সংজ্ঞাহীন অসুস্থ ব্যাক্তিটির চিকিৎসা সহায়তা ডিউটির মধ্যেই পড়ে -ওসি মোস্তাফিজার রহমান

 সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান ঠিকানাবিহীন একজন মানষিক অসুস্থ মুমূর্ষ ব্যাক্তিকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় সাঘাটার সোনালী ব্যাংকের নীচে থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসা করানোর দায়িত্ব নেয়ার ফলে ওই মানবিক/মানবতার বিষয় নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকা ও সামাজিক ফেসবুকের মাধ্যমে ভাইরাল হলে সব মহলেই প্রশংসার ঝড় উঠেছে। ওই ঘটনায় শত শত মানুষ ওসিকে ধন্যবাদ, অভিনন্দন ও মানবিক এবং মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মর্মে মন্তব্য করা অব্যাহত রেখেছেন। সাধারন মানুষ পুলিশকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নেগেটিভ মন্তব্য করলেও ওই ঘটনায় অফিসার ইনচার্জ কে নিয়ে পজেটিভ প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। একারনে বর্তমান বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সুনাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সচেতন মহল জানিয়েছে।
শুধু সাধারন মানুষ নয় পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ আইজিপি, ডিআইজি, গাইবান্ধা পুলিশ সুপার ও তার সহকর্মীরা এবং বন্ধু বান্ধবেরা ফোনে তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে মানবিক কাজটি করার জন্য উৎসাহ যোগাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এব্যাপারে অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমাদের বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর অভিভাবক আইজিপি মহোদয়, ডিআইজি মহোদয়গণ এবং আমার কর্তব্যরত এলাকার পুলিশ সুপার মহোদয়ের সৎ, সাহসী ও মানবিক এবং মানবতার আদর্শ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। সমাজের সাধারন মানুষ আমাকে পুলিশ ভাবলেও আমি নিজেকে মানুষ ভাবি। আসলে আমি মানুষ হিসেবেই আরেকজন মানুষের বিপদে বা অসহায়ত্বে পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করেছি মাত্র। একারণে মানুষের ভালোবাসা বা প্রশংসা পাবো এজন্য এই কাজটি আমি করি নাই। ঠিকানাবিহীন লোকটি মারা গেলেতো আমাদেরই টানতে হতো। তাই বেঁচে থাকা সংজ্ঞাহীন অসুস্থ ব্যাক্তিটির চিকিৎসা সহায়তা দেয়াও আমার ডিউটির মধ্যেই পড়ে বলে আমি মনে করি।
তিনি বলেন, সাধারন মানুষ ভাবে পুলিশ শুধুই শাসন করার জন্য। বেশিরভাগ মানুষ তাই আমাদের দেখলেই কথা না বলে পাশ কাটিয়ে যাবার বা থাকার চেষ্টা করে।এতে আমি খুবই কষ্ট পাই। তাই আপনাদের মাধ্যমে জানাতে চাই, পুলিশ বাহিনী মানুষকে শাসন করার জন্য নয় তাদের দায়িত্ব মানুষের সেবা করা। আর আমিও পুলিশ হয়েই মানুষ হিসেবে মানুষের সেবা করতে চাই। এটাই আমার ডিউটি।এটাই আমার চাকুরি।
তিনি আরো বলেন, সমাজের সাধারন মানুষ হয়তো জানেনা, তাদের কষ্টে উপার্জিত ট্যাক্সের টাকাই আমাদের বেতন হয়। আর যাদের টাকায় আমার সংসার চলে, তাদেরতো আমি সেবা ও সম্মান দুটোই করবো। আর যদি সেটা কেউ না করি তাহলে নিজের রিজিকের সাথে বেঈমানী করা হবে।
সবশেষে তিনি বলেন, আমার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সমাজের কিছু লোকের পুলিশ সম্র্পকে যে নেগেটিভ ধারনাকে পজেটিভ ধারনায় পরিবর্তন করতে পেরেছি এটাই আমার বড় পাওয়া। তারপরেও যারা আমার ডিউটিকে সম্মান জানিয়েছে, আমি তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। এবং বলি আসুন দূণীতি, মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই ও গুজব রটানো এবং গুজবকে বিশ্বাস করা থেকে বিরত থাকি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে চলি, আর সবাই মিলে সোনার বাংলা গড়ি।
উল্লেখ্য , এক সপ্তাহ ধরে অসুস্থ হয়ে একজন মানসিক রোগী সাঘাটা বাজারের সোনালী ব্যাংক এর নীচে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিলো। আশে পাশে সব সময় শত শত লোক থাকলেও তাকে খাওযানো বা চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাবার কেহ ছিলোনা। তার পায়খানার দুগর্ন্ধে আশে পাশের দোকানীরা দোকান বন্ধ করে রেখেছিলো। অধার্হারে-অনাহারেই কাটছে তার কয়েকদিন। খাবার জোটাতে ও খাইতে না পারায় শরীরে জোর না থাকায় উঠতে বসতে পারেনি। ওষুধপত্র জোটেনি তার ভাগ্যে। সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় অনেকেই ভেবেছে লোকটি মারা গেছে। তার মৃত্যুর খবর প্রচার হতে থাকে।
৩ আগষ্ট খবর পেয়ে সকল দুর্গন্ধকে উপেক্ষা করে অফিসার ইনচার্জ প্রাথমিক ভাবে পরীক্ষা করে দেখেন লোকটি মারা যায়নি বেচেঁ আছে। তিনি জরুরীভাবে ময়লা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কর্মীকে ডেকে এনে প্রথমে ওই স্থানের প্রসাব পায়খানা পরিষ্কার ও তার গোসলের ব্যবস্থা করেন। পরে ভ্যান যোগে সাঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান। চিকিৎসায় বর্তমানে তার শারিরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
লোকটি এখন কথা বলতে পারে, নাম বলেন লালটু, পিতা আজগর আলী, গ্রাম, পোঃ, থানা ও জেলা বলতে শুধুই আমতলি বলে। মুখে খাবার তুলে খাইতে পারে। চিকিৎসক বলেছেন, পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগবে।