ফলোআপ,ফুলবাড়ীতে নব্বই দিনে ৩০ লাখ টাকার সেতু ভেঙে পড়ায় সরেজমিনে তদন্ত

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর পূর্ব ধনিরাম গ্রামে যাতায়াতের জন্য খুলে দেয়ার নব্বই দিনের মাথায় মাথায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু ভেঙে পড়া নিয়ে উপজেলা প্রশাসন তদন্ত শুরু করলেও তদন্তের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠনের চিঠিতেই সেতুটি জুলাইয়ের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে দাবী করা হয়েছে। অথচ সেতুটি ধবসে পড়েছে ১১ আগষ্ট। তাই এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্ত নিয়ে সন্দিহান।

উপজেলার পূর্ব ধনিরাম বাঘমারার আবাসনগামী রাস্তার খালের ওপর ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যরে সেতুটি নির্মাণ করে ফুলবাড়ী উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে ৩০ লক্ষ ৭৭ হাজার ৬শ ৫৬ টাকা ব্যয় হয়েছে সেতুটি নির্মাণে। কুড়িগ্রামের পুরাতন স্টেশন এলাকার এ,টি,এম দেলদার হোসেন টিটু নামের এক ঠিকাদার সেতুটি নির্মাণ করেন। টেন্ডারে বিলম্ব হওয়ায় সেতুর কাজ শুরু হয় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে। তাড়াহুড়া করে নির্মাণ শেষ করে গত ৫ জুন সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। গত ১১ আগষ্ট তা ধবসে যায়।

এ নিয়ে রংপুরের কন্ঠে  গত (১৮আগষ্ট) রিপোর্ট প্রকাশিত হলে (১৯ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির সদস্যরা তারা হলেন, উপজেলা প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল রাজিব (আহবায়ক), উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুস সালাম (সদস্য) এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপসহকারি প্রকৌশলী জীবন আহমেদ(সদস্য) ২০ আগস্ট দুপরে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করেন।
তবে তদন্ত কমিটি গঠনের চিঠিতেই রয়েছে পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য। উপজেলা র্নিবাহী অফিসার মোছা. মাছুমা আরেফিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে আরও বলা হয় ‘সরেজমিন পরির্দশন র্পূবক দেখা যায়, সাম্প্রতিক ১৯জুলাই মাসের বন্যায় সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই চিঠিতে সেতুটি কী কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তা অনুসন্ধানের কথা বলা হয়েছে। চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, ‘উক্ত কমিটি জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্থ সেতুটি পরির্দশন পূর্বক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সঠিক কারণ উল্লেখ পূর্বক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।’ তবে প্রতিবেদন দাখিলের কোনো সময় সীমা বেঁেধ দেওয়া হয়নি।

এ প্রসঙ্গে ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী অসিফ ইকবাল রাজিব বলেন, ‘কমিটির সদস্যদের নিয়ে গত ২০ আগষ্ট সরেজমিন সেতুটি পরিদর্শন করা হয়েছে। এখন ডিজাইন, ড্রয়িং নিয়ে পর্যালোচনা করে দ্রুত রির্পোট প্রদান করা হবে।

নি¤œ মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ও পরিমাণে কম রড ব্যবহার করে কাজ করায় এ্যাপার্টমেন্ট ওয়ালসহ সেতুটি ভেঙে পড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সবুজ কুমার গুপ্ত সঠিক ডিজাইন ও প্রাক্কলন অনুযায়ী সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করা এবং বন্যায় সেতুটি ধবসে পড়ার দাবী করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা আরেফিন জানান, ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে তারা তদন্ত করে রিপোর্ট দিলেই পরবর্তি পদক্ষেপ নেয়া হবে।