গোপন কথা ফাসেঁর ক্ষোভে প্রত্যয়ন না দেয়ার আবারো হুমকি স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তার

 ন্যাশনাল সার্ভিসের অন্তর্ভুক্ত  সাঘাটা হাসপাতালের অধীনে কর্মরত ৩০৯ জন বেকার যুবদের ভাতার প্রত্যয়ন দেয়ার নামে নারকেল গাছের চারা বা ২০০ টাকা করে উত্তোলনে অফিস সহকারি জুলফিকারের নাম সংবাদপত্রে প্রকাশ্যে জড়ানোর ফলে সে প্রতিবাদ জানিয়েছে। সে জানায় আমার কোন স্বার্থ নিয়ে ওই টাকা উত্তোলন করিনাই। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা: মোঃ মাসুদ পারভেজ ১৬ জানুয়ারী ২০১৯ইং তারিখে স্বাক্ষরিত ৬৭/২(৪) নং স্মারকের নির্দেশেই উত্তোলন করা হয়েছে। এতে আমার কোন দোষ নেই।
চিঠির বিষয়ে দেখা যায়, ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচী অস্থায়ী ’সহায়ক’ গণের মাসিক প্রত্যয়ন প্রসঙ্গেঁ। উপরোক্ত বিষয়ের প্রেক্ষিতে আপনাদের জানানো যাইতেছে যে,নিম্ন স্বাক্ষরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী গ্রহণ করেছেন। এর অংশ হিসেবে অত্র কার্যালয়ের আওতাধীন প্রত্যেক ন্যাশনাল সার্ভিসের কর্মরত সহায়কগণের কাছে থেকে একটি করে নারকেল গাছের চারা গ্রহণ পূর্বক মাসিক প্রত্যয়ন প্রেরণ করা হইবে। উল্লেখিত বিষয়ে সকল ন্যাশনাল সার্ভিসের কর্মরত সহায়কগণকে জানানোসহ প্রত্যয়ন সংগ্রহ করতে বলা হইলো। পত্রটির অনুলিপি উপজেলা নিবার্হী অফিসার ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি ও অফিস কপি রাখা হয়েছে দেখা যায়।
কি বৃক্ষরোপন কর্মসূচী পালন করেছে দেখতে গেলে দেখা যায়, হাসপাতালের পুরো বাউন্ডারি মিলে ২০টির মতো নারকেল চারা লাগানো হয়েছে। বাকী মাঠ আদা-হলুদের গাছ ও ঝোপঝাড়ে ভর্তি।
সচেতন মহল বিষয়টি নিয়ে দু:খ প্রকাশ করে বলেন, যারা মাসে ৪ হাজার টাকা ভাতা পায়। শুধুমাত্র তাদের (ন্যাশনাল সার্ভিসের যুবদের) টাকা নিয়ে বা চারা নিয়ে কেন বৃক্ষরোপন কর্মসূচী গ্রহণ সত্যিই হাস্যকর। অথচ হাসপাতালের ৩ শতাধিক কর্মকর্তা কর্মচারি থাকলেও তাদের থেকে বৃক্ষ রোপনের জন্য কোন অর্থ গ্রহণ করেনি। যত অত্যাচার বেকার অসহায়দের ওপর। তারা আরো বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তার এটা একটি টাকা উত্তোলন করে আত্নসাতের ফাঁদ। ৩০৯টি চারা হাসপাতালে নেই। বিষয়টির আসলেই তদন্ত প্রয়োজন।
সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চারা গাছের নামে টাকা উত্তোলন গোপন সংবাদটি প্রচার হলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ন্যাশনাল সার্ভিসের কর্মরত সহায়কগণের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের প্রত্যয়ন দিবেনা মর্মে বিভিন্ন জনকে হুমকি প্রদর্শন করেছে। এঘটনায় কর্মরত যুবদের মাঝে মানসিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এব্যাপারে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীর যুবদের সাঘাটা উপজেলা সভাপতি সেলিম আহম্মেদ এ প্রতিনিধিকে ফোনে জানান, ২৫ আগষ্ট বেলা ২টায় কয়েকজন যুবক হাসপাতালে তাদের প্রত্যয়ন নিতে এলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা তাদের ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাই তিনি বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় আছেন।
এব্যাপারে উপ-পরিচালক যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর গাইবান্ধা ও সাঘাটা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বরত অফিসার তোফায়েল আহম্মেদ খান এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তার ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচী অস্থায়ী ’সহায়ক’ গণের মাসিক প্রত্যয়ন প্রসঙ্গে কোন চিঠি আমাদের কাছে পৌঁছেনি বা নেই। তিনি আরো বলেন, ন্যাশনাল সার্ভিসের যুবদের প্রত্যযনের জন্য কোন প্রকার টাকা পয়সা বা গাছের চারা বা বৃক্ষরোপন কর্মসূচীতে কোন সুবিধা নেয়া বা দেয়া হবে তা আমাদের জানা নেই। এব্যাপারে আমরা কোন দায়ভার নিতে পারিনা।
এব্যাপারে ২৫ আগষ্ট বেলা ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা: মোঃ মাসুদ পারভেজ এর সাথে কথা বলার জন্য হাসপাতালে গেলে জানা যায়, তিনি এখনো অফিসে আসেননি। ঢাকায় গেছেন। তবে আজ যে কোন সময় আসতে পারে।

উল্লেখ্য, সাঘাটা উপজেলার ন্যাশনাল সার্ভিসের মাধ্যমে সাঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও ইপিআই এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে সহযোগিতা করা ৩০৯ জন কর্মরত যুবকদের ভাতার টাকা উত্তোলনের প্রত্যায়নপত্র আটকিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা প্রতিজনের থেকে নারকেল গাছের চারা বা কেনার নামে ২০০ টাকা করে তাদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোর করে নেয়ার অভিযোগ উঠে। হাসপাতালের বৃক্ষরোপনের কথা বলে যুবকদের থেকে কমপক্ষে ৬০ হাজার টাকা জোর করে তুলে নিলেও সে টাকা দীর্ঘদিনেও গাছের চারা না কিনে নিজের পকেটে রেখেেেছে। কেহ বলছে আত্নসাৎ করেছে। এনিয়ে যুবকদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগিরা জানান, হাসপাতালের বাউন্ডারির পাশে নারকেল চারা লাগানোর নামে যে টাকা নিয়েছে তা খুবই দু:খজনক। বেকার যুবদের অস্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সররকার আমাদের কাজ দিয়েছেন। সেই কাজের সামান্য ভাতার টাকার উপরে সবারই চোখ। অথচ যারা ওই হাসপাতালে সরকারি চাকুরি করে তাদের ব্যাপারে কারো কোন কথা নেই। তাদের কোন টাকা কর্তন করেনি।