রাজশাহীতে কোরবানির মাংসের জমজমাট ব্যবসা

রাজশাহী নগরীতে কোরবানির মাংসের জমজমাট ব্যবসা হয়েছে এবার। কোরবানিদাতাদের নিকট থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন ভিক্ষুক ও দরিদ্র মানুষের নিকট থেকে কম দামে মাংস কিনে একশ্রেণীর মৌসুমী ব্যবসায়ী ভ্যানে করে বেশি দামে বিক্রি করেছেন সেই মাংস।

এদের একজন মহানগরীর শিরোইল কলোনি এলাকার সাজিদুল ইসলাম। ঈদের দিন বিকালে রাজশাহী রেলস্টেশনে ভ্যানে করে তিনি প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি করেছেন ৫০০ টাকা।

সাজিদুল ইসলাম জানান, পাড়া-মহল্লা থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন ভিক্ষুক ও দরিদ্র মানুষের কাছে থেকে তিনি মাংস কিনেছেন। এরপর তিনি ভ্যানে করে সেই মাংস বিক্রি করেছেন। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি প্রায় ৪০ কেজি মাংস বিক্রি করেন।

সাজিদুল ইসলাম আরও জানান, নগরীতে যারা অর্থের অভাবে অথবা সময়ের অভাবে কোরবানি দিতে পারেননি তারা ২ থেকে ৩ কেজি করে এসব মাংস কিনেছেন। এছাড়া নগরীর বড় হোটেল মালিকরাও এসব মাংস কিনে মজুত করে রেখেছেন। কোরবানির  কেনা মাংস দিয়ে তারা ঈদের পর এক থেকে দুই মাস হোটেল চালাবেন। এতে লাভও হয় বেশি।

শহর ঘুরে দেখা গেছে, রেলওয়ে স্টেশন, বাস টার্মিনাল, বিন্দুর মোড়, দড়িখড়বোনা, লক্ষ্মীপুর, হড়গ্রাম, সরকারি মহিলা কলেজের মোড়সহ নগরীর অধিকাংশ মোড়ে বসেছিল কোরবানির সংগ্রহ করা মাংসের বাজার। সেখানে আবার এক শ্রেণির ক্রেতা তাদের কাছ থেকে কম দামে কিনে নিয়ে মাংসের পসরা সাজিয়ে বসেন এবং চড়া দামে বিক্রি করেন। যেখানে গত বছর কোরবানির মৌসুমে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে তারা সংগৃহিত মাংস বিক্রি করেছেন, এবার গরুর মাংসের দাম চেয়েছেন ৫২০ টাকা আর খাসির মাংস ৮০০ থেকে সাড়ে ৮০০ টাকা।

ফলে প্রতি বছরের মতো এবারও কোরবানির সংগ্রহ করা মাংসের বাজার বসলেও দাম বেশি হওয়ায় ভিড় ছিল কম। কোরবানি শেষে সোমবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে এ মাংসের বাজার বসে। মহানগরের বিভিন্ন স্থান থেকে ভিক্ষুক ও খেটে খাওয়া মানুষ বাড়ি-বাড়ি গিয়ে মাংস সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন এ বাজারে।

সাজ্জাদ আলী নামের এক ব্যক্তি বলেন, প্রতি বছর এভাবে কোরবানির সংগ্রহ করা মাংসের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষ আর কিনতে আসবেন না। ঈদের একদিন আগে চাঁদ রাতেই বাজার থেকেই মানসম্পন্ন মাংস কিনবেন।