ছুটে চলা এক তরুনের সফলতার গল্প

আসমাউল মুত্তাকিনঃ

মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না! এই গানটি আমরা অনেকেই শুনেছি। অনেকেই পথে চলতে চলতে গুন গুন করে গেয়ে বেড়াই। হয়তো এর মর্মকথা কখনো ভেবে দেখিনি। আসলেই তো মানুষ মানুষের জন্য। আমরা মানুষরা যদি মানুষের পাশে দাঁড়াতে না পারি তাহলে আমরা কিসের মানুষ?

এমন কথা ভাবতে গিয়ে আজ বলতে চাই মানবতার ডাকে ছুটে চলা স্বপ্নের ফেরিওয়ালা একজন তরুণের কথা। নাম তার খাদিমুল ইসলাম দিনার । মুখে হালকা দাড়ি। গোলগাল মুখ এবং সুন্দর একটি হাসি ধরে রেখেছেন তিনি। দেখা হলো ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসে। আইন নিয়ে অধ্যায়ন করছেন তিনি। খুব কম বয়সে তার একার উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বপ্নবাজ। দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে অর্থের অভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না, অর্থের অভাবে কোন মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এমন সংবাদ প্রতিদিন পত্রিকার পাতায় পাওয়া যায়। এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে কমবেশি অনেকেই এগিয়ে আসেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন স্বপ্নবাজ তরুণ খাদিমুল ইসলাম দিনার যার প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে একটি নাম স্বপ্নবাজ। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্বপ্নবাজের প্রতিনিধিরা তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ অভিযান। বঞ্চিত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র প্রদান, পথ শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ করে যাচ্ছেন তারা। স্বপ্নবাজের আয়োজনে ফ্রি মেডিকেল চেকআপ ও ফ্রি মেডিসিন এর ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব স্বপ্নবাজ-(ডাস) নামের স্বপ্নবাজের চিকিৎসা বিষয়ক নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্বে আছেন ডাঃ নওমি আফরিন। স্বপ্নবাজ ডাঃ নওমি আফরিন স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশের মানুষ চিকিৎসাহীনতায় যেন না থাকেন। স্বপ্নবাজে তরুনদের প্রেরণা দিচ্ছেন স্বপ্নবাজ এর চেয়ারম্যান মুরাদ হোসেন। স্বপ্নবাজ প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি খাদিমুল ইসলাম দিনার মনে করেন আজকের স্বপ্নবাজ এরকম ছিল না। স্বপ্নের পেছনে অনেক পরিশ্রম দিতে হয়েছে নিরলসভাবে। অনেকে অনেক রকম কথা বলেছেন। অনেকে হতাশ করেছে। অনেকে আশার আলো জাগিয়েছে। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। আজকে তাদের এই সমাজ সেবামূলক সংগঠন বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে, স্বপ্নবাজরা বিশ্বাস করে “আপনি এগিয়ে আসুন, পরিবর্তন আসবেই”।