লালটু কারো থেকে টাকা পয়সা ধার নিয়ে থাকলে আমি পরিশোধ করবো যোগীপাড়া ঈদগাহ মাঠে লালটুর জানাজায় ওসি মোস্তাফিজার রহমান

আবু তাহের ঃ ৯ আগষ্ট শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১ টায় সাঘাটা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অজ্ঞাত ঠিকানাবিহীন লালটুর মৃত্যুবরণ করে। পরদিন ১০ আগষ্ট সকালে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে যোগীপাড়া গ্রামের পুর্ব পরিচিত লায়ন নামের শুভাক্ঙ্খী তার মরদেহ দাফনের জন্য সাঘাটা থানার ওসির কাছে আবেদন করেন। ওসি অনুমতি দিলে তার মরদেহ যোগিপাড়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকাল সাড়ে পাঁচটায় ঈদগাহ মাঠে জানাজা ও দাফন কাজে সহায়তার জন্য সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান সেখানে ছিলেন।
যোগিপাড়া ঈদগাহ মাঠে জানাজার জন্য লোকজন দাঁড়াইলে শোকাহত ওসি মোস্তাফিজার রহমান লালটুর মরদেহের পাশে দাড়িয়ে তিনি অশ্র ভরা নয়নে ভারাক্রান্ত সুরে নিজেকে ওর অভিভাবক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, আমি আমার সাধ্যমত তার সেবা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পারলাম না তাকে বাঁচাতে পারলাম না। এই বলে মনকে সান্তনা দিচ্ছি মানুষ মাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।
আজ লালটু কাল বা পরশু আমাদেরকেও এই স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। তার পরেও জীবন চলার পথে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়। এসময়ে আমার লোভে বা হিংসায়, বুঝে বা না বুঝে কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকি। অহঙ্কার করি। লালটু আপনাদের বাড়িতে, আপনাদের সাথে দীর্ঘদিন চলাফেরা করেছে। পাগল মনে তার চলা ফেরায় ব্যবহারে কারো মনে কোন কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তা নিজগুনে ক্ষমা করবেন। আমি তার হয়ে আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইছি। এসময় তিনবার একই কথা বলে সবার থেকে লালটুর হয়ে ক্ষমা নেন। সবাই এক বাক্য লালটুকে ক্ষমা করে দেন। লালটু কারো কাছে থেকে কিছু টাকা বা পয়সা ধার বা দেনা করে থাকলে তা আমি পরিশোধ করতে ইচ্ছুক। একজন ঠিকানাবিহীন মানুষের হয়ে ওসির এসব কথা শুনে জানাজায় উপস্থিত মানুষগুলো চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলোনা। পরে তার জানাজা সম্পূর্ন করে লায়ন নামের এক যুবকদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করানো হয়। জানাজায় অংশগ্রহনকারি লোকজন বলাবলি করতে থাকেন, আপন জন হারালেও এতো কষ্ট পাইনা। যতটা ওসি স্যার পেয়েছে। সবাই তার মঙ্গল কামনা করেন।
উল্লেখ্য, ৩ আগষ্ট সাঘাটার সোনালী ব্যাংকের নিচে থেকে সংজ্ঞাহীন অজ্ঞাত ঠিকানাবিহীন লালটুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সাঘাটা হাসপাতালে ভর্তি করালেও দীর্ঘ এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ আগষ্ট দিবাগত রাতে হাসপাতালের বারান্ধায় মৃত্যুর কাছে হার মানতে হয় তাকে।