আমরাতো প্রায়ই মাংস খাই কিন্তু দরিদ্র পরিবারের মানুষগুলো ঈদের দিনেও খাইতে পারবেনা ! -ওসি মোস্তাফিজার রহমান

পবিত্র ঈদ উল আজহা উপলক্ষে সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান বাড়িতে যাবার ছুটি না পাওয়ায় তিনি থানার তার সাথে থাকা অফিসার ও কনেস্টবলদের নিয়ে দুটি গরু কোরবানি দিয়েছে। ওই কোরবানির মাংস তিন ভাগে বিভক্ত করে সকল সহকর্মীর ও আত্নীয় স্বজনের প্রাপ্তভাগ সাঘাটার আশেপাশের কোরবানি দিতে পারেনাই এমন ৩ শত পরিবার ও সাঘাটা ফয়েজিয়া এতিমখানার শিশুদের মাঝে নিজ হাতে তুলে দিয়েছে।
এব্যাপারে ওসি মোস্তাফিজার রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি প্রায় বছর খানেক হলো সাঘাটা থানায় এসেছি। এসেই দেখলাম এই এলাকার লোক দরিদ্র। কল কারখানা বা কর্মের ভালো ব্যবস্থা না থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে তাদের দিন চালানোই কষ্টের। তারপর এবছর বন্যা। বন্যায়তো রাস্তা ঘাট, বাড়িঘর ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির ধকল কাটতেই অনেকের অনেক সময় লাগবে। এসব কারনে আমার ধারনা হয় অনেক পরিবারেই কোরবানি দিতে পারবেনা। বেশিরভাগ পরিবারে কোরবানি দিতে না পারলে হত দরিদ্র পরিবারেরা ঈদের দিনে মাংস পাবে কোথায় ? সেই ভাবনা থেকেই আমি ও আমার সহকর্মী অফিসার ও কনেষ্টবলদের নিয়ে দুটি গরু কোরবানির ব্যবস্থা করেছি। যাতে দুই ভাগের মাংস থানার আশে পাশের লোকদের মাঝে বন্টন করতে পারি। তাছাড়া আমি ও সহকর্মীরা প্রায়ই মাংস খাই কিন্তু দরিদ্র পরিবারের মানুষগুলো ঈদের দিনেও খাইতে পারবেনা ! এটা কেমন হয়। আমি তো ছুটি পেলে বাড়ি যেতাম, সেখানেও কোরবানি দিতাম। আর সে মাংসতো আত্নীয় স্বজনদের মাঝে বন্টন করতাম। আমাদেরতো আত্নীয় স্বজন বলতে এখানে কেহ নেই। আশে পাশে যারা থাকেন তাদেরকেই আমি আত্নীয় বা আপনজন মনে করি। আমি মনে করি যাদের সেবা করার পর আমাদের বেতন হয় আর সেই বেতনের টাকায় আমাদের পরিবার পরিজনের রিজিক হয়। সেই সাধারন জনগণের ট্যাক্সের টাকার বেতন তুলে আমরা মাংস খাবো আর তারাই ঈদের দিনে মাংস না খেয়ে থাকবে, তা কি করে হয়। আর এই ক্ষুদ্র উপলদ্ধি থেকেই আমি এই কাজ করেছি।
তিনি আরো বলেন, আপনারা আমাদেরকে (পুলিশকে) কি মনে করেন জানিনা। সরকারের দেয়া দায়িত্ব পালন বা শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের সেবার ক্ষেত্রে অনেক সময় আমাদের কঠোর হতে হয়। সেই দায়িত্ব বা কঠোরতাকে আপনারা অনেকেই নেগেটিভ দেখেন। কিন্তু আমরাতোও মানুষ। আমাদেরতো মন আছে, ভালোবাসা আছে। আমারও এই বাংলাদেশের মাটিতে জন্ম গ্রহণ করেছি। আপনাদের মতো আমাদের বাবা মা ভাই বোন আত্নীয় স্বজন আছে। তাই বলি আপনারা আমাদের পুলিশ না ভেবে জনতা বা মানুষ ভাবুন। আইন শৃঙ্খলা ভালো রাখতে আমাদের সহায়তা করুন। অপরাধকে ঘৃণা করুন। দেখবেন আমাদের সমন্ধে আপনাদের ভুল ধারনা দুর হবে।
তিনি আরো বলেন, আপনারা জানেন, আপনাদের গাইবান্ধা পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান (আমার স্যার) সম্প্রতি পুলিশে লোক নেয়ার সময় মাত্র ১০০ টাকা খরচ করে আপনাদের সন্তানদের চাকুরি দেয়ার কথা বলেছিলো এবং দিয়েছে। এটাও কি সত্যি নয়। তাই বলবো পুলিশ নয়, আমাদের মানুষ ভাবুন, আপনাদের সন্তান ভাবুন। যেহেতু আমরা মানুষ তাই ভুলের উর্দ্ধে নই। আমাদের দোষ ত্রুটি থাকতে পারে। তাই বলবো ভয় নয়, ঘৃণা নয়, আমাদের সহযোগিতা করুন, ভালবাসুন।
অজ্ঞাত পরিচয়বিহীন সংজ্ঞাহীন লালটুকে বাঁচানোর জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়ার পর আবার দরিদ্র অসহায় মানুষদের কথা চিন্তা করে কুরবানির মাংসের নিজেদের ও আত্নীয় স্বজনের ভাগসহ সাঘাটার আশে পাশের দরিদ্র ,অসহায় (কুরবানি করতে পারেনি এমন সব) মানুষের মাঝে বন্টন করে দেয়ায় সচেতন মহলে আরেকবার প্রশংসার ঝড় তুলেছে ওসি মোস্তাফিজার রহমান।