তাদের লক্ষ্য লাল ভালোবাসা বিতরণ করা

‘রক্ত’ পৃথিবীতে এমন একটি উপাদান যার কোনো বিকল্প এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করতে পারেননি। রক্তের বিকল্প কেবল রক্তই। বিনামূল্যে রক্ত প্রদানই পারে অপরিচিত একজন মানুষের সঙ্গে আত্মার বন্ধন তৈরি করতে।যেখানে কেউ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রক্তের প্রয়োজন অনুভব করে সেখানেই বেঁচে থাকার আলোকবর্তিকা হাতে ছুটে যান তারা। স্বেচ্ছায় রক্ত সংগ্রহ করে দিয়ে মুমূর্ষু রোগীদের প্রাণ বাঁচানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তারা। জি বলছিলাম ‘সফলতার মঞ্চ ব্লাড ডোনেট ফাউন্ডেশন’ – এর কথা।

“একের রক্ত অন্যের জীবন, রক্তই হোক আত্মার বন্ধন”এই স্লোগানে ২০১৬ সালের ৫ মে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে সফলতার মঞ্চ ব্লাড ডোনেট ফাউন্ডেশন । সংগঠনটির যাত্রা দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে শুরু হলেও বর্তমানে দিনাজপুর জেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জন্য রক্ত সংগ্রহ করেন।

সফলতার মঞ্চ ব্লাড ডোনেট ফাউন্ডেশন কার্যক্রম পরিচালিত হয় সদস্যদের চাঁদা ও শুভাকাক্সক্ষীদের আর্থিক অনুদানে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহায়তায় তারা মানুষকে রক্তদানে উৎসাহিত করে। তাছাড়া সরেজমিনও তাদের প্রচারণা চলে। বর্তমানে ফেসবুকে তাদের গ্রুপ মেম্বার ৩৮ হাজারেরও বেশি। দিনাজপুর জেলার প্রতিটি উপজেলা এবং প্রতিটি ইউনিয়নে তাদের সদস্য রয়েছে।বর্তমানে দেশের প্রতিটি জেলার সদস্য সংগ্রহ করতেছে।

দিনাজপুর জেলার অঞ্চলগুলোতে প্রতি মাসে ২-৩ বার বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পিং করা হয়। রক্তদানের পাশাপাশি সংগঠনটি দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়ভার বহন, বন্যাদুর্গতদের ত্রাণ বিতরণ, শীতার্তদের শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

স্বেচ্ছাসেবী এ সংগঠনটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সভাপতি এম.এ.কে জিলানী বলেন, “আমরা বাংলাদেশের সব জেলায় সফলতার মঞ্চ ব্লাড ডোনেট ফাউন্ডেশন এর কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাই। যাতে করে রক্তের জন্য কোনো মানুষের কষ্ট না হয়।”

সাধারণ সম্পাদক তানভির হোসেন বলেন, “মানব সেবাই হলো বড় সেবা,আমাদের সংগঠন থেকে সর্বদা চেষ্টা করি, অন্যের বিপদে পাশে দারানোর। আমরা আরও এগিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ সামনের দিকে এর জন্য সবার সহোযোগিতা ও দোয়া চাই।

এই সংগঠনটি অত্র এলাকার ভালো সুনাম কুড়িয়ে যাচ্ছে বলো জানান অনেকেই।