রক্ত দিয়ে অন্যকে বাঁচাতে ছুটে চলছে এক ঝাঁক তরুন-তরুনী

জাতী-ধর্ম-বর্ণসহ সকল বিভেদ পিছনে ফেলে নিজের রক্ত দিয়ে অন্যকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মানব সেবায় আমরা’ এক ঝাঁক তরুণ-তরুণী ও যুবককর্মী।

রক্তের প্রয়োজনে যে কেই ফোন করণে তারা নিজেরাই রক্ত দিতে চলে যায় অথবা কাউকে রক্তদানে উৎসাহী করে রক্তের চাহিদা মিটিয়ে দেন। ২০১৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বর চিরিরবন্দর উপজেলার রাণীরবন্দরে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি প্রতিষ্ঠা করে মো. রশিদুল ইসলাম ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা মো. মহসিন আলী। বর্তমানে এ সংগঠনের সভাপতির দায়িত্বপালন করছেন মো. হাবিবুর রহমান হাবিব এবং সার্বিকভাবে পরিচালনা করছেন মো. আব্দুল্লাহ আল হাবিব।

প্রতিষ্টার পর থেকে ‘মানব সেবায় আমরা’ র প্রায় শতাধিক রক্তদাতা সদস্য রয়েছে। তারা দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, সৈয়দপুর, নীলফামারী, রংপুর, বগুড়া, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন। এ ছাড়াও ‘মানব সেবায় আমরা’র প্রায় ২ শতাধিক ভলান্টিয়ার রয়েছে। এর ডোনাররা কমপক্ষে ৮-১০ বার করে রক্তদান করেছেন। তারা শুধু রক্তদানই করছেন। তারা রক্তদানে বিভিন্ন জনকে উৎসাহীত ও বিনা পয়সায় রক্তের প্র“ফ নির্ণয়ও করে দেন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে এদের মধ্যে রক্তদানে অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ২৮ বছর বয়সী মো. রশিদুল ইসলাম। তিনি এ পর্যন্ত ২২ বার এ পজেটিভ রক্ত দিয়েছেন। সহ-প্রতিষ্ঠাতা মো. মহসিন আলী ১৯ বার ও পজেটিভ, সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান হাবিব ২১ বার ও পজেটিভ রক্ত দান করেছেন। এ ছাড়া সংগঠনের মো. মিরাজুল ইসলাম সোহাগ ২০ বার এ পজেটিভ, অন্যান্য সদস্যরাও কমপক্ষে ৭-৮ বার করে স্বচ্ছায় রক্তদান করেছেন।

সংগঠনের পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল হাবিব জানান, আমরা চাই আমাদের দেয়া রক্তে বেঁচে যাক মুমূর্ষ রোগীরা। তাদের এই বেঁচেঁ যাওয়াই আমাদের প্রাণে প্রশান্তি জোগায়। তবে আমাদের মতো সকলকে রক্তদানে এগিয়ে আসতে হবে। এ ছাড়াও কোনো প্রসূতি মায়ের জন্য রক্তদানের ক্ষেত্রে তার নিকটতম আত্মীয়দের এগিয়ে আসা উচিত।

সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, কারো সন্তান প্রসবের অন্তত দু’ মাস পূর্বে থেকে তার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্য থেকে ওই গ্র“পের রক্ত খেঁাজ করে বের করতে হবে। তাহলেই রক্তের অভাবে অকারণে কোনো মায়ের আর মৃত্যু ঝুঁকিতে পড়তে হবে না।

সর্বোপরি রক্তদানের এন মহৎ কাজে আমাদের সকলবে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই কেই আর রক্তের জন্য মৃত্যুবরণ করবে না। ছবি আছে।