শিল্পী মাহাফুজুর রহমানের স্বপ্ন

শুক্রবার ছুটির দিন।ছুটির দিন মানে কারো কাছে আনন্দ, ঘোরাঘুরি,বিনোদন আরো কত কি।আবার কারো কাছে নিজের পড়ালেখার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগের এর দিন হল এটি।এরকম একটি ছুটির দিন হলো ১৩ই সেপ্টেম্বর শুক্রবার।ছুটির দিনে ঢাকার বিনোদন কেন্দ্রেগুলোতে ভ্রমন পিপাসু মানুষদের ভিড় লেগে থাকে।শুধু বিনোদন কেন্দ্রেগুলোতে নয় পাশাপাশি সংসদভবন সহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানেগুলোতে মানুষের আনাগোনা একটু বেশি হয়।এরকম ছুটির দিনে সংসদের ভবনের দিকে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখা হলো এক প্রতিভাবান শিল্পী সাথে।কলম- খাতা দিয়ে কি যে একটা ছবি আকাঁ আঁকি করতেছেন তিনি।তার একটি পোস্টারে লেখা রয়েছে এরকম “আপনার ছবি আঁকি নিন চেহারা সম্পূর্ণ মিলিয়ে দেওয়া হবে।সরাসরি ছবি থেকে ছবি আঁকিয়ে দেয়া হয়।”এরকম পোস্ট দেখে আমার চোখটি আটঁকিয়ে গেল সেখানে।অধীর আগ্রহে তার সম্পর্কে জানাতে ইচ্ছা হলো আমার।

প্রতিভাবান শিল্পীর নাম মাহাফুজুর রহমান।তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য বিভাগে অধ্যয়ন করতেছেন।চেহারা দেখে ছবি আঁকতে পারেন তিনি।ছোটবেলা থেকে চিত্রাংকনের প্রতি তার এক অনন্য প্রতিভার সৃষ্টি হয়। তার বয়স যখন পাঁচ বছর,তখন থেকে তার চিত্র অংকন এর প্রতি এক অদম্য আগ্রহ সৃষ্টি।

ফরিদপুর জিলা স্কুলে পড়েন তিনি।ক্লাসের এর ফাঁকে ফাঁকে কাঠ পেন্সিল দিয়ে আঁকা আঁকি করতেন বিভিন্ন মানুষের ছবি সহ প্রাকৃতিক দৃশ্য আর কত কি।যাই সামনে পেতেন তাই আঁকতেন।ফরিদপুরের স্থানীয় একটি প্রদর্শনীতে তার ১০টি ছবি সিলেক্টেড হয়েছিল। প্রদর্শনী শেষে তিনি ফরিদপুর শিশু একাডেমিক পুরষ্কার পেয়েছিলেন। রাজেন্দ্র সরকারি কলেজে অধ্যয়নের সময় তিনি ফেবার কাস্টেল পুরষ্কার পান।

বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাশের ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন প্রদশর্নীতে এবং বিভিন্ন উৎসবে ছবি আঁকেন ও আলপনা আঁকেন।

মাহাফুজুর রহমানের চিত্র অংকন এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন,”আমি শুধু ভালোলাগা থেকে এই ছবি আঁকি কোনো রকম প্রশিক্ষণ ছাড়াই।তবে আমার ইচ্ছা আছে একদিন আমার ছবি দেশের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাইরের দেশও প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হবে।আমার ছবি দেখে যেন মানুষ আবারও বাংলাদেশকে খুজে পায়।
সরকারিভাবে অথবা ব্যক্তিগতভাবে কোনো সহযোগিতা পেলে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে বলে আশাবাদী হন তিনি।”