শোলাকিয়ায় দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত

দেশের ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ১৯২তম পবিত্র ঈদুল আজহার জামাত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত দেশের বৃহত্তম এই জামাতে ইমামতি করেন শহরের মারকাজ মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা হিফজুর রহমান খান।

১৭৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঈদগাহর ঐতিহ্য অনুসারে মুসল্লিদের প্রস্তুতির জন্য জামাত শুরুর ১৫ মিনিট আগে তিনটি, ১০ মিনিট আগে তিনটি এবং পাঁচ মিনিট আগে তিনটি শটগানের গুলি ছোঁড়া হয়।

দেশের সর্ববৃহৎ এই ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছিল তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিপুল সংখ্যক পুলিশ এবং এপিবিএন ছাড়াও দুই প্লাটুন বিজিবি ও র‌্যাব মোতায়েন ছিল। পুরো মাঠ নজরদারি নিয়ন্ত্রণে ছিল প্রশাসনের। বসানো হয়েছিল আর্চওয়ে, ওয়াচটাওয়ার ও তল্লাশি চৌকি। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে মুসল্লিদের তল্লাশি করে ঈদগাহে ঢুকতে দেওয়া হয়।

জামাত শুরুর আগে ঈদগাহ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী সমাগত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে শান্তিপূর্ণ ঈদ জামাত আয়োজনে সহযোগিতা করার জন্য ধন্যবাদ জানান। সেই সঙ্গে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। জেলা প্রশাসক ছাড়া পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ মুসল্লিদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।

জামাত শেষে মোনাজাতে ইমাম মাওলানা হিফজুর রহমান খান বিশ্ব মুসলিম উম্মার শান্তি ও সমৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশের নিরাপত্তা, শান্তি ও সমৃদ্ধ কামনা করেন। জীবিত মৃত সকলের নাজাত ও হেদায়েত কামনা করেন। পাশাপাশি পশু কুরবানি কবুল করার জন্যও সৃষ্টিকর্তার প্রতি প্রার্থনা জানান।

প্রায় পৌনে তিনশ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের জামাতে লাখ লাখ মুসল্লি অংশ নেন। তবে ঈদুল আজহার জামাতে কুরবানির আনুষ্ঠানিকতার কারণে ঈদুল ফিতরের তুলনায় মুসল্লির সংখ্যা কম হয়। এরপরও এবারের ঈদুল আজহার জামাতে বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন।

জামাত উপলক্ষে  ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করে। ট্রেন দুটির একটি ভৈরব থেকে এবং অপরটি ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে কিশোরগঞ্জ আসে এবং নামাজ শেষে মুসল্লিদের নিয়ে ভৈরব ও ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
জামাতে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো.জাকির হোসেন, প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আনম নৌশাদ খান, ডেপুটি সিভিল সার্জন মো. মুজিবুর রহমান, ঈদগাহ কমিটির সদস্য সচিব কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল কাদের ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সর্বস্তরের মুসল্লি অংশ নেন।