৫০ শয্যায় উন্নীত না করায় জনমনে অসন্তোষ

সাঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক শুন্যতায় জনগণ চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত !

সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৩ লক্ষাধিক মানুষের জন্য ৩১ শয্যা হাসপাতালের ১৯ জন চিকিৎসকের স্থলে টিএইচএ সহ ৬জন থাকলেও ৫ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে নামে মাত্র চিকিৎসা সেবা। মেডিকেল অফিসার বা জুনিয়র কনসালটেন্ট পদগুলি শুন্য থাকায় যে ৫ জন চিকিৎসক দায়িত্বে রয়েছেন তারা প্রতি সপ্তাহে পালাক্রমে একটানা একজন ২৪-৩৬ ঘন্টা করে ডিউটি করছে। ফলে ১জনের বেশি চিকিৎসককে হাসপাতালে পাওয়া যায়না। ফলে চিকিৎসা নিতে রোগিরা চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হচ্ছে। টিএইচএ প্রশাসনিক কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তিনি চিকিৎসা সেবা দিতে পারেননা বলেও জানা গেছে।
হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে ৪০ জন ভর্তিকৃত রোগি ছাড়াও দুরদুরান্ত থেকে বহিঃ বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ৫-৭ শতাধিক রোগি চিকিৎসা নিতে আসে। মেডিকেল অফিসার বা জুনিয়র কনসালটেন্টদের কাছে চিকিৎসা সেবা নেয়ার জন্য আসলেও ওই সব রোগিদের ভাগ্যে সেকমোদের (ইউএসসি) চিকিৎসার বেশি জুটছেনা। তবে তাদের আবার বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রতিদিন দেখা মিলে বলে ভুক্তভোগি একাধিক সুত্রে জানা গেছে।

চিকিৎসক শুন্যতায় উপজেলার দুর দুরান্তে থেকে দরিদ্র পরিবারের রোগিরা বিনামুল্যে সরকারি চিকিৎসা নিতে এসে ভালো কোন চিকিৎসকের চিকিৎসা সেবা না পেয়ে বিমুখ হয়ে ফিরে যাচ্ছে। নিরুপায় হয়ে সুস্থতার জন্য ঘটি-বাটি, জমি-জমা, গরু-ছাগল বিক্রি করে টাকা ব্যয় করে কোন না কোন ক্লিনিকে চিকিৎসা করানোর ফলে জনমনে জনপ্রতিনিধিদের ওপর অসন্তোষ দিন দিন বাড়ছে।

উপজেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার সুযোগে বেসরকারি ক্লিনিক ব্যবস্যা জমজমাট ভাবে চলছে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট থাকলেও ক্লিনিকে চিকিৎসক সংকট নেই বলেও জানা গেছে।

উপজেলার একমাত্র সরকারি ৩১ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ১জন ডেন্টাল সার্জন, মেডিকেল অফিসার দুই জন ও দুইজন সহকারি সার্জন (ইউএসসি) চিকিৎসক দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা। জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী এন্ড অবস), জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী), জুনিয়র কনসালটেন্ট(এ্যানেচঃ) ও সহকারি সার্জন ১০ জনের স্থলে ৮ জন চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শুন্য রয়েছে। ১৩ জন নার্সের স্থলে ১২জন নার্স থাকলেও ২ জন আবার সাদুল্লাপুরে হাসপাতালে প্রেষনে রয়েছেন। চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ পদ গুলো শুন্য থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগিরা বিমুখ হয়ে ফিরে যাচ্ছে বলে প্রতিদিন একাধিক অভিযোগ রয়েেেছ।
এমটি (ল্যাব) পদে জেসমিন নামে একজন ও এমটি(রেডিও) পদে অণিতা নামে একজন থাকলেও তারা উচ্চতর শিক্ষার জন্য ৪ বছরের জন্য প্রশিক্ষনে চলে গেছে। ফলে ল্যাব ও রেডিও থাকলেও তা জনগণের কোন কাজেই আসেনা। সেগুলো মেশিনপত্র চালুর পুর্বেই নষ্ট হয়ে রয়েছে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে সকল পরীক্ষা নিরীক্ষা বাহিরে ডায়োগনেষ্টিক সেন্টারে বেশি টাকা দিয়ে করতে হচ্ছে।
আছমা , মালেকা , বানু, নবির হোসেন, নামের চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন বলেন, অনেক আশা নিয়ে সরকারি চিকিৎসা নেয়ার জন্য আসছিলাম, এসে দেখি এক্সরে মেশিন নষ্ট, ডাক্তার নাই, ওষুধ নাই। শুধু নেই আর নেই। আবার কেউ জানালেন, আমি এসে ডাক্তারকে রোগের কথা বলতেই আমার শরীরে হাত না বুলিয়েই একটি ছোট্ট টোকেনে কয়েকটি পরীক্ষা লিখে দিয়ে বললেন যাও এগুলো করে নিয়ে আসো। আমি ৮শত টাকা খরচ করে রক্ত পরীক্ষা করে রিপোর্টে নিয়ে গেলাম সেখানে দেখা গেলো সব নরমাল। পরে তিনি কয়েকটি ট্যাবলেট লিখে দিলেন।
হাসপাতালটিতে সহকারি নার্স ১ জন, ফার্মাসিষ্ট ১ জন, স্যাকমো ইউএইচসি ১ জন, স্যাকমো ইউএসসি ৭জন, ষ্টোর কিপার ১জন, সহকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক ৯ জনের ৮ জন রয়েছে তারমধ্যে ২ জন আউয়াল ও আওরঙ্গজেব কুড়িগ্রামে প্রেষণে, স্বাস্থ্য সহকারি ৯ জন, নৈশ প্রহরী ২ জন, আয়া ১ জন, মশালচি ১ জন, এমএলএসএস ১ জন, পরিচ্ছন্ন কর্মী ২ জন এবং ওয়ার্ডবয় ১ জনের পদ শুন্য রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানায়, দুর দুরান্তের প্রতিদিন কমপক্ষে ৫শতাধিক মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে। চিকিৎসক সংকটের কারনে তাদের অর্ধেক মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে ফিরে যায়। এছাড়াও হাসপাতালের ভর্তিকৃত রোগি প্রতিদিন গড়ে ৪০-৪২ জন হলে ১০/১২ জনকে বারান্ধায় শুয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। সেই সাথে ৩১ জনের ভাগ্যে খাবার জোটে বাকিরা কোন খাদ্য পায়না। কারন ৩১ শয্যার হাসপাতালে ৩১ জনেরই খাদ্য বরাদ্ধ হয়ে থাকে তার বেশি রোগি হলে তাদের নিজে থেকে খেতে হয়।
সাঘাটা হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্ধোধনের দীর্ঘদিন পরেও জনবল না দেয়ায় চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগি জনমনে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এব্যাপারে টিএইচএ ডা, মাসুদ পারভেজের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি অফিসের কাজে গাইবান্ধা গেছেন বলে জানা যায়। পরে তার সাথে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।