বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ ও শিশুদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বেরোবির গাইবান্ধা জেলা সমিতি

নাজমুল হুদা নিমু,
বেরোবি প্রতিনিধি,রংপুর :

দেশের উত্তরাঞ্চলে জেলা গাইবান্ধার বন্যা কবলিত অসহায় মানুষের দ্বারে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়(বেরোবি) এর গাইবান্ধা জেলার শিক্ষার্থীদের নিয়ে গড়ে উঠা সংগঠন গাইবান্ধা জেলা সমিতি । মানবতার সেবায় গাইবান্ধার বন্যা কবলিত মানুষের জন্য এগিয়ে আসে গাইবান্ধা জেলা সমিতির শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (২৭ জুলাই) বানভাসি মানুষদের ত্রাণ বিতরণের লক্ষে গাইবান্ধা জেলা সমিতি এর সভাপতি প্রভাত সাহা বর্ষন ও সাধারণ সম্পাদক এ.কে প্রামানিক পার্থের নেতৃত্বে ১৭ জনের একটি প্রতিনিধি দল দুপুর ১২টায় গাইবান্ধার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নং গেইট হতে যাত্রা শুরু করে।

সূত্র জানায়, প্রায় তিন শতাধিক বন্যাদুর্গত পরিবারকে ত্রাণ সহযোগিতা করা হয়। ত্রাণের প্যাকেটে ছিল চাল, ডাল, স্যালাইন, চিড়া, মুড়ি,গুড়, পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট,খাবার স্যালাইন । এইসময় প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয় । শিশুদের কে পড়াশুনায় উৎসাহিত করার লক্ষে তাদের মাঝে খাতা ও কলম প্রদান করা হয় ।

শনিবার (২৬ জুলাই) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেয় সংগঠনটি।
এই সময় ফুলছড়ি উপজেলার কোচখালি, মানিকচর, কেটকির হাট, বালাসী ঘাট ইত্যাদি অঞ্চলে ত্রাণ বিতরণ করে।

ত্রাণ পাওয়ার পর এক বন্যার্ত ব্যক্তি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘ রংপুর ভার্সিটির ছোল( ছেলে) গুলা হামার পাশে আসি দাঁড়াইছে, খুব খুশি হছি(হইছি)। তাদের জন্য হামরা মন ভরে দোয়া করি।’

সমিতির সভাপতি প্রভাত সাহা বলেন, ‘আমাদের সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে গঠিত হলেও নিজ জেলার মানুষের এমন দুঃসময়ে পাশে থাকতে পেরে ভাল লাগছে। শুধু আমরা কেন সারাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচিৎ বিপদে পড়া মানুষগুলোর সাথে থাকা। ”
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এ.কে প্রামানিক পার্থ বলেন,”মানব সেবা একটি ভালো কাজ ।
সংগঠনের প্রত্যেক সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তাদের সহযোগিতা ছাড়া কোনো কিছুই সম্ভব হতো না।’

ত্রাণবিতরণ দলে উপস্থিত ছিলেন জাহিদ হাসান জীবন,জাকিউল ইসলাম শুভ,সাজেদুল ইসলাম,লুবনা হক মিমি,আব্দুস সামাদ সাগর,শিহাব মন্ডল,জীবন,এরশাদ,রুবেল,সুরাইয়া,সানজিদা মিম,জেসমিন ,নাহিদ,এনামুল,রনি,রেদোয়ান,শ্যামলী প্রমুখ ।

উল্লেখ্য,গাইবান্ধা জেলার বন্যা পরিস্থিতি ধারণ করেছে ভয়াবহরূপ। ৪২৪টি গ্রামে পানিবন্দি রয়েছে জেলার প্রায় ছয় লক্ষাধিক মানুষ। গাইবান্ধা জেলার ১৮টি জায়গায় পাউবোর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় এবং তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ফলে জেলার সিংহভাগ অঞ্চল এখন পানির নিচে। বন্যার পানিতে ঘরছাড়া হয়েছে প্রায় ছয় লক্ষাধিক মানুষ।