সাঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটডোরে নার্স দিয়ে চলছে মহিলা ও শিশুদের চিকিৎসা সেবা !

সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার শুন্যতায় দীর্ঘদিন ধরে নার্স দিয়ে আউটডোরে চলছে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা। দুর-দুরান্ত থেকে আসা মায়েরা তাদের সন্তানদের একজন মেডিকেল অফিসারের কাছে চিকিৎসা সেবা পাওয়ার আশায় আসলেও নার্সদের মাধ্যমে সেবা নিয়েই বাড়ি ফিরছে। তারা নার্সকেই মেডিকেল অফিসার ভেবে তাদের সন্তানদের চিকিৎসা সেবা নিয়ে যাচ্ছে। এভাবেই চিকিৎসা সেবায় প্রতারিত হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের সাধারন জনগণ।
২২ আগষ্ট সিভিল সার্জন এবিএম আবু হানিফ হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে কোনভাবেই নার্স দিয়ে চিকিৎসা সেবা দেয়া যাবেনা বলে গেলেও ২৬ আগষ্ট বেলা ১১টায় হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় জনৈক নার্স বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা মা ও শিশু রোগিদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। এসময় চিকিৎসা নিতে আসা মায়েদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, চর থেকে এসেছি হাসপাতালের বড় ডাক্তারের কাছে কোলের ছেলেটাকে চিকিৎসা দিতে। তেমনি আমদির পাড়ার একজন বলেন, গত কয়েক দিন ধরে আমার নাতিটার জ্বর ও কাশ। গ্রামের ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ খাওয়াইছি, তাতেও রোগ সারেনি। তাই বড় ডাক্তারে কাছে এসেছি। এছাড়াও ঘুড়িদহের জনৈক মা তার সন্তান শ্বাস কষ্টে ভুগছে তাকে চিকিৎসা করাতে এসেছে। তাদের বিশ্বাস যিনি তাদের সন্তানদের চিকিৎসা দিচ্ছেন তিনিই বড় ডাক্তার।
নার্সের সাথে কথা বলার পুর্বেই হাসপাতালে সাংবাদিক ঢুকেছে জানতে পেরে মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা: আহসান হাবিব ওই নার্সের রুমে প্রবেশ করেন।
এসময় আরএমও আহসান হাবিবের কাছে নার্স দিয়ে চিকিৎসা করানো/ দেয়া যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা জানেন, আমাদের হাসপাতালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তাসহ ৬ জন চিকিৎসক। তার মধ্যে আমরা ৫জন পালাক্রমে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি। তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন আউটডোরে কমপক্ষে ৪শতাধিক রোগি চিকিৎসা নিতে আসেন। দুইজন মেডিকেল অফিসার ও একজন সেকমো দিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগিদের চিকিৎসা দিতে আমরা হিমশিম খেয়ে বসি। তাই সাময়িক নার্স দিয়ে সাধারন রোগিগুলি দেখানো হচ্ছে। ওদের মধ্যে কেউ জটিল রোগে আক্রান্ত হলে সেই রোগিকে মেডিকেল অফিসারের কাছে পাঠানো হয়। তবে তিনি আশ্বাস দেন ৩ মাসের মধ্যেই এ সমস্যার সমাধান হবে।
নার্সের সাথে কথা বললে তিনি জানান, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ আমাকে যে কাজে লাগাবেন আমাকে সেই কাজেইতো করতে হবে। এর আগে কখনোও আপনার দ্বারা সাধারন মানুষের চিকিৎসা করানো হয়েছিলো কিনা জানাতে চাইলে তিনি মাথা নেড়ে না করেন।