সাঘাটা হাসপাতালের মারপিটে ভর্তি

রোগিদের ছাড়পত্র নিতে নার্সদের কাছে গুনতে হয় ২০ টাকা ও গর্ভবতী মায়েদের চেক করতে ৫০ টাকা !

সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন ঘটনায় মারপিটে জখমী রোগিরা প্রতিনিয়তই ভর্তি হচ্ছে। সেসব রোগিদের পুলিশ কেস করার জন্য ছাড়পত্র নিতে হয়। সেই ছাড়পত্র নিতে গেলে নার্সদের কাছে গুনতে হয় জনপ্রতি ২০ টাকা। টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে ছাড়পত্র নিতে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া গর্ভবতী মায়েদের চেক আপ করতে নার্সরা ৫০ টাকা করে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। আজ থেকে এক বছর পুর্বেও এসবের বালাই ছিলোনা। বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাসুদ পারভেজ আসার পর থেকে বিধি বহির্ভুত এ নিয়ম চালু করেছেন।বিষয়টি প্রতিরোধে সিভিল সার্জনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা।
একটি সুত্রে জানায়, সাঘাটা হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগির চেয়ে জখমী রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। জখমী রোগিদের পুলিশ কেস করার জন্য চিকিৎসা ছাড়পত্র নিতে হয়। এ সুযোগে ছাড়পত্র নিতে গেলেই এখন কাগজ নেই, ডাক্তার নেই বলে তালবাহানা করতে থাকে নার্সরা। আবার নার্সরা কেহ বলে আপনারা কয়জন। যদি বলে দুইজন। তখন বলে ৪০ টাকা দেন এবং এক ঘন্টা পরে আসেন। টাকা দিলে ছাড়পত্র একটু পরেই দিয়ে দেন। আবার কেহ টাকা দিতে তালবাহানা করলে তাকে ৩/৪ দিন পর্যন্ত ঘুরাতে থাকে। তখন বাধ্য হয়েই জন প্রতি ২০ টাকা বুঝে দিয়ে ছাড়পত্রও নেয়। একই ভাবে গর্ভবতী মায়েরা তাদের গর্ভের সন্তানদের ব্যাপারে চেক করতে তাদের থেকে ৫০ টাকা করে নেয়। এভাবেই সরকারি হাসপাতালের সেবা নিচ্ছে এলাকার জনগণ।
এব্যাপারে নাম প্রকাশে কয়েকজন নার্স বলেন, আমরা বেশ ভালো টাকা বেতন পাই, ২০ টাকা দিয়ে কি করবো। যখন সরকারি ছাড়পত্র থাকেনা তখন বলা হয় কম্পিউটার থেকে ছাড়পত্র বের করে আনেন অথবা ২০টাকা নেয় । তারা আরো জানান, গর্ভবর্তী মায়েদের প্রসবকালিন সময়ে কট ফ্লাম,ক্যানুলা ও স্যলাইন সেট কিনতে হয় তার জন্য ৫০টাকা নেয়া হয়। এসময় তারা ষ্টেশনারী হাসপাতাল থেকে পাননা বলেও জানান। সব নিজের থেকে কিনতে হয়। আরো অনেক কথা বলতেছিলো এসময় আরএমও আহসান হাবিব যেখানে নার্সদের সাথে কথা বলছিলাম সেখানে পৌছে এবং রাগের স্বরে বলেন আপনি এখানে থেকে এদের থেকে তথ্য নিবেন কেন ? আপনি জানেন কিনা প্রতিটি হাসপাতালে একজন তথ্য প্রদানকারি অফিসার আছেন, তিনি হলেন ইউএইচএন্ডএফপিপিও। সেখান থেকে আপনার তথ্য নিবেন। এই বলে তিনি সবার কথা বন্ধ করে দেন।
গত ৩১ আগষ্ট যোগেন্দ্রনাথ নামের একজন রোগি ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। বিষয়টি নিয়ে তার পরিবারের লোকজন চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন। আরএমও থেকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি ছিলামনা। ডাঃ আশিক মাওলা ছিলেন, আপনি তাকে জিজ্ঞাসা করেন। এসময় ডা: আশিক মাওলার মোবাইল নম্বর দেন তিনি।

চিকিৎসা নেয়া রোগিরা বলেন, ভর্তি হলেই নার্সরা তাদের হাতে একটি টোকেন ধরে দেন। ইনজেকশন ও পুশ করা স্যালাইন চিকিৎসক লিখলেই বাহিরে থেকে সিরিঞ্জ ও ক্যানোলা কিনে আনতে হয়।আউটসোসিং এর অনভিজ্ঞ লোক দ্বারা ইনজেকশন পুশ করে। কোন ইনজেকশন কোথায় করেন আল্লাই জানেন।
স্থানীয় অনেকেই বলেন, বর্তমান টিএইচও আসার পর থেকেই হাসপাতালটিতে সকল ক্ষেত্রে অনিয়মের রাম রাজত্ব শুরু হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অফিসে খাস কামড়া বানিয়ে রাত কাটানো, বাসা ভাড়ার রাজস্ব টাকা ফাঁকিসহ নানান অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও সিভিল সার্জন বিষয়টি নিয়ে কোন তদন্ত বা তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেনা। সবার একটাই প্রশ্ন টিএইচও এর খুটির জোর কোথায় ?