়াঘাট, বীর হলদিয়া-চর হলদিয়া আবদুলের খেয়াঘাট, বেড়াগ্রামে ছামাদের খেয়াঘাটসহ গোবিন্দপুর ও নলছিয়ায় খেয়াঘাট ছিলো যাহা ইউনিয়ন পরিষদের ডাক এর মাধ্যমে চলতো। গত ৫/৭ বছর পুর্বে ওই সব এলাকা নদী ভাঙ্গনের শিকার হলে খেয়াঘাট গুলির বিলুপ্তি ঘটে। আর ওই খেয়া ঘাটের কথা সবাই জানে।
বর্তমানে ওই সব জায়গায় আবার নতুন চর জেগে উঠলে লোকজন বসবাস শুরু করে এবং স্থানীয়দের পারাপারের প্রয়োজনেই আবার খেয়াঘাটের সৃষ্টি হয়েছে। আর সেই সব স্থানের খেয়া ঘাট নিয়ে জেলা পরিষদের ইজারাদার বে আইনি ভাবে ওইসব খেয়াঘাটে নৌকা মালিকদের থেকে ৫০ হাজার থেকে-১ লাখ টাকা নিয়েছে। কেউ টাকা না দিতে চাইলে পুলিশ দ্বারা হয়রানি করছে।
স্থানীয়রা জানান, জেলা পরিষদের ইজারাদারের নৌকায় চড়লেই ১০/১৫ টাকা করে নিতো। ছাত্রদের থেকেও টাকা নিতো। গরু ছাগল পার করতেও আলাদা টাকা নিতো। জ্জ মাস তাদের অত্যাচার সয়ে অবশেষে সাঘাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সুইটের কাছে ভুক্তভোগিরা আবেদন করি। আবেদনের প্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান ঘাট ইজারার ব্যবস্থা করেন। আমাদের এলাকার জনগণের দুঃখ কষ্ট দেখে চেয়ারম্যান ইজারা পাওয়া ব্যাক্তিকে ছাত্রদের পারাপারে টাকা মওকুফসহ গরু ছাগল নিয়ে যে পার হবে তাকেও ৫ টাকায় পারাপারের ব্যবস্থা করেন।