ফলোআপঃ

সাঘাটা থানা অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান আবার মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে বেচেঁ যাওয়া চিকিৎসাধীন অসহায় মানব লালটুর পাশে !

পরিবারের মানুষের সেবা,অসুখে চিকিৎসা ও খাদ্য অভাবে অর্ধাহারে অনাহারে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ভাগ্যের জোরে সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জের সুদৃষ্টিতে যমের দুয়ার হতে ফিরে আসা ঠিকানাবিহীন অসহায় মানবকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ আগষ্ট রবিবার সকালে আবার দেখতে ছুটে গেলেন ওসি মোস্তাফিজার রহমান। এসময় তার সাথে ছিলেন থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সাহাদত হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাঘাটা উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং সভাপতি আব্দুল মান্নান মন্ডল এবং সাঘাটা প্রেসক্লাব সাধারন সম্পাদক আবু তাহের।
এসময় ওসি সাঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিসক আরএমও আহসান হাবিবের সাথে প্রথমে সাক্ষাৎ করে রোগির খোঁজ খবর নেন। ওসি রোগীকে সুস্থ করতে যেখানে যাওয়া লাগবে সেখানেই যেতে চাইলে মেডিকেল অফিসার আহসান হাবিব জানান, শুরুতে আশংকাজনক অবস্থায় পেয়েছিলাম। একদিন পরে আনলে হয়তো তাকে বাঁচানো সম্ভব হতোনা। তবে পুর্বের চেয়ে এখন তার শারিরিক অবস্থা অনেকটা ভালো। আশা করি এখানেই কয়েকদিনের মধ্যে সুস্থ করে তুলতে পারবো। একটু একটু কথা বলতে পারছে। চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে আমরা ত্রুটি করিনাই। চিকিৎসক বলেন, লালটু মানসিক রেগি, এছাড়া ভালো মানের খাবার খাইতে না পেরে অপুষ্টিজনিত, ও বর্তমানে কোথাও পঁচাবাসি খাবার খাবার কারনে ডায়োরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। আবার যেখানে সেখানে শোবার কারনে শরীরের নিম্নাংশে খোস-পাচড়া রোগেও আক্রান্ত হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগিরা বলেন, লালটু বার বার মল ত্যগ করে, মলের দুর্গন্ধে হাসপাতালে থাকা খুবই কষ্টের হয়ে দাড়িয়েছে। একথা শোনা মাত্রই ওসি একজন সুইপার (পরিচ্ছন্ন কর্মী)কে ডেকে লালটুর শরীর সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য অনুরোধ করেন। এজন্য তাকে সম্মানী দিবেন বলেও চুক্তি করেন। এসময় পরিচ্ছন্ন কর্মী লালটুকে গোসল করিয়ে দেয়।
ঠিকানাবিহীন অসহায় মানবের সেবা ও শুশ্রয্যা করে সুস্থ করার চেষ্টায় এলাকায় সচেতন ও সাধারন মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। এতে করে পুলিশের প্রতি সাধারন মানুষের আস্থা আরেকধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। সেবাই পুলিশের ধর্ম সেটা ওসি মোস্তাফিজার রহমান বাস্তবে আরেকবার প্রমাণ করে দিয়েছে।
চায়ের দোকান থেকে ফেসবুকের বিভিন্ন পেজে ,দৈনিক আজকের জনগণ ও আমাদের বাংলার সংবাদ, এবং রংপুরের কন্ঠ অনলাইন পত্রিকাসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সাঘাটা থানা পুলিশের মানবিক-মানবতার দৃষ্টান্ত প্রচার হচ্ছে। অনেকই ওসিকে সেলুট,অভিভন্দনসহ মানবতার জয়ের পতাকার কান্ডারী হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
সাঘাটা বাজারস্থ সোনালী ব্যাংকের নীচে থেকে সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জের সুদৃষ্টিতে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তির নাম লালটু, পিতা আজগর আলী বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে। লালটুর সুচিকিৎসার জন্য তাকে সাঘাটা সরকারি হাসপাতালে থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সাহাদত হোসেন ও এসআই হাশেম ভর্তি করিয়ে চিকিৎসকদের সাথে সার্বক্ষনিক সহযোগিতা করছেন। এছাড়া ও বিভিন্ন স্থানে ফোন করে অসহায় মানবের পারিবারিক তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এসআই সাহাদত হোসেন।
উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহ ধরে অসুস্থ হয়ে একজন মানসিক রোগী সাঘাটা বাজারের সোনালী ব্যাংক এর নীচে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিলো। আশে পাশে সব সময় শত শত লোক থাকলেও তাকে খাওযানো বা চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাবার কেহ ছিলোনা। তার পায়খানার দুগর্ন্ধে আশে পাশের দোকানীরা দোকান বন্ধ করে রেখেছিলো। অধার্হারে-অনাহারেই কাটছে তার কয়েকদিন। খাবার জোটাতে ও খাইতে না পারায় শরীরে জোর না থাকায় উঠতে বসতে পারেনি। ওষুধপত্র জোটেনি তার ভাগ্যে। সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় অনেকেই ভেবেছে লোকটি মারা গেছে। তার মৃত্যুর খবর প্রচার হতে থাকে।
গত ৩ আগষ্ট খবর পেয়ে সকল দুর্গন্ধকে উপেক্ষা করে অফিসার ইনচার্জ প্রাথমিক ভাবে পরীক্ষা করে দেখেন লোকটি মারা যায়নি বেচেঁ আছে। তিনি জরুরীভাবে ময়লা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কর্মীকে ডেকে এনে প্রথমে ওই স্থানের প্রসাব পায়খানা পরিষ্কার ও তার গোসলের ব্যবস্থা করেন। পরে ভ্যান যোগে সাঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান।